এফ-৩৫ যুদ্ধবিমানের নতুন লক্ষ্ম্যমাত্রা নির্ধারণ যুক্তরাষ্ট্রের

এশিয়া পোস্ট ডেস্ক
এফ-৩৫ যুদ্ধবিমানের নতুন লক্ষ্ম্যমাত্রা নির্ধারণ যুক্তরাষ্ট্রের
যুক্তরাষ্ট্রের অত্যাধুনিক এফ-৩৫ যুদ্ধবিমান। ছবি: সংগৃহীত

আগামী ২০৩০ সালের মধ্যে বহরে থাকা অত্যাধুনিক এফ-৩৫ স্টিলথ যুদ্ধমিবান অন্তত ৮০ শতাংশ সার্বক্ষণিক প্রস্তুত রাখার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা সদরদপ্তর পেন্টাগন। তবে এই যুদ্ধবিমান বহরের দ্রুত বৃদ্ধির তুলনায় এর রক্ষণাবেক্ষণ ও রসদ সরবরাহ ব্যবস্থা এখনও বেশ পিছিয়ে রয়েছে বলে সতর্ক করা হয়েছে।

Advertisement

মঙ্গলবার (২৩ জুন) যুক্তরাষ্ট্রের সিনেটের আর্মড সার্ভিসেস কমিটির সামনে শুনানিতে অংশ নিয়ে এই তথ্য জানান দেশটির উচ্চপদস্থ সামরিক কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট জেনারেল গ্রেগরি মাসিয়েলো। বার্তা সংস্থা আনাদোলুর প্রতিবেদনে এ খবর জানা গেছে।

এফ-৩৫ বিমানকে যুক্তরাষ্ট্র ও মিত্র দেশগুলোর সামরিক শক্তির মূল ‘ভিত্তিপ্রস্তর’ হিসেবে উল্লেখ করে গ্রেগরি মাসিয়েলো জানান, বর্তমানে বিশ্বজুড়ে ৪২টি সামরিক ঘাঁটিতে এবং ২৩টি বিমানবাহী রণতরিতে এই যুদ্ধবিমান মোতায়েন রয়েছে। এর মধ্যে ১০টি রণতরি আমেরিকার এবং বাকি ১৩টি পরিচালনা করছে মিত্র দেশগুলো।

জেনারেল মাসিয়েলো আইনপ্রণেতাদের জানান, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বহু সামরিক অভিযানে অত্যন্ত সফলভাবে এই যুদ্ধবিমান ব্যবহার করা হয়েছে। বিশেষ করে, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলি যৌথ হামলায় ইরানের বিরুদ্ধে শুরু হওয়া যুদ্ধেও এই বিমানগুলো অংশ নেয়।

এর বিশেষ কার্যকারিতা উল্লেখ করে তিনি বলেন, অন্য কোনো বিমান যেখানে পৌঁছাতে বা আঘাত করতে পারে না, এই বিমানটি সেখানে নিখুঁতভাবে আঘাত হানতে পারে এবং এটি আকাশের সবকিছু দেখতে পায়।

তবে এই যুদ্ধবিমানের সংখ্যা যেভাবে বাড়ছে, সেই তুলনায় এর লজিস্টিকস ও পার্টস সরবরাহ ব্যবস্থা উন্নত না হওয়ায় যুদ্ধপ্রস্তুতিতে বড় ঘাটতি দেখা দিচ্ছে। মাসিয়েলো বলেন, আমাদের বর্তমান লজিস্টিকস ব্যবস্থা ৭০০ থেকে ৮০০টি বিমানের রক্ষণাবেক্ষণের জন্য তৈরি করা হয়েছিল। কিন্তু বর্তমানে বিশ্বব্যাপী ১ হাজার ৩০০টিরও বেশি এফ-৩৫ বিমান যুক্তরাষ্ট্র ও মিত্র সরকারগুলোর কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। বিমান বহরের সংখ্যার সঙ্গে এই ব্যবস্থার অমিল আমাদের সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ।

তিনি আরও জানান, আগামী দিনে মিত্র দেশগুলোর কাছে এই যুদ্ধবিমানের সংখ্যা বেশি থাকবে। উদাহরণ হিসেবে তিনি বলেন, আগামী কয়েক বছরের মধ্যে ইউরোপের বিভিন্ন দেশে প্রায় ৮০০টি এফ-৩৫ বিমান ছড়িয়ে থাকবে, যার মধ্যে আমেরিকার বিমান থাকবে মাত্র ১০ শতাংশের কম।

সম্প্রতি মার্কিন গভর্নমেন্ট অ্যাকাউন্টেবিলিটি অফিস (জিএও)-এর একটি প্রতিবেদনে এফ-৩৫ বহরের বেহাল দশা উঠে এসেছে। প্রতিবেদনে বলা হয়, অতিরিক্ত রক্ষণাবেক্ষণ খরচ ও খুচরা যন্ত্রাংশের সংকটের কারণে গত বছর আমেরিকার এফ-৩৫ বিমানগুলোর মাত্র ২৫ শতাংশ সম্পূর্ণ মিশনের জন্য প্রস্তুত ছিল। আর পুরো বহরের সামগ্রিক কার্যকারিতার হার নেমে এসেছে মাত্র ৪৪ শতাংশে। এই পরিস্থিতির উত্তরণ ঘটিয়ে ২০৩০ সালের মধ্যে কার্যকারিতার হার ৮০ শতাংশে উন্নীত করা এখন পেন্টাগনের মূল লক্ষ্য।