গ্রুপসেরা মেক্সিকো, ইতিহাস গড়ে শেষ ৩২-এ দক্ষিণ আফ্রিকা

এশিয়া পোস্ট স্পোর্টস
গ্রুপসেরা মেক্সিকো, ইতিহাস গড়ে শেষ ৩২-এ দক্ষিণ আফ্রিকা
ছবি: সংগৃহীত

বিশ্বকাপের গ্রুপ ‘এ’-এর শেষ দিনটা হলো মেক্সিকোর দাপট আর দক্ষিণ আফ্রিকার ইতিহাসের দিন। চেক প্রজাতন্ত্রকে ৩-০ গোলে হারিয়ে তিন ম্যাচে তিন জয় নিয়ে গ্রুপসেরা হলো সহ-আয়োজক মেক্সিকো। অন্য ম্যাচে দক্ষিণ কোরিয়াকে ১-০ গোলে হারিয়ে প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপের নকআউট পর্বে উঠল দক্ষিণ আফ্রিকা।

Advertisement

গ্রুপের শেষ রাউন্ডের আগে মেক্সিকোর শেষ ৩২ নিশ্চিত ছিল। তবে চেক প্রজাতন্ত্রের বিপক্ষে তারা কোনো ঢিলেমি দেখায়নি। মেক্সিকো সিটিতে দ্বিতীয়ার্ধে তিন গোল করে ম্যাচ নিজেদের করে নেয় তারা। মাতেও চাভেজ, হুলিয়ান কিনিয়োনেস ও আলভারো ফিদালগোর গোলে ৩-০ ব্যবধানে জয় পায় মেক্সিকো। এই জয়ে ৯ পয়েন্ট নিয়ে গ্রুপ শেষ করল স্বাগতিকদের একটি দল।

মেক্সিকোর জন্য জয়টি শুধু গ্রুপসেরা হওয়ার নয়, আত্মবিশ্বাস বাড়ানোরও। তিন ম্যাচে তিন জয়, তিন ম্যাচেই গোল না খাওয়া, সব মিলিয়ে দারুণ ছন্দে শেষ ৩২-এ যাচ্ছে তারা। বিশ্বকাপে মেক্সিকো সিটির আজতেকা স্টেডিয়ামে তাদের অপরাজিত থাকার ধারাও আরও লম্বা হলো। দেশের মাটিতে এমন শুরু মেক্সিকান সমর্থকদের আশাও বাড়িয়ে দিয়েছে।

চেক প্রজাতন্ত্রের জন্য রাতটি ছিল হতাশার। প্রথম দুই ম্যাচ থেকে মাত্র এক পয়েন্ট পাওয়া ইউরোপীয় দলটির শেষ ম্যাচে জয়ের বিকল্প ছিল না। কিন্তু মেক্সিকোর চাপ ও কার্যকারিতার সামনে তারা দাঁড়াতে পারেনি। এক পয়েন্ট নিয়েই গ্রুপের তলানিতে থেকে বিশ্বকাপ শেষ হলো চেক প্রজাতন্ত্রের।

গ্রুপের অন্য ম্যাচে মন্টেরেতে দক্ষিণ আফ্রিকা লিখল নিজেদের নতুন ইতিহাস। দক্ষিণ কোরিয়ার বিপক্ষে ৬৩ মিনিটে থাপেলো মাসেকোর গোলই ম্যাচের ভাগ্য গড়ে দেয়। সেই গোল ধরে রেখে ১-০ ব্যবধানে জয় পায় হুগো ব্রোসের দল। চার পয়েন্ট নিয়ে গ্রুপের দ্বিতীয় স্থানে উঠে যায় দক্ষিণ আফ্রিকা।

