প্রথমবার নকআউটে আইভরি কোস্ট, বিদায় কুরাসাও

বিশ্বকাপে প্রথম বারের মতো খেলতে আসা দলকে হারিয়ে প্রথমবার নকআউট পর্বে নিজেদের জায়গা করে নিল আইভরি কোস্ট। সমীকরণ সহজই ছিল আইভরি কোস্টের। কুরাসাওয়ের বিপক্ষে জয় পেলে ৩ পয়েন্ট নিয়ে নিশ্চিত হবে নকআউট। তাই তারা করে নিল।
ফিলাডেলফিয়া স্টেডিয়ামে স্থানীয় সময় বৃহস্পতিবার (২৫ জুন) বিশ্বকাপের ‘ই’ গ্রুপে কুরাসাওকে ২-০ গোলে হারিয়েছে আইভরি কোস্ট। দুর্দান্ত এই জয়ের নায়ক নিকোলাস পেপে। ভিয়ারিয়ালের এই অ্যাটাকিং মিডফিল্ডার জোড়া গোল করেছেন।
বিপরীতে ইকুয়েডরের বিপক্ষে ১ পয়েন্ট নিয়েই ঘরে ফিরতে হচ্ছে বিশ্বকাপের নবাগত দল কুরাসাওকে। অভিষেক বিশ্বকাপেই মিশ্র অনুভূতির যাওয়া কুরাসাও নিজেদের প্রথম ম্যাচে লিভানো কোমেনেনসিয়া দেশের হয়ে বিশ্বমঞ্চে প্রথম ঐতিহাসিক গোলটি করে জার্মানির বিপক্ষে সমতা ফিরিয়েছিলেন। তবে শেষ পর্যন্ত সাবেক বিশ্বচ্যাম্পিয়ন জার্মানি শেষ পর্যন্ত ৭-১ গোলের বড় ব্যবধানে ম্যাচটি জিতে নেয়। অবশ্য নিজেদের দ্বিতীয় ম্যাচে অন্য এক আনন্দের দেখা পায় তারা। গোলকিপার এলয় রুমের দুর্দান্ত পারফরম্যান্সের ওপর ভর করে ইকুয়েডরকে ০-০ গোলে রুখে দিয়ে বিশ্বকাপে নিজেদের প্রথম পয়েন্ট তুলে নেয় দলটি।
‘ই’ গ্রুপে ৩ ম্যাচে দুই জয় ও এক হার নিয়ে ৬ পয়েন্ট পাওয়া জার্মানি গ্রুপসেরা হয়ে শেষ ৩২- এ উঠেছে। ২ জয় ও ১ হারে ৬ পয়েন্ট নিয়ে গ্রুপ রানার্সআপ হয়ে নকআউট নিশ্চিত হয়েছে আইভরি কোস্টের। দ্বিতীয় রাউন্ডে তারা মুখোমুখি হবে ‘আই’ গ্রুপের গ্রুপচ্যাম্পিয়ন দলের বিপক্ষে। তাতে ফ্রান্স বা নরওয়ে হবে তাদের প্রতিপক্ষ।
চলতি বিশ্বকাপে নিজেদের জাত ভালোভাবেই চিনিয়েছে আইভরি কোস্ট। নিজেদের প্রথম ম্যাচে ইকুয়েডরের বিপক্ষে ১-০ গোলের জয় পেতে অবশ্য শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হয়েছিল তাদের; ম্যাচের ৯০ মিনিটে বদলি বেঞ্চ থেকে এসে জয়সূচক গোলটি উপহার দেন ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড তারকা আমাদ দিয়ালো। আর গত ম্যাচে অধিনায়ক ফ্রাঙ্ক কেসির গোলে জার্মানির বিপক্ষে ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে গিয়ে সবাইকে চমকে দিয়েছিল তারা। যদিও শেষ পর্যন্ত হার নিয়ে মাঠ ছাড়তে হয় তাদের।
নকআউট নিশ্চিতের ম্যাচে অবশ্য আইভরি কোস্টের চেয়ে শট বেশি নিয়েছে কুরাসাও। মাত্র ৩৭ শতাংশ বল দখলে রেখে ১১টি শট নিয়ে দুইটি লক্ষ্যে রাখে তারা। যেখানে ৭টি শটের তিনটি গোলমুখে ছিল আইভরি কোস্টের।
ম্যাচে লিড নিতে খুব একটা বেশি সময় নেয়নি আইভরি কোস্ট। সপ্তম মিনিটেই কুরাসাও রক্ষণভাগের এক ভুলের সুযোগ নিয়ে বাইলাইন থেকে বল কেড়ে নিয়ে তিনি দারুণভাবে কাট-ব্যাক করেন ডি-বক্সের মাঝে থাকা পেপের উদ্দেশ্যে। আর সেখান থেকে গোলকিপার রুমকে পরাস্ত করে আলতো টোকায় বল জালে জড়াতে কোনো ভুলই করেননি পেপে।
পুরো প্রথমার্ধ জুড়েই বাম প্রান্ত দিয়ে কুরাসাওয়ের রক্ষণে অনবরত ভীতি ছড়িয়েছেন ইয়ান দিওমান্দে, ডি-বক্সের ভেতর সতীর্থদের উদ্দেশ্যে বাড়িয়েছেন বেশ কয়েকটি পাস। তবে ছেড়ে কথা বলেনি কুরাসাও। দূরপাল্লার শটে তাহিত চং গোল করার কাছাকাছি পৌঁছে গিয়েছিলেন। এছাড়া লিয়েন্দ্রো বাকুনার একটি শট সাইড নেটে লাগে।





