ট্রাম্পের ফোনের পর বদলে গেল নিয়ম, নাটকীয় সিদ্ধান্ত ফিফার!

এশিয়া পোস্ট স্পোর্টস
ট্রাম্পের ফোনের পর বদলে গেল নিয়ম, নাটকীয় সিদ্ধান্ত ফিফার!
ছবি: সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্রের স্ট্রাইকার ফোলারিন বালোগুনকে বিশ্বকাপের শেষ ষোলোর ম্যাচে বেলজিয়ামের বিপক্ষে খেলার অনুমতি দেওয়ার ফিফার সিদ্ধান্তকে ঘিরে তীব্র বিতর্ক তৈরি হয়েছে। কারণ, এই সিদ্ধান্তের আগে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনোর সঙ্গে কথা বলে লাল কার্ডের ঘটনাটি পুনর্বিবেচনার অনুরোধ করেছিলেন বলে জানিয়েছে সিএনএন।

একাধিক সূত্রের বরাত দিয়ে সিএনএন জানায়, বসনিয়া ও হার্জেগোভিনার বিপক্ষে ম্যাচে সরাসরি লাল কার্ড দেখার পর ট্রাম্প ফিফার প্রেসিডেন্টকে ফোন করে সিদ্ধান্তটি পর্যালোচনার আহ্বান জানান।

এরপর রোববার ফিফা ঘোষণা দেয়, তাদের শৃঙ্খলা বিধির একটি বিশেষ ধারা প্রয়োগ করে বালোগুনের স্বয়ংক্রিয় এক ম্যাচের নিষেধাজ্ঞা এক বছরের জন্য স্থগিত রাখা হয়েছে। ফলে সোমবার সিয়াটলে বেলজিয়ামের বিপক্ষে শেষ ষোলোর ম্যাচে তিনি খেলতে পারবেন।

২৫ বছর বয়সি এই ফরোয়ার্ড বসনিয়া ও হার্জেগোভিনার বিপক্ষে যুক্তরাষ্ট্রের ২-০ গোলের জয়ের ম্যাচে গোল করেছিলেন। তবে ৬৪তম মিনিটে ভিডিও সহকারী রেফারি (ভিএআর) পর্যালোচনার পর বসনিয়ার ডিফেন্ডার তারিক মুহারেমোভিচের গোড়ালিতে বিপজ্জনক ট্যাকলের দায়ে তাকে সরাসরি লাল কার্ড দেখানো হয়।

এর ফলে বিশ্বকাপের নিয়ম অনুযায়ী তার পরবর্তী ম্যাচে নিষিদ্ধ থাকার কথা ছিল। যুক্তরাষ্ট্র ফুটবল ফেডারেশন এবং সমর্থকরাও ধরে নিয়েছিলেন, এই নিষেধাজ্ঞা বাতিল করার কোনো সুযোগ নেই।

কিন্তু পরে দ্য অ্যাথলেটিকের এক প্রতিবেদনের পর ফিফা আনুষ্ঠানিকভাবে জানায়, শৃঙ্খলা কমিটি বিধির ২৭ নম্বর ধারা প্রয়োগ করেছে। এই ধারায় বিশেষ পরিস্থিতিতে মাঠের শাস্তি পুরোপুরি বা আংশিকভাবে স্থগিত রাখার ক্ষমতা রয়েছে।

ফিফার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, বালোগুনের লাল কার্ড বহাল থাকবে। তবে এক ম্যাচের বাধ্যতামূলক নিষেধাজ্ঞা এক বছরের পরীক্ষামূলক সময়ের জন্য স্থগিত থাকবে।

এই সময়ের মধ্যে একই ধরনের গুরুতর অপরাধ করলে স্থগিত থাকা নিষেধাজ্ঞা তাৎক্ষণিকভাবে কার্যকর হবে। পাশাপাশি নতুন অপরাধের জন্যও অতিরিক্ত শাস্তি পেতে হবে।

যুক্তরাষ্ট্রের প্রধান কোচ মাউরিসিও পচেত্তিনো বলেন, ফিফা সঠিক সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

তিনি বলেন, বসনিয়ার বিপক্ষে আমরা ৩০ মিনিট ১০ জন নিয়ে খেলেছি। সেটাই যথেষ্ট শাস্তি ছিল। আমার মতে, লাল কার্ডটি পুরোপুরি অন্যায্য ছিল। শুধু আমি যুক্তরাষ্ট্রের কোচ বলেই নয়, প্রায় ৯৯ দশমিক ৯ শতাংশ মানুষই একে অন্যায্য বলবে। হয়তো আজ আমরা ভাগ্যবান ছিলাম।

