হালান্ডদের বিপক্ষে যে একাদশে নামছে ব্রাজিল

এশিয়া পোস্ট স্পোর্টস
হালান্ডদের বিপক্ষে যে একাদশে নামছে ব্রাজিল
ছবি: সংগৃহীত

নরওয়ের বিপক্ষে বিশ্বকাপের শেষ ষোলোর ম্যাচে এক পরিবর্তন নিয়ে নামছে ব্রাজিল। চোটে ছিটকে যাওয়া লুকাস পাকেতার জায়গায় একাদশে সুযোগ পেয়েছেন গ্যাব্রিয়েল মার্তিনেল্লি। আর্সেনালের এই ফরোয়ার্ডই কার্লো আনচেলত্তির দলের একমাত্র নতুন মুখ।

নিউ ইয়র্ক-নিউ জার্সি স্টেডিয়ামে বাংলাদেশ সময় সোমবার রাত ২টায় নরওয়ের মুখোমুখি হবে ব্রাজিল। শেষ আটে ওঠার এই লড়াইয়ে সেলেসাওদের সামনে শুধু আর্লিং হালান্ডের চ্যালেঞ্জ নয়, আছে নরওয়েকে কখনো না হারানোর পুরোনো অস্বস্তিও।

জাপানের বিপক্ষে শেষ ৩২-এর ম্যাচে বাঁ ঊরুতে চোট পান পাকেতা। আনচেলত্তি তার জায়গায় কাকে খেলাবেন, সেটি নিয়ে কয়েক দিন ধরেই আলোচনা চলছিল। দানিলো সান্তোসকেও অনুশীলনে পরীক্ষা করা হয়েছিল। তবে শুক্রবার ও শনিবারের অনুশীলনে মূল একাদশে ছিলেন মার্তিনেল্লি। শেষ পর্যন্ত ম্যাচের কয়েক ঘণ্টা আগে খেলোয়াড়দের জানানো হয়, পাকেতার জায়গায় তিনিই শুরু করবেন।

ব্রাজিলের একাদশ: আলিসন; দানিলো, মারকিনিওস, গ্যাব্রিয়েল মাগালিয়াইস, ডগলাস সান্তোস; কাসেমিরো, ব্রুনো গিমারায়েস; রায়ান, মাতেউস কুনিয়া, গ্যাব্রিয়েল মার্তিনেল্লি, ভিনিসিয়ুস জুনিয়র।

মার্তিনেল্লি মূলত ফরোয়ার্ড হলেও নরওয়ের বিপক্ষে তাকে কিছুটা ভিন্ন ভূমিকায় দেখা যেতে পারে। বল দখলে থাকলে তিনি বাঁ দিক ও মাঝমাঠের মাঝামাঝি জায়গায় নেমে খেলতে পারেন। এতে ভিনিসিয়ুস জুনিয়রকে জায়গা করে দেওয়া, মাঝমাঠে বাড়তি দৌড় যোগ করা এবং দ্রুত আক্রমণে ওঠার সুযোগ পাবে ব্রাজিল।

পাকেতার অনুপস্থিতি ব্রাজিলের জন্য বড় ধাক্কা। তিনি বল ধরে রাখা, পাসের ছন্দ তৈরি এবং আক্রমণ সাজানোর ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ছিলেন। তার বদলে মার্তিনেল্লি খেলায় ব্রাজিল হয়তো আরও সরাসরি, গতিনির্ভর ফুটবল খেলবে। তবে মাঝমাঠের নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখতে কাসেমিরো ও ব্রুনো গিমারায়েসের দায়িত্ব আরও বাড়বে।

ব্রাজিলের জন্য আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ খবর রাফিনিয়াকে নিয়ে। হাইতির বিপক্ষে ডান ঊরুতে চোট পাওয়ার পর তিনি মাঠের বাইরে ছিলেন। নরওয়ের বিপক্ষে বেঞ্চে থাকবেন বার্সেলোনার এই ফরোয়ার্ড। তবে পুরোপুরি ফিট না হওয়ায় শেষ ষোলোর ম্যাচে তাঁকে ব্যবহার করার সম্ভাবনা কম। ব্রাজিলের মেডিকেল স্টাফের আশা, দল কোয়ার্টার ফাইনালে উঠলে তখন রাফিনিয়াকে আরও ভালো অবস্থায় পাওয়া যেতে পারে।

নরওয়ের বিপক্ষে ব্রাজিলের মূল পরীক্ষা হবে হালান্ডকে থামানো। আনচেলত্তির পরিকল্পনার বড় অংশই হলো, বল যেন ম্যানচেস্টার সিটির এই স্ট্রাইকারের কাছে সহজে না পৌঁছায়। এর সঙ্গে মার্টিন ওডেগার্ডের সৃজনশীলতাও সামলাতে হবে ব্রাজিলকে। রয়টার্সের প্রতিবেদনে আনচেলত্তির পরিকল্পনায় হালান্ডকে নিষ্ক্রিয় রাখার বিষয়টিই বড় কৌশলগত প্রশ্ন হিসেবে এসেছে।

এই ম্যাচের জয়ী দল কোয়ার্টার ফাইনালে খেলবে মেক্সিকো বা ইংল্যান্ডের বিপক্ষে। তাই মার্তিনেল্লির শুরু থেকে নামা শুধু একাদশের বদল নয়, ব্রাজিলের নকআউট অভিযানের কৌশলগত পরিবর্তনেরও ইঙ্গিত।