পবিত্র আশুরা আজ

এশিয়া পোস্ট নিউজ
পবিত্র আশুরা আজ
প্রতীকী ছবি

আজ ১০ মহররম, শুক্রবার। ঐতিহাসিক এ দিনটি মুসলমানদের জন্য অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। একই সঙ্গে এটি শোকাবহ দিনও।

Advertisement

হিজরি বর্ষের প্রথম মাস মহররমের ১০ তারিখ পবিত্র আশুরা হিসেবেও পরিচিত। আরবি ‘আশারা’ অর্থ দশ। আশুরা মানে দশম। মহররম অর্থ সম্মানিত।

রমজানের রোজা ফরজ হওয়ার আগে আশুরার দিন রোজা রাখা ফরজ ছিল। রমজানের রোজা ফরজ হলে এ দিনের রোজা নফল হয়ে যায়। হজরত মুহাম্মদ (সা.) এ দিন রোজা রাখতেন। তিনি সঙ্গে আরেকদিন রোজা রাখার ইচ্ছা প্রকাশ করেছিলেন। সাহাবিরা আশুরার দিনসহ আগে-পরে আরেক দিন রোজা রাখতেন। আশুরার রোজায় এক বছর আগের গুনাহ মাফ হয়।

ধর্মপ্রাণ মুসলমানরা নফল রোজার পাশাপাশি নামাজ, দান-সদকা ও জিকিরের মধ্য দিয়ে দিনটি পালন করেন। দেশের কোথাও কোথাও আশুরার তাৎপর্য নিয়ে আলোচনা সভা করা হয়।

আল্লাহ তাআলা আশুরার দিন হজরত মুসা (আ.) ও তাঁর জাতিকে (ফেরাউনের কবল থেকে) মুক্তি দিয়েছেন। ফেরাউনকে তার দলবলসহ (দরিয়ায়) নিমজ্জিত করেছেন। হিজরি ৬১ সনের ১০ মহররম সত্য ও ন্যায়ের পক্ষে যুদ্ধ করতে গিয়ে হজরত মুহাম্মদ (সা.)-এর দৌহিত্র হজরত ইমাম হোসেন (রা.) এবং তার পরিবারের সদস্যরা কারবালার প্রান্তরে ফোরাত নদীর তীরে নির্মমভাবে শহীদ হন। এ ঘটনা ইসলামের ইতিহাসে আত্মত্যাগ, সত্যনিষ্ঠ ও ন্যায়ের সংগ্রামের এক অনন্য দৃষ্টান্ত হিসেবে স্মরণীয় হয়ে আছে।

কারবালার এই শোকাবহ ঘটনা ছাড়াও ইসলামের ইতিহাসে ১০ মহররম নানা গুরুত্বপূর্ণ ও তাপর্যময় ঘটনা ঘটেছে।

পবিত্র আশুরা উপলক্ষে পৃথক বাণী দিয়েছেন রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

রাষ্ট্রপতি তার বাণীতে বলেন, ইসলামের ইতিহাসে পবিত্র আশুরা বহু তাৎপর্যপূর্ণ ঘটনার স্মারক হলেও কারবালার প্রান্তরে হজরত ইমাম হোসাইন (রা.) ও তার সঙ্গীদের চরম আত্মত্যাগ আশুরাকে দিয়েছে এক অনন্য মর্যাদা ও গভীর মানবিক আবেদন। সত্য ও ন্যায় প্রতিষ্ঠা এবং ইসলামের সুমহান আদর্শ সমুন্নত রাখার জন্য তাদের এই আত্মদান মানবজাতির ইতিহাসে চির জাগরুক হয়ে থাকবে।

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান তার বাণীতে হজরত ইমাম হোসাইন (রা.)-এর প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। একই সঙ্গে কারবালার মর্মন্তুদ ঘটনায় শাহাদাতবরণকারী তার পরিবারের সদস্য ও সঙ্গীদের পবিত্র স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা জানান।

এই শোকাবহ দিনে বাংলাদেশসহ বিশ্বের মুসলিম জাতির প্রতিও গভীর সমবেদনা প্রকাশ করেন তিনি।