স্কটল্যান্ড জয়ের পর মেসি-আর্জেন্টিনাকে ধন্যবাদ নেইমারের

দীর্ঘ অপেক্ষার পর ব্রাজিলের জার্সিতে মাঠে ফিরলেন নেইমার। স্কটল্যান্ডের বিপক্ষে ৩-০ গোলের জয়ে শেষ ভাগে বদলি হিসেবে নেমে এবারের বিশ্বকাপে প্রথম মিনিট পেলেন ব্রাজিলের নম্বর ১০। ম্যাচ শেষে নিজের ফেরার আনন্দের পাশাপাশি লিওনেল মেসিকে নিয়েও আবেগী কথা বলেছেন তিনি।
মায়ামিতে গ্রুপ ‘সি’-এর শেষ ম্যাচে স্কটল্যান্ডকে হারিয়ে গ্রুপসেরা হয়ে শেষ ৩২ নিশ্চিত করে ব্রাজিল। ম্যাচে ভিনিসিয়ুস জুনিয়রের জোড়া গোল ও মাতেউস কুনিয়ার গোলের পর ৭৬ মিনিটে কুনিয়ার বদলি হিসেবে মাঠে নামেন নেইমার। ২০২৩ সালের অক্টোবরের পর এটি ছিল ব্রাজিলের জার্সিতে তাঁর প্রথম ম্যাচ।
চোটের কারণে বিশ্বকাপের প্রথম দুই ম্যাচে খেলতে পারেননি নেইমার। মরক্কোর বিপক্ষে ১-১ ড্র এবং হাইতির বিপক্ষে ৩-০ জয়ের ম্যাচে মাঠে নামা হয়নি তাঁর। স্কটল্যান্ডের বিপক্ষে ম্যাচের আগেই কার্লো আনচেলত্তি জানিয়েছিলেন, নেইমার খেলার জন্য প্রস্তুত। শেষ পর্যন্ত ম্যাচের ফল প্রায় নিশ্চিত হওয়ার পর তাঁকে মাঠে নামান ব্রাজিল কোচ।
ম্যাচ শেষে নেইমার বলেন, ‘জাতীয় দলে ফিরে আজ মাঠে নামা আমার জন্য অনেক বড় আনন্দের। অনেক দিন পর এই জার্সি পরে খেললাম। আমি খুব খুশি।’
ফেরার রাতেই নেইমার কথা বলেন মেসিকে নিয়েও। বার্সেলোনা ও প্যারিস সেন্ট জার্মেইতে একসঙ্গে খেলা আর্জেন্টাইন তারকার সঙ্গে তার বন্ধুত্বের কথা তুলে ধরেন তিনি। নেইমার বলেন, ‘মেসি জানে, আমি তাকে ভালোবাসি।’
নেইমারের কথায়, মাঠের প্রতিদ্বন্দ্বিতা আর ব্যক্তিগত সম্পর্ক আলাদা বিষয়। ব্রাজিল-আর্জেন্টিনা ফুটবলের সবচেয়ে বড় প্রতিদ্বন্দ্বিতাগুলোর একটি, কিন্তু সেই প্রতিদ্বন্দ্বিতার বাইরেও মেসির সঙ্গে তার বন্ধুত্ব বহু বছরের। ক্লাব ফুটবলে একসঙ্গে খেলার সময় থেকেই দুই তারকার সম্পর্ক নিয়ে ফুটবল দুনিয়ায় আলাদা আগ্রহ ছিল।
নেইমার আরও বলেন, মেসির সঙ্গে খেলতে পারা তার জন্য আনন্দের ছিল। মাঠে মেসির মান নিয়ে নতুন করে কিছু বলার নেই, তবে মানুষ হিসেবেও তাকে অনেক শ্রদ্ধা করেন ব্রাজিলিয়ান তারকা। মেসির জন্মদিনের প্রসঙ্গে কথা বলতে গিয়েই নেইমারের এই মন্তব্য আবারও সামনে আনল দুই তারকার ব্যক্তিগত সম্পর্ককে।
মেসিকে নিয়ে নেইমার বলেন, ‘মাঠে সে ভালো, মাঠের বাইরে আরও ভালো। তাই তাকে চেনা, তার সঙ্গে খেলতে পারা আমার জন্য আনন্দের। আমি তাকে খুব ভালোবাসি। সে আমার বড় বন্ধু।’
শুধু মেসি নয়, আর্জেন্টাইন সমর্থকদের কাছ থেকেও পাওয়া ভালোবাসার কথা বলেছেন নেইমার। ব্রাজিল ও আর্জেন্টিনার প্রতিদ্বন্দ্বিতা যতই তীব্র হোক, ব্যক্তিগতভাবে আর্জেন্টিনার মানুষের কাছ থেকে সম্মান ও ভালোবাসা পাওয়ার কথা কৃতজ্ঞতার সঙ্গে উল্লেখ করেছেন তিনি।
আর্জেন্টাইনদের ভালোবাসার কথাও মনে রেখেছেন নেইমার, ‘আর্জেন্টিনার সবাইকে ধন্যবাদ, তারা আমাকে যে ভালোবাসা দেখায়।’
নেইমারের মাঠে ফেরা ব্রাজিলের জন্যও বড় স্বস্তি। দীর্ঘ চোট, পুনর্বাসন এবং শারীরিক সমস্যার পর তাঁকে নিয়ে অনেক প্রশ্ন ছিল। আনচেলত্তির ২৬ সদস্যের দলে তাঁর থাকা নিয়েও একসময় আলোচনা হয়েছিল। তবে ব্রাজিল কোচ শুরু থেকেই তাঁর অভিজ্ঞতা ও মানের ওপর আস্থা রেখেছেন।
স্কটল্যান্ডের বিপক্ষে খুব বেশি সময় পাননি নেইমার। তবে স্থির বল নিয়েছেন, আক্রমণে যুক্ত হওয়ার চেষ্টা করেছেন এবং গোলের সুযোগও পেয়েছেন। তাঁর ডান পায়ের শট ঠেকান স্কটল্যান্ড গোলরক্ষক অ্যাঙ্গাস গান। পুরো ছন্দে ফিরেছেন, এমন দাবি এখনই করা যাবে না। তবে শেষ ৩২-এর আগে মাঠে ফেরাটাই তাঁর জন্য বড় ধাপ।
ব্রাজিল গ্রুপ ‘সি’ শেষ করেছে ৭ পয়েন্ট নিয়ে। মরক্কোর পয়েন্টও ৭, তবে গোল ব্যবধানে এগিয়ে গ্রুপসেরা হয়েছে আনচেলত্তির দল। শেষ ৩২-এ ব্রাজিলের প্রতিপক্ষ হবে গ্রুপ ‘এফ’-এর দ্বিতীয় দল। সেই প্রতিপক্ষ নির্ধারিত হবে নেদারল্যান্ডস, জাপান ও সুইডেনের লড়াই শেষে।
শেষ ৩২-এর আগে ব্রাজিলের জন্য সবচেয়ে বড় পাওয়া ভিনিসিয়ুসের ফর্ম, দলের ছন্দ এবং নেইমারের ফেরা। আর নেইমারের জন্য রাতটি ছিল শুধু মাঠে ফেরার নয়, পুরোনো বন্ধুত্ব ও ভালোবাসার কথাও মনে করিয়ে দেওয়ার। ব্রাজিলের জার্সিতে ৯৮১ দিন পর ফেরার রাতে তাই মেসিকে নিয়ে তাঁর আবেগও আলাদা করে আলোচনায় থাকল।






