মেসির অবিশ্বাস্য ফ্রি-কিকে জর্ডানকে ৩-১ গোলে হারাল আর্জেন্টিনা

এশিয়া পোস্ট স্পোর্টস
মেসির অবিশ্বাস্য ফ্রি-কিকে জর্ডানকে ৩-১ গোলে হারাল আর্জেন্টিনা
লিওনেল মেসি। ছবি: সংগৃহীত

0ম্যাচটা ছিল সুযোগ পাওয়াদের জন্য। লিওনেল মেসি বেঞ্চে, একাদশে জুলিয়ান আলভারেজ, নিকো পাজ, জিওভানি লো সেলসো, এক্সেকিয়েল পালাসিওসরা। কিন্তু শেষ পর্যন্ত গল্পটা আবার মেসিরই হলো। মাত্র আধঘণ্টা খেলেই গোল করলেন আর্জেন্টিনা অধিনায়ক, গড়লেন আরেক বিশ্বকাপ রেকর্ড এবং জর্ডানের বিপক্ষে ৩-১ গোলের জয়েও সবচেয়ে বড় শিরোনাম হয়ে থাকলেন তিনিই।

Advertisement

আর্জেন্টিনার জন্য ম্যাচটি ছিল চাপমুক্ত। গ্রুপ ‘জে’-এর শীর্ষস্থান আগেই নিশ্চিত। সামনে শেষ ৩২-এ কেপ ভার্দে। তাই লিওনেল স্কালোনি মূল একাদশে বড় পরিবর্তন আনেন। মেসি শুরু করেন বেঞ্চে। সুযোগ পান আলভারেজ, নিকো পাজ, লো সেলসো, পালাসিওসরা। বিশেষ করে আলভারেজের দিকে নজর ছিল বেশি। এমন ম্যাচে গোল পেলে বা বড় প্রভাব রাখতে পারলে নকআউটের আগে তার আত্মবিশ্বাস আরও বাড়ত।

আলভারেজের রাতটা অবশ্য পুরোপুরি নিজের করে নেওয়া হলো না। দৌড়, পরিশ্রম ও জায়গা খোঁজার চেষ্টা ছিল, তবে শেষ পাস ও ফিনিশিংয়ে প্রত্যাশিত ধার দেখা যায়নি। লাউতারো মার্তিনেজের সঙ্গে জুটি বেঁধে শুরু করলেও গোলের সামনে নিজের উপস্থিতিকে বড় ঘটনায় বদলাতে পারেননি তিনি। তবে তার মুভমেন্ট থেকেই প্রথমার্ধে পেনাল্টি আদায় করে আর্জেন্টিনা।

অন্যদিকে নিকো পাজ কিছু ঝলক দেখিয়েছেন। বল পায়ে তার আত্মবিশ্বাস ছিল, জায়গা নেওয়ার বুদ্ধি ছিল, ডান দিক দিয়ে কয়েকবার আক্রমণে গতি এনে দিয়েছেন। তবু ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নিজের হাতে নেওয়ার মতো প্রভাব তারও ছিল না। আর্জেন্টিনার রোটেশন একাদশ সামগ্রিকভাবে বল দখলে আধিপত্য করলেও শেষ পর্যন্ত ব্যক্তিগত আলো কেড়ে নেন মেসিই।

তার আগে ম্যাচের প্রথম বড় গল্প লেখেন লো সেলসো। ৭ মিনিটে তার একটি গোল অফসাইডে বাতিল হয়। তবে ১৯ মিনিটে আর থামানো যায়নি। বক্সের বাইরে ফ্রি-কিক আদায় করেন তিনি নিজেই। এরপর বাঁ পায়ের নিখুঁত শটে বল পাঠান জালে। মেসি না থাকলে আর্জেন্টিনার ফ্রি-কিক কে নেবে, সেই প্রশ্নের সুন্দর উত্তর দেন লো সেলসো।

চলতি বিশ্বকাপে আর্জেন্টিনার প্রথম পাঁচ গোলই করেছিলেন মেসি। তাই লো সেলসোর গোলের আলাদা গুরুত্ব ছিল। মেসির বাইরে এই আসরে আর্জেন্টিনার প্রথম গোল এল তার পা থেকে। চোটের কারণে ২০২২ বিশ্বকাপ মিস করা লো সেলসোর জন্য মুহূর্তটিও ছিল বিশেষ।

