ভাগাড়ে পরিণত বান্দরবানের মেক্সিখাল, অল্প বৃষ্টিতেই জলাবদ্ধতা

এশিয়া পোস্ট নিউজ, বান্দরবান
ভাগাড়ে পরিণত বান্দরবানের মেক্সিখাল, অল্প বৃষ্টিতেই জলাবদ্ধতা
ভাগাড়ে পরিণত বান্দরবানের মেক্সিখাল। ছবি: এশিয়া পোস্ট

একসময় বান্দরবান শহরের প্রধান পানি নিষ্কাশনের অন্যতম মাধ্যম ছিল মেক্সিখাল। পাহাড়ি ঢল ও বর্ষার পানি দ্রুত সাঙ্গু নদীতে পৌঁছে দিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করত এই খাল। কিন্তু সময়ের ব্যবধানে অবৈধ দখল, অপরিকল্পিত স্থাপনা, হোটেল-মোটেল নির্মাণ, নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণের অভাব এবং যত্রতত্র বর্জ্য ফেলার কারণে খালটি আজ তার স্বাভাবিক অস্তিত্ব হারানোর পথে। খালের নাব্যতা কমে যাওয়ায় এখন সামান্য বৃষ্টিতেই বান্দরবান শহরের প্রধান সড়ক, ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান ও আবাসিক এলাকায় জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হচ্ছে। এতে জনদুর্ভোগ যেমন বাড়ছে, তেমনি পরিবেশও মারাত্মক হুমকির মুখে পড়েছে।

Advertisement

স্থানীয়রা জানান, মেক্সিখাল দিয়েই একসময় দ্রুত বৃষ্টির পানি সাঙ্গু নদীতে নেমে যেত। কিন্তু বর্তমানে খালের দুই পাশে গড়ে ওঠা বিভিন্ন হোটেল-মোটেল, ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান ও বসতবাড়ি থেকে প্রতিনিয়ত প্লাস্টিক, পলিথিন, গৃহস্থালি বর্জ্য এবং বিভিন্ন ধরনের আবর্জনা খালে ফেলা হচ্ছে। অনেক স্থানে খালের জায়গা দখল করে স্থায়ী ও অস্থায়ী স্থাপনা নির্মাণ করা হয়েছে। ফলে পানি চলাচলের স্বাভাবিক পথ সংকুচিত হয়ে পড়েছে। স্থানীয় ব্যবসায়ী ও বাসিন্দারা বারবার মেক্সিখাল পুনঃখনন, অবৈধ দখলমুক্তকরণ এবং নিয়মিত পরিষ্কারের দাবি জানালেও স্থায়ী ও কার্যকর উদ্যোগের অভাবের অভিযোগ রয়ে গেছে।

শহরের বাসিন্দা মো. আব্দুল কাদের বলেন, আগে ভারী বৃষ্টি হলেও এত জলাবদ্ধতা হতো না। এখন আধা ঘণ্টার বৃষ্টিতেই শহরের রাস্তাঘাট পানিতে ডুবে যায়। খালটি দ্রুত খনন ও দখলমুক্ত করা না হলে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হবে।

ব্যবসায়ী মো. জসিম উদ্দিন বলেন, প্রতিবার বৃষ্টির সময় দোকানে পানি ঢুকে বড় ধরনের ক্ষতির মুখে পড়তে হয়। অথচ বছরের পর বছর ধরে খালটি পরিষ্কার বা সংস্কারের কার্যকর উদ্যোগ চোখে পড়ছে না।

সংকট নিরসনে সমন্বিত উদ্যোগের তাগিদ দিয়ে শিক্ষক নুরুল ইসলাম বলেন, খাল দখল ও দূষণের কারণে শুধু জলাবদ্ধতাই নয়, পুরো শহরের পরিবেশ ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। সংশ্লিষ্ট সব সংস্থার সমন্বিত উদ্যোগ ছাড়া এ সংকট থেকে উত্তরণ সম্ভব নয়।

খাল দখল করে হোটেল নির্মাণ এবং হোটেলের বর্জ্য খালে ফেলার অভিযোগের বিষয়ে হোটেল হিলভিউয়ের ম্যানেজার তৌহিদ পারভেজ বাপ্পু বলেন, হোটেলের টয়লেট লাইনে লিকেজ থাকায় কিছু বর্জ্য সরাসরি খালে যাচ্ছে। বিষয়টি জানতে পেরে আজই মিস্ত্রি ডেকে তা মেরামতের ব্যবস্থা করছি। তবে খাল দখলের অভিযোগ সঠিক নয়।

বান্দরবান পৌরসভার প্রশাসক মনজুরুল হক বলেন, খুব শিগগিরই মেক্সিখাল পুনঃখননের উদ্যোগ নেওয়া হবে। একই সঙ্গে খালের ওপর থাকা অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদে অভিযান পরিচালনা করা হবে। শহরের পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থা সচল রাখতে প্রয়োজনীয় সব ধরনের পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।

পরিবেশ অধিদপ্তরের কর্মকর্তা রেজাউল করিম বলেন, মেক্সিখালের আশপাশে পরিবেশ দূর্ষণকারী ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে অভিযান পরিচালনার জন্য একটি টিম গঠন করা হবে। প্রথমে সতর্ক করা হবে, এরপরও আইন অমান্য করলে প্রচলিত আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।