দেশে ফিরে বীরের অভ্যর্থনা পেল কেপ ভার্দে দল

বিশ্বকাপ থেকে বিদায় নিয়েছে কেপ ভার্দে। কিন্তু দেশে ফেরার দৃশ্য দেখে সেটি বোঝার উপায় ছিল না। প্রাইয়ার নেলসন ম্যান্ডেলা আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে যেন শিরোপাজয়ী দলকে বরণ করার আবহ। পতাকা হাতে, গান আর স্লোগানে হাজারো মানুষ অপেক্ষা করেছেন নিজেদের ফুটবল নায়কদের জন্য।
অভিষেক বিশ্বকাপেই কেপ ভার্দে যা করেছে, সেটি শুধু স্কোরবোর্ডে মাপা যায় না। ছোট্ট দ্বীপদেশটি প্রথমবার বিশ্বকাপে এসে গ্রুপ পর্ব পেরিয়েছে, সাবেক বিশ্বচ্যাম্পিয়নদের চোখে চোখ রেখে খেলেছে, আর শেষ পর্যন্ত বর্তমান চ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনাকেও অতিরিক্ত সময় পর্যন্ত লড়তে বাধ্য করেছে।
আর্জেন্টিনার কাছে শেষ ৩২-এর ম্যাচে ৩-২ গোলে হারলেও কেপ ভার্দের ফুটবলাররা মাথা উঁচু করেই দেশে ফিরেছেন। বিমানবন্দরে তাঁদের বরণ করে নিতে ছিল সমর্থকদের ঢল। কেউ জাতীয় পতাকা উড়িয়েছেন, কেউ গান গেয়েছেন, কেউ মোবাইল হাতে ধরে রেখেছেন এই ঐতিহাসিক মুহূর্ত।
The Cape Verde team and coaching staff have arrived back in Cape Verde. Look at the number of people waiting to welcome them home ❤️ pic.twitter.com/fltaUXibM1
— Cleverly 💐 (@Cleverlydey4u) July 5, 2026
কেপ ভার্দের ফুটবল ফেডারেশনের প্রকাশ করা ভিডিওতে দেখা যায়, খেলোয়াড়দের জন্য অপেক্ষা করছে আবেগে ভরা জনসমুদ্র। দলের আগমনের সময় বিমানবন্দরের এক কর্মীকেও খেলোয়াড় ও কোচিং স্টাফদের সামনে নত হয়ে সম্মান জানাতে দেখা যায়। কেপ ভার্দেতে এই দল এখন শুধু ফুটবল দল নয়, জাতীয় গর্বের প্রতীক।
গ্রুপ পর্বেই নিজেদের সামর্থ্যের জানান দিয়েছিল কেপ ভার্দে। প্রথম ম্যাচে স্পেনকে গোলশূন্য ড্রয়ে আটকে দেয় তারা। এরপর উরুগুয়ের সঙ্গেও ড্র করে। সৌদি আরবের বিপক্ষে আরেকটি গোলশূন্য ড্র তাদের নকআউট পর্বে ওঠার পথ নিশ্চিত করে। তিন ম্যাচে কোনো হার নয়, সেটিই ছিল অভিষেক বিশ্বকাপে সবচেয়ে বড় বার্তা।
এর মধ্য দিয়ে বিশ্বকাপের নকআউট পর্বে ওঠা সবচেয়ে কম জনসংখ্যার দেশ হিসেবে ইতিহাস গড়ে কেপ ভার্দে। তাদের দেশে মানুষের সংখ্যা পাঁচ লাখের কাছাকাছি। কিন্তু বিশ্বকাপের মঞ্চে সাহস, শৃঙ্খলা ও লড়াই দিয়ে নিজেদের পরিচয় তারা ছড়িয়ে দিয়েছে কোটি মানুষের কাছে।
আর্জেন্টিনার বিপক্ষে ম্যাচটিও ছিল কেপ ভার্দের মানসিকতার সবচেয়ে বড় উদাহরণ। বর্তমান বিশ্বচ্যাম্পিয়নদের বিপক্ষে তারা দুইবার পিছিয়ে পড়েও ফিরেছিল। লিওনেল মেসির গোলে এগিয়ে যায় আর্জেন্টিনা, পরে দেরয় দুয়ার্তে সমতা ফেরান। অতিরিক্ত সময়ে আবার পিছিয়ে পড়ে সিডনি লোপেস কাবরালের দুর্দান্ত গোলে স্কোরলাইন ২-২ করে কেপ ভার্দে।
শেষ পর্যন্ত মেসির কর্নার থেকে ক্রিস্তিয়ান রোমেরোর হেড দিনেই বোর্হেসের গায়ে লেগে জালে যায়। আত্মঘাতী সেই গোলেই আর্জেন্টিনা ৩-২ ব্যবধানে জিতে শেষ ষোলোয় ওঠে। কেপ ভার্দে হারলেও তাদের লড়াই, গোলরক্ষক ভোজিনিয়ার সেভ আর শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত বিশ্বাস ধরে রাখার মানসিকতা বিশ্বকাপের বড় গল্প হয়ে থাকে।
কেপ ভার্দের এই সাফল্য শুধু মাঠের নয়, পরিচয়েরও। আফ্রিকার পশ্চিম উপকূলের ছোট্ট দ্বীপদেশটি বিশ্বকাপে এসে দেখিয়েছে, জনসংখ্যা, ইতিহাস বা বড় লিগের তারকার অভাব সবসময় স্বপ্নের সীমা ঠিক করে দেয় না। ঐক্য, শৃঙ্খলা ও বিশ্বাস থাকলে ছোট দেশও ফুটবলের সবচেয়ে বড় মঞ্চে নিজেদের নাম লিখতে পারে।
বিশ্বকাপের শিরোপা জেতেনি কেপ ভার্দে। কোনো বড় ট্রফিও নিয়ে ফেরেনি। তবু দেশে ফেরার সময় যে অভ্যর্থনা তারা পেল, সেটি প্রমাণ করে দেয়, কিছু যাত্রা ফলাফলের চেয়ে বড় হয়ে যায়। কেপ ভার্দের ২০২৬ বিশ্বকাপ অভিযান তেমনই এক গল্প।
স্কোরবোর্ডে লেখা থাকবে, আর্জেন্টিনার কাছে ৩-২ গোলে হেরে বিদায়। কিন্তু কেপ ভার্দের মানুষের মনে লেখা থাকবে অন্য কিছু। প্রথম বিশ্বকাপেই তারা বিশ্বকে নিজেদের নাম শিখিয়েছে।





