বিরল রোগে আক্রান্ত শিশু হেনজা, অর্থের অভাবে বন্ধ চিকিৎসা

জন্মের মাত্র চার মাস বয়সে তীব্র শ্বাসকষ্ট নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছিল শিশু হেনজা এলনাজ। একের পর এক পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর চিকিৎসকরা নিশ্চিত হন হেনজা ‘ডাইলেটেড কার্ডিওমায়োপ্যাথি’ (ডিসিএম) নামের একটি অত্যন্ত জটিল ও বিরল হৃদরোগে আক্রান্ত।
হেনজা সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুর উপজেলার দ্বাবাড়ীয়া গ্রামের বাসিন্দা মো. আল্লামা ইকবাল তুসার ও আনিকা বিনতে রহমান উপমা দম্পতির কন্যা।
পরিবার সূত্রে জানা যায়, রোগ শনাক্তের পর হেনজার অবস্থার অবনতি হলে তাকে ঢাকার ন্যাশনাল হার্ট ফাউন্ডেশন হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে দীর্ঘদিন আইসিইউতে রাখা হলেও অবস্থার উন্নতি না হওয়ায় চিকিৎসকরা তাকে ভারতে নেওয়ার পরামর্শ দেন। পরবর্তীতে স্বজনদের সহযোগিতা ও ঋণ নিয়ে প্রায় ২৫ লাখ টাকা ব্যয়ে ভারতের বেঙ্গালুরুতে বিশ্বখ্যাত হৃদরোগ বিশেষজ্ঞ ডা. দেবী শেঠী এবং শিশু হৃদরোগ বিশেষজ্ঞ ডা. শাশিরাজের অধীনে হেনজার চিকিৎসা করানো হয়। চিকিৎসকদের বরাত দিয়ে পরিবার জানায়, হেনজা যে ধরনের বিরল হৃদরোগে আক্রান্ত, এ পর্যন্ত বিশ্বে মাত্র তিনজন শিশুর শরীরে এমন রোগ শনাক্ত হয়েছে।
বর্তমানে ঢাকার একটি হাসপাতালে হেনজার চিকিৎসা চলমান রয়েছে। প্রতি মাসে ওষুধ ও পরীক্ষা-নিরীক্ষা বাবদ প্রায় ৬০ থেকে ৭০ হাজার টাকা ব্যয় হচ্ছে। অথচ তার বাবা মো. আল্লামা ইকবাল তুসার একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে মাত্র ২০ হাজার টাকা মাসিক বেতনে চাকরি করেন। ফলে পরিবারের পক্ষে এই খরচ বহন করা অসম্ভব হয়ে পড়েছে এবং চিকিৎসার ঋণের বোঝাও ক্রমাগত বাড়ছে।
চিকিৎসকদের পরামর্শ অনুযায়ী, হেনজাকে দ্রুত পুনরায় ভারতে নিয়ে বিশেষায়িত চিকিৎসা ও জেনেটিক পরীক্ষা করানো প্রয়োজন। তবে দীর্ঘমেয়াদি এই চিকিৎসার জন্য ভবিষ্যতে প্রায় এক থেকে দুই কোটি টাকারও বেশি ব্যয় হতে পারে বলে জানিয়েছেন চিকিৎসকরা।
অসহায় মা আনিকা বিনতে রহমান উপমা বলেন, আমার মেয়েটি প্রতিদিন জীবনের সঙ্গে যুদ্ধ করছে। একজন মা হিসেবে সন্তানের কষ্ট দেখা ছাড়া আমার আর কিছুই করার নেই। আমি সমাজের বিত্তবান ব্যক্তি, মানবিক সংগঠন এবং সরকারের কাছে আমার মেয়ের জীবন রক্ষায় সহযোগিতা কামনা করছি।




