এনসিপির জুলাই পদযাত্রায় গোপালগঞ্জসহ ৬ জেলা নেই কেন

এশিয়া পোস্ট প্রতিবেদক
এনসিপির জুলাই পদযাত্রায় গোপালগঞ্জসহ ৬ জেলা নেই কেন
ছবি: সংগৃহীত

জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের দ্বিতীয় বর্ষপূর্তিতে মাসব্যাপী কর্মসূচির অংশ হিসেবে ‘জুলাই পদযাত্রা’র ঘোষণা দিয়েছে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)।

সোমবার (৬ জুলাই) থেকে পদযাত্রা করতে যাচ্ছে দলটি। তবে এ পদযাত্রার পথনকশায় ছয় জেলার নাম নেই। জেলাগুলো হলো- গোপালগঞ্জ, নরসিংদী, রাজবাড়ী, শরীয়তপুর, সুনামগঞ্জ ও রাঙামাটি।

‘গণভোট বাস্তবায়ন, কর্মসংস্থান ও সীমান্ত সুরক্ষার’ দাবিতে গতকাল শনিবার বিকেলে দলের অস্থায়ী কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে দেশের ৬৪ জেলার ১০০টি উপজেলা ও পৌরসভায় পদযাত্রার ঘোষণা দেন এনসিপির (উত্তরাঞ্চল) মুখ্য সংগঠক সারজিস আলম।

সংবাদ সম্মেলনে সারজিস আলম বলেন, ‘এনসিপির আত্মপ্রকাশের পর ২০২৫ সালের জুলাইয়ে দেশের ৬৪ জেলায় জেলা শহরগুলোকে সামনে রেখে জুলাই পদযাত্রা করেছিলাম। এবারও জুলাই পদযাত্রা আয়োজন করতে যাচ্ছে এনসিপি। এই পদযাত্রা দেশের ৬৪ জেলাকে স্পর্শ করবে।’

তবে এক ঘণ্টা পর পথযাত্রার সংশোধিত তালিকায় ছয় জেলার নাম পাওয়া যায়নি। দেশের ছয় জেলায় পদযাত্রা কর্মসূচি না করার বিষয়ে জানতে চাইলে এনসিপির যুগ্ম আহ্বায়ক আশরাফ মাহদী এশিয়া পোস্টকে বলেন, ‘এবারের পদযাত্রার মূল থিম হলো, স্থানীয় নির্বাচনে যেসব উপজেলায় চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী দিয়েছি, তাদের প্রমোট করতে ওই উপজেলাগুলোতে জুলাই পদযাত্রা কর্মসূচি দিয়েছি। জুলাইতে আমাদের আরও কর্মসূচি আছে। সবগুলো কর্মসূচি যাতে নির্বিঘ্নে করা যায়, সেজন্য সব উপজেলায় কর্মসূচি দেওয়া সম্ভব হয়নি।’

গত বছর প্রথম বর্ষপূর্তিতে গোপালগঞ্জে এনসিপির পদযাত্রা ও পথসভাকে কেন্দ্র করে ব্যাপক সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এতে চারজন নিহত ও শতাধিক আহত হন। গোপালগঞ্জে কর্মসূচি না দেওয়ার কারণ জানতে চাইলে আশরাফ মাহদী বলেন, ‘গোপালগঞ্জে স্থানীয় সরকার নির্বাচনে আমরা কাউকে প্রার্থী করেনি। প্রার্থী করলে সেখানে সফর করব। এবার সেখানে কর্মসূচি না দেওয়ার সঙ্গে গত বছরের সংঘর্ষের কোনো সম্পর্ক নেই। গত বছর ফ্যাসিবাদের দোসররা যেভাবে সক্রিয় ছিল, এখন সেভাবে আছে বলে আমরা মনে করি না।’

পদযাত্রার পথনকশা

পথনকশা অনুযায়ী, আগামী ৬ জুলাই বিকেল ৩টায় গাজীপুরের কালীগঞ্জে পদযাত্রার মধ্য দিয়ে এনসিপির জুলাই পদযাত্রার সূচনা হবে।

উত্তরাঞ্চলের পদযাত্রা: ৬ জুলাই গাজীপুরের কালীগঞ্জে বিকেল ৩টায় শুরু হবে। একই দিন সন্ধ্যা ৬টায় ঢাকা জেলার উত্তর সাভারে কর্মসূচি শেষে ঢাকায় রাত্রিযাপন করা হবে। ৭ জুলাই টাঙ্গাইলের সখীপুর (বিকেল ৩টা) ও টাঙ্গাইল সদর পৌরসভায় (সন্ধ্যা ৬টা), ৮ জুলাই কালিহাতি (বিকেল ৩টা) ও ভূঞাপুরে (সন্ধ্যা ৬টা), ৯ জুলাই সিরাজগঞ্জের উল্লাপাড়া (বিকেল ৩টা) এবং পাবনার চাটমোহরে (সন্ধ্যা ৬টা), ১০ জুলাই নাটোর সদর পৌরসভা (বিকেল ৩টা) ও রাজশাহী মহানগরে (সন্ধ্যা ৬টা), ১১ জুলাই রাজশাহীর গোদাগাড়ী (বিকেল ৩টা) এবং চাঁপাইনবাবগঞ্জের গোমস্তাপুরে (সন্ধ্যা ৬টা) কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হবে।