বিশ্বকাপে দক্ষিণ আফ্রিকার জন্য এটি ঐতিহাসিক মুহূর্ত। ১৯৯৮, ২০০২ ও ২০১০ বিশ্বকাপে তারা গ্রুপ পর্ব পেরোতে পারেনি। এবার চতুর্থ বিশ্বকাপ অংশগ্রহণে প্রথমবারের মতো শেষ ৩২ নিশ্চিত করল তারা। পরের পর্বে দক্ষিণ আফ্রিকার প্রতিপক্ষ হবে গ্রুপ ‘বি’-এর দ্বিতীয় দল কানাডা।

দক্ষিণ কোরিয়া বলের দখলে এগিয়ে থেকেও সুযোগ কাজে লাগাতে পারেনি। শুরুতেই কিম মিন-জের হেড গোললাইন থেকে ফিরিয়ে দেন অব্রে মোদিবা। পরে লি কাং-ইনের সুযোগও কাজে লাগেনি। দ্বিতীয়ার্ধে সন হিউং-মিনকে নামিয়েও কাঙ্ক্ষিত গোল পায়নি দক্ষিণ কোরিয়া। দক্ষিণ আফ্রিকার রক্ষণশৃঙ্খলা, গোললাইন থেকে বল সরানো এবং শেষ পর্যন্ত চাপ সামলানোর মানসিকতাই ম্যাচের পার্থক্য গড়ে দেয়।

দক্ষিণ আফ্রিকা ধীরে ধীরে ম্যাচে ঢুকে পড়ে। প্রথমার্ধেই মাসেকো সুযোগ পেয়েছিলেন, তবে শেষ মুহূর্তের ট্যাকলে থামতে হয় তাঁকে। এরপর দ্বিতীয়ার্ধে মোরেমির পাস ধরে বক্সে ঢুকে বাঁ পায়ের নিচু শটে গোল করেন মাসেকো। সেই গোলই দক্ষিণ আফ্রিকাকে ইতিহাসের দরজা খুলে দেয়।

তবে দক্ষিণ কোরিয়ার বিশ্বকাপ এখনই আনুষ্ঠানিকভাবে শেষ নয়। তিন ম্যাচে ৩ পয়েন্ট নিয়ে তারা গ্রুপের তৃতীয় স্থানে শেষ করেছে। ৪৮ দলের নতুন বিশ্বকাপে ১২ গ্রুপের সেরা আট তৃতীয় দল শেষ ৩২-এ যাবে। তাই দক্ষিণ কোরিয়ার আশা এখন অন্য গ্রুপগুলোর ফলের ওপর নির্ভর করছে।

গ্রুপ ‘এ’-এর চূড়ান্ত অবস্থান

 দল ম্যাচ পয়েন্ট গোল ব্যবধান অবস্থা
 মেক্সিকো ৩ ৯ +৬ গ্রুপসেরা, শেষ ৩২ নিশ্চিত
 দক্ষিণ আফ্রিকা ৩ ৪ -১ দ্বিতীয়, শেষ ৩২ নিশ্চিত
 দক্ষিণ কোরিয়া ৩ ৩ -১ সেরা তৃতীয় দলের অপেক্ষায়
 চেক প্রজাতন্ত্র ৩ ১ -৪ বিদায়

শেষ পর্যন্ত গ্রুপ ‘এ’ থেকে সরাসরি শেষ ৩২-এ গেল মেক্সিকো ও দক্ষিণ আফ্রিকা। চেকিয়ার বিশ্বকাপ শেষ হলো। আর দক্ষিণ কোরিয়ার ভাগ্য ঝুলে থাকল সেরা তৃতীয় দলের জটিল অঙ্কে।

গ্রুপের শেষ দিন তাই দুই রকম গল্প রেখে গেল। মেক্সিকো দেখাল স্বাগতিক শক্তি, স্থিরতা ও রক্ষণদৃঢ়তার ছবি। আর দক্ষিণ আফ্রিকা লিখল নিজেদের বিশ্বকাপ ইতিহাসের সবচেয়ে বড় অধ্যায়।