৩১ মিনিটে ব্যবধান দ্বিগুণ করে আর্জেন্টিনা। জুলিয়ান আলভারেজকে ক্লিয়ার করতে গিয়ে বক্সে মুখে আঘাত করেন জর্ডানের এহসান হাদ্দাদ। ভিএআর দেখে রেফারি পেনাল্টি দেন। স্পটকিক থেকে গোল করেন লাউতারো মার্তিনেজ। বিশ্বকাপে তার প্রথম গোল। দীর্ঘ অপেক্ষার পর পাওয়া গোলটি লাউতারোর জন্যও রাতটাকে গুরুত্বপূর্ণ করে তোলে।

প্রথমার্ধে ২-০ ব্যবধানে এগিয়ে থাকা আর্জেন্টিনা দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতে কিছুটা চাপ অনুভব করে। ৫৫ মিনিটে জর্ডানের হয়ে গোল করেন মুসা আল তামারি। জর্ডান ফুটবলের বড় মুখ হিসেবে পরিচিত এই ফরোয়ার্ডের গোল ম্যাচে সাময়িক উত্তেজনা ফিরিয়ে আনে। স্কোরলাইন হয় ২-১।

ঠিক তখনই মাঠে আসেন মেসি। ৬০ মিনিটে লাউতারোর বদলি হিসেবে নামতেই ডালাস স্টেডিয়ামে গর্জন ওঠে। ম্যাচের চরিত্রও বদলে যায়। আর্জেন্টিনা আগের মতোই বল রাখছিল, কিন্তু মেসির উপস্থিতি আক্রমণে আলাদা ভার এনে দেয়।

৮০ মিনিটে আসে সেই মুহূর্ত। বক্সের বাইরে ফ্রি-কিক পায় আর্জেন্টিনা। থিয়াগো আলমাদার ড্রিবল থেকে তৈরি হওয়া আক্রমণের ধারাবাহিকতায় সুযোগটা আসে। মেসি দাঁড়ান বলের পেছনে। এরপর বাঁ পায়ের নিচু শটে দেয়াল ঘুরিয়ে বল পাঠান জালে। গোলরক্ষক নড়ার আগেই বল চলে যায় নিচের কোণে।

এটি চলতি বিশ্বকাপে মেসির ষষ্ঠ গোল, বিশ্বকাপে সব মিলিয়ে তার ১৯তম। সবচেয়ে বড় কথা, এই গোলেই তিনি বিশ্বকাপে টানা সাত ম্যাচে গোল করা প্রথম ফুটবলার হন। ফ্রান্সের জাস্ট ফঁতেন ও ব্রাজিলের জাইরজিনিয়োর টানা ছয় ম্যাচে গোলের রেকর্ড ছাড়িয়ে গেলেন তিনি।

মেসির রাতটা তাই আবারও রেকর্ডের। অথচ তিনি খেললেন মাত্র আধঘণ্টা। শুরু থেকে না খেলেও ম্যাচের সবচেয়ে স্মরণীয় মুহূর্ত তার। যে ম্যাচে রোটেশন একাদশের খেলোয়াড়দের নিজেদের দাবি জানানোর সুযোগ ছিল, সেই ম্যাচেও শেষ পর্যন্ত আলোটা চলে গেল মেসির দিকে।

আর্জেন্টিনার জন্য জয়টি নিখুঁত গ্রুপ পর্বের শেষ অধ্যায়। তিন ম্যাচে তিন জয়, নকআউটের আগে রোটেশন একাদশের পরীক্ষা, লো সেলসো ও লাউতারোর গোল, আর মেসির রেকর্ড। তবে স্কালোনির ভাবনার জায়গাও আছে। বিকল্পরা সুযোগ পেলেও সবাই সমানভাবে আলো ছড়াতে পারেননি। আলভারেজের মতো খেলোয়াড়ের কাছ থেকে আর্জেন্টিনা আরও বেশি প্রভাব আশা করবে।