নারকেলের ছোবড়া থেকে কোটি টাকার ব্যবসা

এক যুগ আগেও ফেলে দেওয়া হতো নারকেলের ছোবড়া, কিংবা কেউ কেউ তা কেবল জ্বালানি হিসেবে ব্যবহার করতেন। তবে এই ছোবড়া এখন আর ফেলনা নয়। গদি, সোফা, দড়ি ও কৃষিপণ্যসহ নানা নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিস তৈরি হচ্ছে নারকেলের ছোবড়া থেকে।
লক্ষ্মীপুরে উৎপাদিত নারকেলের ছোবড়া এখন যাচ্ছে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে। ফেলনা এই ছোবড়াই মূলত ঘোরাচ্ছে লক্ষ্মীপুর জেলার অর্থনীতির চাকা। জেলায় ছোবড়া পণ্যের ৩০টির মতো কারখানায় বছরে কয়েক কোটি টাকার ব্যবসা হয় বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।
জানা যায়, লক্ষ্মীপুর জেলায় নারকেলের ছোবড়া থেকে আঁশ ও গুঁড়া তৈরি হচ্ছে। নারকেলের আঁশ (ফাইবার) থেকে জাজিম, গদি, দড়ি, স্লিপার (জুতা), খেলনা ও শৌখিন সামগ্রী তৈরি হয়। ফাইবার তৈরির সময় প্রচুর গুঁড়াও উপজাত হিসেবে উৎপাদিত হয়। এসব গুঁড়া বা ‘কোকোডাস্ট’ কৃষিকাজে ব্যাপকভাবে ব্যবহৃত হয়। বিশেষ করে যেসব বাগানে মাটির অভাব বা ছাদবাগান রয়েছে, সেখানে এই গুঁড়া ব্যবহার করা হয়।

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তথ্যমতে, জেলায় ২ হাজার ৭৩৫ হেক্টর জমিতে নারকেলের বাগান রয়েছে। এ ছাড়া জেলার প্রতিটি বাড়ির আঙিনাতেই কম-বেশি নারকেল গাছ রয়েছে।
শ্রমিক ও ব্যবসায়ীরা জানান, বিভিন্ন এলাকা থেকে নারকেল সংগ্রহ করার পর তা ছুলে ছোবড়া আলাদা করে কারখানায় পাঠানো হয়। এসব ছোবড়া জেলার চাহিদা মিটিয়ে পাঠানো হচ্ছে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে। প্রতিটি কারখানা থেকে মাসে গড়ে ৩ লাখ টাকার ছোবড়া বা এর থেকে তৈরি পণ্য বিক্রি করা হয়। এসব কারখানার প্রতিটিতে ৮-১০ জন করে শ্রমিক নিয়োজিত রয়েছেন।
স্থানীয় ছোবড়া ব্যবসায়ী গাজী হাসমত জানান, লক্ষ্মীপুরে নারকেলের ছোবড়া প্রক্রিয়াজাতকরণকে কেন্দ্র করে গড়ে ওঠা কারখানাগুলোতে প্রতিবছর উল্লেখযোগ্য পরিমাণ অর্থের লেনদেন হয়। ব্যবসায়ীদের তথ্য অনুযায়ী, প্রতিটি কারখানায় বছরে গড়ে প্রায় দেড় থেকে দুই কোটি টাকার ব্যবসা হয়ে থাকে। সেই হিসাবে জেলার প্রায় ৩০টি কারখানায় সম্মিলিতভাবে বার্ষিক লেনদেনের পরিমাণ অর্ধশত কোটি টাকারও বেশি।
বাংলাদেশ ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্প করপোরেশনের (বিসিক) জেলা উপব্যবস্থাপক ফজলুল করিম বলেন, লক্ষ্মীপুর জেলা নারকেল, সুপারি এবং সয়াবিনের জন্য বিখ্যাত। সেই হিসাবে নারকেলের ছোবড়া এখানে অত্যন্ত সম্ভাবনাময় একটি শিল্প। এই শিল্পের সাথে বর্তমানে প্রায় ৩০ জন উদ্যোক্তা জড়িত রয়েছেন। উদ্যোক্তারা বিসিকের সাথে যোগাযোগ করলে তাদের ক্ষুদ্রঋণ সহায়তা এবং প্রশিক্ষণ প্রদানসহ শিল্প নিবন্ধনের আওতায় আনা সম্ভব হবে। এই শিল্পের প্রসারে বিসিক সব ধরনের সহযোগিতা করবে।





