কানাডার দাবানলের ধোঁয়ায় ক্ষুব্ধ ট্রাম্প, অতিরিক্ত শুল্কারোপের হুমকি

কানাডার দাবানলের ধোঁয়া সীমান্ত পেরিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের একাধিক শহরের আকাশ ঢেকে গেছে। এতে কানাডা সরকারকে দায়ী করেছে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। এর জেরে কানাডার ওপর রপ্তানি বাণিজ্যে অতিরিক্ত শুল্কারোপের হুমকি দিয়েছেন তিনি। শুক্রবার (১৭ জুলাই) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে এ হুঁশিয়ারি দেন ট্রাম্প।
সংবাদমাধ্যম আলজাজিরার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, কানাডা জুড়ে প্রায় ৮৯৬টি দাবানল সক্রিয় রয়েছে। এরমধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের সীমন্তবর্তী প্রদেশ শুধু ওন্টারিতেই ২০০টির মতো দাবানল দেখা গেছে। দাবানলগুলোর ধোঁয়ার কারণে উত্তর আমেরিকার বড় শহরগুলোর বায়ুর মান ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।
এ নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে ট্রাম্প তার পোস্টে লেখেন, কানাডা তাদের বনভূমি এবং ঝোপঝাড় সঠিকভাবে রক্ষণাবেক্ষণ করছে না। যুক্তরাষ্ট্র অপ্রয়োজনীয়ভাবে নোংরা, দূষিত এবং অস্বাস্থ্যকর বাতাস দ্বারা আক্রান্ত হচ্ছে, যা অত্যন্ত বিপজ্জনক এবং সম্পূর্ণ অনভিপ্রেত!
তিনি এ ঘটনাকে কানাডা সরকারের ‘ইচ্ছাকৃত অবহেলা’ হিসেবে আখ্যা দিয়ে বলেন, এর ফলে যুক্তরাষ্ট্রের শত কোটি ডলারের ক্ষতি হচ্ছে এবং এই ক্ষতিপূরণ উসুল করতে কানাডার ওপ যে শুল্ক আরোপিত আছে, তার সঙ্গে অতিরিক্ত শুল্ক যোগ করা হবে। এ বিষয়ে তিনি কানাডার প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নির সঙ্গে কথা বলবেন বলেও জানান।
ট্রাম্প দাবি করেন, বনভূমি থেকে আবর্জনা ও শুকনো পাতা পরিষ্কার না করায় প্রতি বছর কানাডায় এমন বিপর্যয় ঘটছে। তবে জলবায়ু বিজ্ঞানী ও বিশেষজ্ঞরা ট্রাম্পের এই দাবির সঙ্গে একমত নন।
বিজ্ঞানীদের মতে, জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে সৃষ্ট তীব্র গরম, অনাবৃষ্টি এবং দীর্ঘস্থায়ী খরাই উত্তর আমেরিকায় দাবদাহের সংখ্যা ও ভয়াবহতা বাড়ার মূল কারণ।
ট্রাম্প অবশ্য এর আগেও বিভিন্ন সময়ে দাবদাহের জন্য বিরোধী মতাদর্শের রাজনীতিকদের অদক্ষতাকে দায়ী করেছেন। ২০১৫ সালেও ক্যালিফোর্নিয়ার দাবদাহের জন্য তিনি সেখানকার গভর্নরের পানি নীতিকে দায়ী করেছিলেন।
এমনকি প্রথম মেয়াদে প্রেসিডেন্ট থাকাকালীন তিনি পরামর্শ দিয়েছিলেন, দাবদাহ রুখতে বন ‘ঝাড়ু’ দিয়ে পরিষ্কার রাখা উচিত।
কানাডার ওন্টারিও প্রদেশের প্রিমিয়ার (মুখ্যমন্ত্রী) ডাগ ফোর্ড জানিয়েছেন, দাবদাহের কারণে ইতোমধ্যে ১০টি আদিবাসী গোষ্ঠীঅধ্যুষিত এলাকা থেকে বাসিন্দাদের সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। সংকট মোকাবিলায় ম্যাসাচুসেটস ও মিনেসোটার মতো মার্কিন অঙ্গরাজ্যগুলো কানাডাকে সহায়তা করছে।
ফোর্ড বলেন, প্রতিবেশীরা সবসময় একে অপরের পাশে দাঁড়ায়। তবে এই ধোঁয়ার কারণে চলতি সপ্তাহের শেষে নিউ জার্সিতে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬-এর ফাইনাল ম্যাচ আয়োজন নিয়ে গভীর উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
সমপ্রতি নিউইয়র্ক টাইমস এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে, খোদ ট্রাম্প প্রশাসনই সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের দাবদাহ সংক্রান্ত গবেষণা এবং ধোঁয়ার স্বাস্থ্যঝুঁকি নিয়ে কাজ করা ল্যাবরেটরিগুলোর বাজেট কমিয়ে দিয়েছে, যা নিয়ে দেশের ভেতরেই সমালোচনা চলছে।
.png)