তবে তিনি জানান, লাল কার্ডের সিদ্ধান্ত পরিবর্তনের বিষয়ে তিনি ব্যক্তিগতভাবে কোনো উদ্যোগ নেননি।

ফিফার এই সিদ্ধান্তে সবচেয়ে বেশি আলোচনায় এসেছে ট্রাম্পের ভূমিকা।

সিএনএনের তথ্য অনুযায়ী, নিষেধাজ্ঞা স্থগিতের ঘোষণা দেওয়ার কয়েকদিন আগেই ট্রাম্প ইনফান্তিনোর সঙ্গে ফোনে কথা বলেন। এরপরই সিদ্ধান্ত বদলে যায়।

পরে ট্রাম্প নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে লিখেছেন, সঠিক কাজ করার জন্য এবং একটি বড় অন্যায় সংশোধনের জন্য ফিফাকে ধন্যবাদ!

এ ঘটনায় এখন প্রশ্ন উঠেছে, ফিফার সিদ্ধান্তে ট্রাম্প কতটা প্রভাব ফেলেছেন।

ট্রাম্প ও ইনফান্তিনোর ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক আগে থেকেই আলোচনায় ছিল। গত বছর বিশ্বকাপের ড্র অনুষ্ঠানে ফিফা ট্রাম্পকে একটি শান্তি পদক দেয়, যা ব্যাপক বিতর্কের জন্ম দিয়েছিল।

এ বিষয়ে সিএনএনের প্রশ্নের জবাবে ফিফা তাৎক্ষণিকভাবে কোনো মন্তব্য করেনি।

ফিফার সিদ্ধান্তে তীব্র আপত্তি জানিয়েছে বেলজিয়াম ফুটবল ফেডারেশন (আরবিএফএ)। এক বিবৃতিতে তারা বলেছে, এই সিদ্ধান্ত ২০২৬ বিশ্বকাপের প্রতিযোগিতা বিধিমালার সঙ্গে সরাসরি সাংঘর্ষিক।

ফেডারেশন জানিয়েছে, সব অংশগ্রহণকারী দলের অধিকার, প্রতিযোগিতায় সমতা ও ফুটবলের মৌলিক নীতিমালা রক্ষায় তারা সম্ভাব্য সব আইনি ও প্রশাসনিক পদক্ষেপ বিবেচনা করছে।

বেলজিয়ামের প্রধান কোচ রুডি গার্সিয়াও কটাক্ষ করে বলেন, আমি জানতাম না, ফিফার অফিসে ৫ জুলাই মানেই ১ এপ্রিল (এপ্রিল ফুল)।

তিনি আরও বলেন, বেলজিয়াম শুধু নিজেদের দলকে রক্ষা করছে না, ফুটবলের সততা ও নৈতিকতাকেই রক্ষা করছে।

অবশ্য পচেত্তিনো গার্সিয়ার মন্তব্যকে স্বাভাবিক বলে উল্লেখ করে বলেন, আমি রুডিকে চিনি। তিনি অসাধারণ একজন কোচ ও মানুষ। অবশ্যই তিনি নিজের দলের পক্ষ নেবেন।

ফিফা এর আগেও একই বিধান প্রয়োগ করেছিল।

গত নভেম্বরে পর্তুগালের অধিনায়ক ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো আয়ারল্যান্ডের বিপক্ষে ম্যাচে কনুই দিয়ে আঘাত করার কারণে তিন ম্যাচের নিষেধাজ্ঞা পান। পরে একটি ম্যাচ নিষেধাজ্ঞা ভোগ করার পর ফিফা বাকি দুই ম্যাচের শাস্তি এক বছরের জন্য স্থগিত করে। রোনালদোর দীর্ঘদিনের শৃঙ্খলাপূর্ণ রেকর্ডকে বিবেচনায় নিয়ে সেই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল।

একই ধরনের ক্ষমতা প্রয়োগ করে এবারও ফিফা বালোগুনকে মাঠে ফেরার সুযোগ দিল। তবে এই সিদ্ধান্ত বিশ্বকাপের আয়োজক দেশ যুক্তরাষ্ট্রকে বিশেষ সুবিধা দেওয়া হয়েছে কি না, তা নিয়ে আন্তর্জাতিক ফুটবল অঙ্গনে বিতর্ক আরও জোরালো হয়েছে।