চারবারের চ্যাম্পিয়ন জার্মানিকে হারিয়ে নকআউটে ইকুয়েডর

খাদের কিনারায় দাঁড়িয়ে অবিশ্বাস্য এক রূপকথা লিখল ইকুয়েডর। নকআউট পর্বে যেতে হলে চারবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন জার্মানির বিপক্ষে জয় ছাড়া কোনো বিকল্প ছিল না তাদের। ম্যাচের দ্বিতীয় মিনিটেই গোল খেয়ে বসা লাতিন আমেরিকার দলটি সেই খাদের কিনারা থেকেই ঘুরে দাঁড়িয়েছে। শক্তিশালী জার্মানিকে স্তব্ধ করে তুলে নিয়েছে অবিশ্বাস্য এক জয়, যা সেবাস্তিয়ান বেকাসেসের দলকে সরাসরি পৌঁছে দিয়েছে বিশ্বকাপের শেষ ষোলোতে।
যুক্তরাষ্ট্রের নিউজার্সি স্টেডিয়ামে স্থানীয় সময় বৃহস্পতিবার (২৫ জুন) রাতের এই রোমাঞ্চকর ম্যাচে জার্মানিকে ২-১ গোলে হারিয়েছে ইকুয়েডর। ম্যাচের প্রথমার্ধ ১-১ সমতায় কাটলেও দ্বিতীয়োর্ধের দুর্দান্ত পারফরম্যান্সে জয় নিশ্চিত করে মাঠ ছাড়ে লাতিন আমেরিকার প্রতিনিধিরা।
এই জয়ে দীর্ঘ ২০ বছর পর আবারও বিশ্বকাপের দ্বিতীয় রাউন্ডে পা রাখল তারা। একই সঙ্গে বিশ্বকাপের দীর্ঘ ইতিহাসে জার্মানির বিপক্ষে প্রথম জয়ের অনন্য এক রেকর্ডও গড়ল ইকুয়েডর।
এদিন মাঠের খেলা শুরু হতেই ম্যাচের দ্বিতীয় মিনিটে উল্লাসে মাতে জার্মানি। একটি থ্রো-ইনের পর বাম প্রান্তের কর্নারের কাছ থেকে আলেকসান্দার পাভলোভিচের পাস খুঁজে নেয় বক্সে থাকা ফ্লোরিয়ান ভিয়ের্তসকে। ডিফেন্ডারদের জটলার ভেতর থেকে এই মিডফিল্ডারের ছোট পাসে বল পেয়ে নিখুঁত নিচু শটে জাল কাঁপান লেরয় সানে। তবে সেই ধাক্কা সামলে ম্যাচে ফিরতে বিন্দুমাত্র সময় অপচয় করেনি ইকুয়েডর। নবম মিনিটে বক্সের বাইরে থেকে নিলসন আঙ্গুলোর এক বুলেট গতির জোরালো শট জার্মানির জাল খুঁজে নিলে ১-১ সমতায় ফেরে ম্যাচ।
এর ঠিক পাঁচ মিনিট পর জার্মান মিডফিল্ডার ফেলিক্স এনমেচার একটি শট পোস্টঘেঁষে বাইরে চলে যায়। সমতা ফেরানোর পর ইকুয়েডর যেন আরও বিধ্বংসী হয়ে ওঠে, একের পর এক আক্রমণে কাঁপিয়ে দেয় জার্মান রক্ষণভাগকে। পাল্টা আক্রমণ চালায় জার্মানিও। ২৫ মিনিটে কাই হাভার্টজের দুর্দান্ত এক হেড দারুণ দক্ষতায় লাফিয়ে উঠে গ্লাভসবন্দি করেন ইকুয়েডরের গোলরক্ষক হেরনান গালিন্দেস। এরপর প্রথমার্ধের হাইড্রেশন ব্রেক থেকে ফেরার পর জামাল মুসিয়ালার একটি বিপজ্জনক আক্রমণ ইকুয়েডরের ডি-বক্সে চমৎকারভাবে নসাৎ করে দেন ডিফেন্ডার জোয়েল অর্দোনিয়েজ।
বিরতির পর দ্বিতীয়ার্ধে দুই দলের আক্রমণের ধার কিছুটা কমে আসে। তবে ৬২ মিনিটে বক্সের একটু বাইরে থেকে এনার ভ্যালেন্সিয়ার নেওয়া এক দুর্দান্ত ভলি ফিস্ট করে ইকুয়েডরকে গোলবঞ্চিত রাখেন অভিজ্ঞ জার্মান গোলকিপার ম্যানুয়েল নয়্যার। এরপর ৭৬ মিনিটে জার্মানিকে এগিয়ে নেওয়ার সুবর্ণ সুযোগ হাতছাড়া করেন লেরয় সানে। বাম প্রান্ত ধরে একক প্রচেষ্টায় আক্রমণে উঠে ইকুয়েডর গোলরক্ষককে একা পেয়েও তিনি বল মারেন সরাসরি গালিন্দেসের শরীর বরাবর।
সানের এই অবিশ্বাস্য মিসের পরেই যেন ম্যাচের পাশা উল্টে যায়। প্রতি আক্রমণে কেভিন রদ্রিগেজ ভালো পজিশনে বল পেলেও শট নেওয়ার আগেই জার্মান ডিফেন্ডাররা তা ক্লিয়ার করে কর্নার বানিয়ে দেন। তবে সেই কর্নারই কাল হয়ে দাঁড়ায় জার্মানির জন্য। ৭৭ মিনিটে কর্নার থেকে আসা বলে রদ্রিগেজের নিখুঁত অ্যাসিস্টে দুর্দান্ত গোল করে দলকে জয়ের বন্দরে পৌঁছে দেন ইকুয়েডর ফরোয়ার্ড গনজালো প্লাতা। শেষ পর্যন্ত এই ব্যবধান ধরে রেখেই উল্লাসে মাতে লাতিন আমেরিকার দলটি।
এই রোমাঞ্চকর জয়ের পর ৩ ম্যাচে ৪ পয়েন্ট নিয়ে ‘তৃতীয় সেরা’ দল হিসেবে পরবর্তী রাউন্ডের টিকিট নিশ্চিত করেছে ইকুয়েডর। অপরদিকে, এই ম্যাচে হারলেও ৩ ম্যাচে ৬ পয়েন্ট নিয়ে ‘ই’ গ্রুপের চ্যাম্পিয়ন হয়েই নকআউটে পা রেখেছে জার্মানি। একই রাতে এই গ্রুপের অন্য ম্যাচে কুরাসাওকে টুর্নামেন্ট থেকে বিদায় করে সমান ৬ পয়েন্ট নিয়ে গোল ব্যবধানে রানার্সআপ হিসেবে নকআউট পর্ব নিশ্চিত করেছে আইভরি কোস্ট।