১২ জুলাই নওগাঁর পোড়শা ও নেয়ামতপুর, ১৩ জুলাই বদলগাছী ও ধামইরহাট পৌরসভা, ১৪ জুলাই বগুড়ার দুপচাঁচিয়া ও সদর, ১৫ জুলাই বগুড়ার মোকামতলা এবং জয়পুরহাট সদর, ১৬ জুলাই সকাল ১০টায় শহীদ আবু সাঈদের কবর জিয়ারত ও দোয়া শেষে গাইবান্ধার সাদুল্লাহপুর এবং রংপুর সদর উপজেলায় কর্মসূচি হবে।

১৭ জুলাই দিনাজপুরের ঘোড়াঘাট ও হাকিমপুর, ১৮ জুলাই ফুলবাড়ী ও বোচাগঞ্জ, ১৯ জুলাই ঠাকুরগাঁওয়ের পীরগঞ্জ, ২০ জুলাই পঞ্চগড়ের বোদা, তেঁতুলিয়া ও দেবীগঞ্জ, ২১ জুলাই নীলফামারীর জলঢাকা ও সদর, ২২ জুলাই লালমনিরহাটের কালীগঞ্জ এবং কুড়িগ্রাম সদরে কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হবে।

২৩ জুলাই শেরপুর সদর পৌরসভা ও জামালপুর সদর, ২৪ জুলাই নেত্রকোনা সদর পৌরসভা ও খালিয়াজুড়ি, ২৫ জুলাই ময়মনসিংহের তারাকান্দা ও ধোবাউড়া, ২৬ জুলাই হালুয়াঘাট ও ভালুকা, ২৭ জুলাই কিশোরগঞ্জের তাড়াইল, করিমগঞ্জ ও সদর, ২৮ জুলাই হবিগঞ্জের আজমিরীগঞ্জ ও সদর পৌরসভা, ২৯ জুলাই মৌলভীবাজারের কুলাউড়া ও রাজনগর, ৩০ জুলাই সিলেটের কানাইঘাট ও ওসমানীনগর এবং ৩১ জুলাই কোম্পানীগঞ্জ, গোয়াইনঘাট ও জৈন্তাপুরে কর্মসূচি শেষে বাংলামোটরের উদ্দেশ্যে যাত্রা করা হবে।

দক্ষিণাঞ্চলের পদযাত্রা শুরু হবে ৭ জুলাই থেকে। এদিন কক্সবাজারের উখিয়া (বিকেল ৩টা) এবং কক্সবাজার সদর ও পৌরসভায় (সন্ধ্যা ৬টা) কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হবে।

৮ জুলাই বান্দরবান সদর ও চট্টগ্রামের আনোয়ারা, ৯ জুলাই খাগড়াছড়ি সদর ও ফেনী সদর, ১০ জুলাই নোয়াখালী সদর ও লক্ষ্মীপুরের রায়পুর পৌরসভা, ১১ জুলাই চাঁদপুর সদর ও মতলব উত্তর, ১২ জুলাই কুমিল্লার ব্রাহ্মণপাড়া ও হোমনা, ১৩ জুলাই ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বাঞ্ছারামপুর (সকাল ১১টা), বিজয়নগর (বিকেল ৪টা) ও আশুগঞ্জে (সন্ধ্যা ৭টা) কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হবে।

১৪ জুলাই নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁও ও মুন্সীগঞ্জের সিরাজদিখান, ১৫ জুলাই ফরিদপুরের নগরকান্দা উপজেলা ও পৌরসভা এবং ফরিদপুর সদর পৌরসভা, ১৬ জুলাই জুলাই শহীদ দিবস উপলক্ষে বাদ আসর দোয়া ও মোনাজাত এবং সন্ধ্যা ৬টায় মাদারীপুর সদর পৌরসভা, ১৭ জুলাই ভোলা সদর উপজেলা (বেলা ১১ টা) ও বরিশালের বাবুগঞ্জ, ১৮ জুলাই বরগুনার আমতলী ও পটুয়াখালী সদর পৌরসভা, ১৯ জুলাই ঝালকাঠির রাজাপুর উপজেলা ও পিরোজপুরের নেছারাবাদ উপজেলা, ২০ জুলাই পিরোজপুরের জিয়ানগর উপজেলা ও সদর পৌরসভায় কর্মসূচি হবে।

২১ জুলাই বাগেরহাট সদর ও চিতলমারী, ২২ জুলাই ফকিরহাট ও মোংলা, ২৩ জুলাই খুলনার চালনা পৌরসভা এবং যশোরের নোয়াপাড়া পৌরসভা, ২৪ জুলাই সাতক্ষীরা সদর ও যশোরের বাঘারপাড়া, ২৫ জুলাই নড়াইল সদর ও মাগুরা সদর, ২৬ জুলাই ঝিনাইদহ সদর পৌরসভা এবং চুয়াডাঙ্গার জীবননগর পৌরসভা, ২৭ জুলাই চুয়াডাঙ্গা সদর পৌরসভা ও মেহেরপুরের গাংনী পৌরসভা, ২৮ জুলাই কুষ্টিয়ার ভেড়ামারা উপজেলা ও কুমারখালী উপজেলা এবং ২৯ জুলাই মানিকগঞ্জের দৌলতপুর ও সদর উপজেলায় কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হবে।