হাসপাতালের ছাদ থেকে খসে পড়ছে পলেস্তারা, আতঙ্কে রোগী-স্বজনরা

এশিয়া পোস্ট নিউজ, চাঁদপুর
হাসপাতালের ছাদ থেকে খসে পড়ছে পলেস্তারা, আতঙ্কে রোগী-স্বজনরা
মতলব উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স। ছবি: সংগৃহীত

চাঁদপুরের মতলব দক্ষিণ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের কয়েকটি ভবনের ছাদে ফাটল দেখা দিয়েছে। প্রতিনিয়ত খসে পড়ছে ছাদের পলেস্তারা ও সুরকি। ফলে ভর্তি থাকা রোগী, বহির্বিভাগে আসা সাধারণ মানুষ এবং তাদের স্বজনদের মধ্যে চরম আতঙ্ক দেখা দিয়েছে। স্থানীয়দের আশঙ্কা, এই ঝুঁকিপূর্ণ ভবনগুলো দ্রুত সংস্কার করা না হলে যেকোনো সময় বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটতে পারে।

Advertisement

সরেজমিনে দেখা যায়, মতলব উত্তর ও মতলব দক্ষিণ উপজেলার শত শত সাধারণ মানুষ এই ৫০ শয্যার হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে আসেন। অথচ হাসপাতাল ভবনের প্রথম ও দ্বিতীয় তলার ছাদের বিভিন্ন স্থানে বড় বড় ফাটল তৈরি হয়েছে। ফলে শুধু রোগীরাই নন, দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে আতঙ্কে ভুগছেন হাসপাতালে কর্মরত চিকিৎসক, নার্স, কর্মকর্তা ও কর্মচারীরাও।

উপজেলার ইন্দুড়িয়া গ্রামের রহিমা বলেন, মেয়েকে নিয়ে দুদিন হাসপাতালে ভর্তি ছিলাম। দ্বিতীয় তলা থেকে নেমে মেয়ের ওষুধ আনার জন্য যখন বাইরে যাচ্ছিলাম, তখন প্রচণ্ড আতঙ্ক নিয়ে বারবার ছাদের দিকে তাকাচ্ছিলাম। দোতলা থেকে সিঁড়ি বেয়ে নামার পরই ছাদের ফাটল ধরা স্থান। মাঝেমধ্যেই সেখান থেকে সিমেন্ট-সুরকির বড় বড় অংশ খসে পড়ছে। এই পথ দিয়ে যাওয়ার সময় খুব ভয় লাগে। এভাবে হাসপাতালে থাকা যায় না।

চিকিৎসা নিতে আসা মিজানুর রহমান বলেন, হাসপাতালে মানুষ আসে সুস্থ হওয়ার জন্য, কিন্তু এখানে এসে আমাদের আতঙ্কে থাকতে হচ্ছে। কোন সময় যেন মাথার ওপর ছাদ ভেঙে পড়ে। হাসপাতালের অনেক জায়গায় ইতিমধ্যে পলেস্তারা খসে পড়েছে। এটি দ্রুত সংস্কার করার জোর দাবি জানাচ্ছি।

শাহনাজ বেগম নামে এক রোগীর অভিভাবক বলেন, এক ঘণ্টা ধরে চিকিৎসকের কক্ষের সামনে অপেক্ষা করছি, কিন্তু আমাদের সবার নজর একটু পরপরই ছাদের দিকে চলে যাচ্ছে। কখন যে পলেস্তারা খসে গায়ের ওপর পড়ে, সেই ভয়ে যতক্ষণ হাসপাতালে আছি, ততক্ষণই আতঙ্কে থাকতে হচ্ছে।

মতলব দক্ষিণ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের চিকিৎসক ডা. রাজিব কিশোর বনিক বলেন, হাসপাতাল ভবনের বিভিন্ন জায়গায় ফাটল দেখা দিয়েছে। প্রথম ও দ্বিতীয় তলার ছাদে ফাটল ধরে পলেস্তারা, ইটের সুরকি ও সিমেন্ট-বালুর মিশ্রণ খসে পড়ছে। স্বাভাবিকভাবেই রোগী ও তাদের স্বজনরা সবসময় আতঙ্কের মধ্যে থাকেন।

মতলব দক্ষিণ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের কর্মকর্তা ডা. মো. গোলাম রায়হান বলেন, হাসপাতালের পলেস্তারা ভেঙে খসে পড়ার বিষয়টি অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ। আমরা ইতিমধ্যে এই ব্যাপারে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে লিখিতভাবে অবহিত করেছি।

মতলব দক্ষিণ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) কেএম ইশমাম বলেন, হাসপাতাল ভবনের পলেস্তারা খসে পড়ার বিষয়টি আমি জেনেছি। জননিরাপত্তার স্বার্থে ভবনটি দ্রুত সংস্কার করার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে জরুরি ভিত্তিতে তাগিদ দেওয়া হবে।

বিষয় :চাঁদপুর