দেড় বছর পর আশুলিয়ায় জনি হত্যার রহস্য উন্মোচন, গ্রেপ্তার ২

এশিয়া পোস্ট প্রতিবেদক
দেড় বছর পর আশুলিয়ায় জনি হত্যার রহস্য উন্মোচন, গ্রেপ্তার ২
গ্রেপ্তারকৃত আসামী মো. সাইফুল ইসলাম। ছবি: এশিয়া পোস্ট

ঢাকার আশুলিয়ায় দেড় বছর আগে পুকুরে ভাসমান অবস্থায় উদ্ধার হওয়া হাসিবুল ইসলাম জনি (২১) হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদঘাটন করেছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)। এ ঘটনায় জড়িত দুই আসামিকে গ্রেপ্তারের পর তারা আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন।

Advertisement

উত্তরার পিবিআই ঢাকা জেলা কার্যালয়ে বৃহস্পতিবার (২৫ জুন) দুপুরে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান পিবিআই এর পুলিশ সুপার (এসপি) এম. এন. মোর্শেদ।

এর আগে গত ১৬ জুন সাভারের আশুলিয়ার মধুপুর এলাকা থেকে মো. শাহজালাল জুয়েলে গ্রেপ্তার করে পিবিআই। পরে তাকে রিমান্ডে আনার পর তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে গত ১৮ জুন একই এলাকায় অভিযান চালিয়ে হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগে মো. সাইফুল ইসলামকে গ্রেপ্তার করে পিবিআই।

গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন, সাভারের ধামরাই উপজেলার পটল গ্রামের আলমগীর সরকারের ছেলে শাহজালাল সরকার এবং রাজবাড়ীর পাংশা থানাধীন উদয়পুর গ্রামের নূর আলী খানের ছেলে সাইফুল ইসলাম।

গ্রেপ্তারের পর শাহজালাল সরকার আদালতে ১৬৪ ধারায় হত্যাকান্ডে জড়িত ছিল মর্মে স্বীকারোক্তি মূলক জবানবন্দি দিয়েছে বলেও জানিয়েছে পিবিআই। বর্তমানে দুই জনেই কারাগারে রয়েছেন।

এর আগে আশুলিয়ার মধুপুর গ্রামের ২০২৪ সালের ১২ ডিসেম্বর হাসিবুল ইসলাম জনি নামের এক যুবককে পিটিয়ে হত্যার ঘটনা ঘটে। এর চারদিন পর মধুপুর গ্রামের একটি পুকুর থেকে নিহতের মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। এ ঘটনায় জনির বাবা শহিদুল ইসলাম বাদী হয়ে আশুলিয়া থানায় অজ্ঞাতনামা ৮/১০ জনের বিরুদ্ধে একটি হত্যা মামলা করেন।

নিহত জনি হলেন, রংপুরের কাউনিয়া থানাধীন হরিণচর লস্কর গ্রামের বাসিন্দা। ওই সময় তিনি আশুলিয়ার মধুপুর গ্রামে থাকতেন।

পিবিআই ঢাকা জেলার এসপি এন এম মোর্শেদ বলেন, হত্যা মামলাটি স্ব-উদ্যোগে অধিগ্রহণ করে পিবিআই ঢাকা জেলা। মামলার তদন্তকালে প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে প্রথমে শাহজালাল জুয়েলকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে সাইফুল ইসলামকে গ্রেপ্তার করা হয়।

হত্যাকাণ্ডের কারণ প্রসঙ্গে গ্রেপ্তারকৃত আসামীদের জিজ্ঞাসাবাদের বরাত দিয়ে এসপি মোর্শেদ বলেন, শাহজালাল, সাইফুল ইসলাম ও তাদের সহযোগীদের সঙ্গে জড়িতরা মাদক ব্যবসার বিরোধ ও দ্বন্দ্বের ক্ষোভের জের ধরে হাসিবুল ইসলাম জনিকে হত্যা করে। পরে মধুপুরের নাজমুল হোসেনের পুকুরে মৃতদেহ ফেলে দেয়।

তিনি বলেন, ঘটনার দিন ভুক্তভোগী জনি ও তার বন্ধু সোহাগ ও রানা ঘটনাস্থলে মাদক সেবন ও বিক্রি করছিল। ওই সময় অন্য মাদক ব্যবসায়ী শাহজালাল ও সাইফুল এবং তাদের সহযোগীরা মাদক ব্যবসাকে কেন্দ্র করে লাঠিসোটা নিয়ে উপস্থিত হয়। ওই সময় জনির বন্ধু সোহাগ ও রানা খান পুকুরে ঝাপ দিয়ে পালিয়ে যায়। পরে জনিকে পিটিয়ে হত্যা করে মৃতদেহ পুকুরে ফেলে দিয়ে শাহজালাল, সাইফুল ও তাদের সহযোগীরা পালিয়ে যায়।

অপরদিকে আসামীদের গ্রেপ্তারের বিষয়ে জানতে চাইলে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ও পিবিআই এর উপ-পরিদর্শক (এসআই) মো. মাহবুব হোসেন এশিয়া পোস্টকে বলেন, ঘটনার সময়ে প্রথমে সিডিআর সংগ্রহ করা হয়। পরবর্তীতে ঘটনাস্থলের প্রত্যক্ষদর্শীদের সঙ্গে কথা বলে শাহজালালকে গ্রেপ্তার করা হয়। তারপর তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে সাইফুলকে গ্রেপ্তার করা হয়। সেই সঙ্গে পলাতক অন্যান্য আসামীদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে।