পাকিস্তানে কোচিং সেন্টারের ছাদ ধসে ১৪ শিশুর মৃত্যু

এশিয়া পোস্ট ডেস্ক
পাকিস্তানে কোচিং সেন্টারের ছাদ ধসে ১৪ শিশুর মৃত্যু
লাহোরে দুর্ঘটনাস্থলে অ্যাম্বুলেন্স ও উদ্ধারকর্মীদের তৎপরতা। ছবি: সংগৃহীত

পাকিস্তানের লাহোরে একটি বেসরকারি কোচিং সেন্টারের ছাদ ধসে পড়ে ১৪ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। লাহোর শহরের কাহনা শহরতলিতে মঙ্গলবার (৩০ জুন) এই দুর্ঘটনা ঘটে।

Advertisement

কর্মকর্তাদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ধ্বংসস্তূপের নিচ থেকে উদ্ধার করা শিশুদের অধিকাংশের বয়স সাত থেকে ১১ বছর। এরমধ্যে ১০ বছরের কম বয়সি শিশুরাও রয়েছে। এই ঘটনায় পুরো এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে।

জরুরি উদ্ধারকারী সংস্থা রেসকিউ ১১২২-এর মুখপাত্র ফারুক আহমেদ সংবাদমাধ্যম বিবিসিকে জানান, তারা মঙ্গলবার বিকেল ৪টা ৪৫ মিনিটে এই দুর্ঘটনার খবর পান। খবর পাওয়ার এক ঘণ্টার মধ্যে উদ্ধার অভিযান সম্পন্ন করা হয়।

ধ্বংসস্তূপ থেকে ১৪টি শিশুর মরদেহ উদ্ধারের পাশাপাশি আরও পাঁচজন আহত হয়েছেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। এই ছাদ ধসের ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে কর্তৃপক্ষ। প্রাথমিক তদন্তের অংশ হিসেবে ইতোমধ্যে দুজনকে হেফাজতে নেওয়া হয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দাদের বরাতে দুর্ঘটনার পেছনে ভবন কর্তৃপক্ষের চরম অবহেলার চিত্র উঠে এসেছে।

ভুক্তভোগীদের মধ্যে নিজের ভাতিজি রয়েছে উল্লেখ করে ৪৫ বছর বয়সি জহির নামের এক ব্যক্তি বার্তা সংস্থা এএফপি-কে জানান, ভবনটির ছাদের অবস্থা আগে থেকে খুবই জরাজীর্ণ ছিল।

তিনি আরও বলেন, শিশুরা যখন ভেতরে পড়াশোনা করছিল, তখন ছাদের টাইলস মেরামতের কাজ চলছিল। মেরামত কাজের জন্য তারা ছাদের ওপর অনেক বেশি ভারি ওজনের জিনিসপত্র রেখেছিল। মূলত সে কারণে ছাদটি শিশুদের ওপর ধসে পড়ে।

এই অনাকাঙ্ক্ষিত মৃত্যুতে স্তব্ধ প্রতিবেশীরাও। বার্তা সংস্থা এপিকে বলেন, আমরা বুঝতে পারছি না যে, শিশুদের হারানোর শোকে সান্ত্বনা জানাতে প্রথমে কার বাড়িতে যাব।

ভয়াবহ এই ঘটনার পর পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফ এক বিবৃতিতে গভীর শোক প্রকাশ করেছেন। প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের পক্ষ থেকে দেওয়া বার্তায় তিনি বলেন, তিনি আহতদের দ্রুত সুস্থতা কামনা করেছেন এবং তাদের সম্ভাব্য সব ধরনের চিকিৎসা সহায়তা দেওয়ার জন্য কর্তৃপক্ষকে নির্দেশ দিয়েছেন।

অন্যদিকে, পাঞ্জাবের মুখ্যমন্ত্রী মরিয়ম নওয়াজ শরিফ এ ঘটনাকে একটি ‘ট্র্যাজেডি’ বলে অভিহিত করেছেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স-এ শেয়ার করা এক বার্তায় তিনি বলেন, ১৪টি নিষ্পাপ প্রাণের অকাল মৃত্যু এক অপূরণীয় ক্ষতি। শোকসন্তপ্ত পরিবারগুলোর প্রতি আমার আন্তরিক সমবেদনা।

সেই সঙ্গে দায়ীদের বিরুদ্ধে কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়ে তিনি আরও বলেন, এই ঘটনার জন্য দায়ী প্রত্যেক ব্যক্তিকে আইনের মুখোমুখি হতে হবে।