Advertisement

জেনে নিন মাথা ও ঘাড়ের ক্যানসারের প্রাথমিক লক্ষণগুলো

এশিয়া পোস্ট ডেস্ক
জেনে নিন মাথা ও ঘাড়ের ক্যানসারের প্রাথমিক লক্ষণগুলো
ছবি : সংগৃহীত

মুখের ঘা, গলা ব্যথা বা কণ্ঠস্বর ভেঙে যাওয়া অনেক সময় সাধারণ সংক্রমণ বা মৌসুমি সমস্যার কারণে হতে পারে। তাই বেশির ভাগ মানুষ এসব লক্ষণকে গুরুত্ব দেন না। কিন্তু যদি এগুলো দুই থেকে তিন সপ্তাহের বেশি সময় ধরে থাকে, তাহলে বিষয়টি অবহেলা করা উচিত নয়।

বিশেষজ্ঞদের মতে, দীর্ঘদিন ধরে না সারা মুখের ঘা, গলায় গুটি, খাবার গিলতে কষ্ট বা কণ্ঠস্বরের পরিবর্তন মাথা ও ঘাড়ের ক্যানসারের প্রাথমিক লক্ষণ হতে পারে। শুরুতেই রোগ শনাক্ত করা গেলে চিকিৎসা অনেক বেশি কার্যকর হয়।

মাথা ও ঘাড়ের ক্যানসার কী?

মাথা ও ঘাড়ের ক্যানসার বলতে মুখ, ঠোঁট, জিহ্বা, মাড়ি, গলা, স্বরযন্ত্র, নাক, সাইনাস, লালাগ্রন্থি এবং আশপাশের অংশে হওয়া একাধিক ধরনের ক্যানসারকে বোঝায়।

ভারতসহ দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোতে তামাক, জর্দা, গুটখা ও সুপারি ব্যবহারের কারণে এ ধরনের ক্যানসারের হার তুলনামূলক বেশি। এছাড়া অতিরিক্ত মদ্যপান এবং হিউম্যান প্যাপিলোমা ভাইরাস বা এইচপিভি সংক্রমণও গুরুত্বপূর্ণ ঝুঁকির কারণ।

যেসব লক্ষণ অবহেলা করা উচিত নয়

মুখের ঘা দুই সপ্তাহেও না সারলে: মুখের ভেতরে ঘা বা ক্ষত যদি দুই সপ্তাহের বেশি সময় ধরে না সারে, তাহলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি। পাশাপাশি মুখে সাদা বা লাল দাগ, অকারণে দাঁত নড়ে যাওয়া কিংবা মুখের ভেতরে ফোলা ভাবও সতর্কতার লক্ষণ হতে পারে।

দীর্ঘদিন গলা ব্যথা: সাধারণ গলা ব্যথা কয়েক দিনের মধ্যেই ভালো হয়ে যায়। কিন্তু গলা ব্যথা যদি দীর্ঘদিন থাকে, খাবার গিলতে কষ্ট হয় বা এক পাশে ব্যথা অনুভূত হয়, তাহলে তা পরীক্ষা করিয়ে নেওয়া উচিত। অনেক সময় কানের ব্যথাও গলার ক্যানসারের লক্ষণ হতে পারে।

কণ্ঠস্বর বদলে যাওয়া: কণ্ঠস্বর ভেঙে যাওয়া বা কর্কশ হয়ে যাওয়া যদি তিন সপ্তাহের বেশি স্থায়ী হয়, তাহলে সেটি অবহেলা করা ঠিক নয়। এটি স্বরযন্ত্রের ক্যানসারের প্রাথমিক লক্ষণ হতে পারে। এর সঙ্গে দীর্ঘদিন কাশি বা শ্বাস নিতে কষ্টও থাকতে পারে।

গলায় গুটি: ব্যথাহীন গলার গুটি অনেক সময় ক্যানসারের প্রথম লক্ষণ হতে পারে। যদি গলার গুটি দুই থেকে তিন সপ্তাহের বেশি সময় থাকে, তাহলে দ্রুত চিকিৎসকের কাছে যেতে হবে।

অন্যান্য লক্ষণ

এ ছাড়াও নিচের লক্ষণগুলো দেখা দিলে সতর্ক হওয়া উচিত।

  • মুখে দীর্ঘদিন দুর্গন্ধ থাকা
  • মুখ বা মুখমণ্ডলে অবশ ভাব
  • নাক দিয়ে বারবার রক্ত পড়া
  • এক কানে কম শোনা বা বারবার সংক্রমণ হওয়া
  • অকারণে ওজন কমে যাওয়া
  • ক্ষুধামন্দা
  • দীর্ঘদিন ক্লান্তি অনুভব করা

কারা বেশি ঝুঁকিতে?

নিচের ব্যক্তিদের মধ্যে মাথা ও ঘাড়ের ক্যানসারের ঝুঁকি তুলনামূলক বেশি।

  • ধূমপায়ী
  • জর্দা, গুটখা বা ধোঁয়াবিহীন তামাক ব্যবহারকারী
  • সুপারি চিবানোর অভ্যাস আছে যাদের
  • অতিরিক্ত মদ্যপান করেন যারা
  • এইচপিভি সংক্রমণে আক্রান্ত ব্যক্তি
  • আগে মাথা ও ঘাড়ের ক্যানসারে আক্রান্ত হয়েছেন এমন রোগী

কখন চিকিৎসকের কাছে যাবেন?

বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ হলো, মুখ, গলা বা ঘাড়ের কোনো অস্বাভাবিক লক্ষণ যদি দুই থেকে তিন সপ্তাহের বেশি স্থায়ী হয়, তাহলে দেরি না করে চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে।

বিশেষ করে মুখের ঘা, গলায় গুটি, কণ্ঠস্বর পরিবর্তন, খাবার গিলতে কষ্ট বা শ্বাসকষ্ট দেখা দিলে দ্রুত পরীক্ষা করানো জরুরি। রোগ যত দ্রুত ধরা পড়বে, চিকিৎসার সফলতার সম্ভাবনাও তত বেশি হবে।

কীভাবে ঝুঁকি কমাবেন?

  • ধূমপান ও সব ধরনের তামাকজাত পণ্য পরিহার করুন।
  • সুপারি ও গুটখা খাওয়ার অভ্যাস ছাড়ুন।
  • অতিরিক্ত মদ্যপান থেকে বিরত থাকুন।
  • মুখের পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখুন।
  • এইচপিভি টিকা সম্পর্কে চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।
  • নিয়মিত দাঁত ও মুখের স্বাস্থ্য পরীক্ষা করান, বিশেষ করে ঝুঁকিপূর্ণ অভ্যাস থাকলে।

মাথা ও ঘাড়ের ক্যানসারের অনেক লক্ষণই শুরুতে সাধারণ সমস্যার মতো মনে হতে পারে। তাই অনেকেই চিকিৎসা নিতে দেরি করেন। কিন্তু মুখের ঘা, গলা ব্যথা, গলায় গুটি বা কণ্ঠস্বরের পরিবর্তনের মতো লক্ষণ যদি কয়েক সপ্তাহের বেশি স্থায়ী হয়, তাহলে সেটিকে হালকাভাবে নেওয়া উচিত নয়। সময়মতো পরীক্ষা ও চিকিৎসা শুরু করতে পারলে এই রোগের সফল চিকিৎসার সম্ভাবনা অনেকটাই বেড়ে যায়।

সূত্র: এনডিটিভি