আক্তারুল আলম ছিলেন সত্য ও স্বাধীনতার পক্ষে নির্ভীক কণ্ঠস্বর: মঈন খান

এশিয়া পোস্ট প্রতিবেদক
আক্তারুল আলম ছিলেন সত্য ও স্বাধীনতার পক্ষে নির্ভীক কণ্ঠস্বর: মঈন খান
ছবি: সংগৃহীত

সাংবাদিক, লেখক ও কূটনীতিক আক্তারুল আলম ছিলেন সত্য, ন্যায় ও স্বাধীনতার পক্ষে একজন নির্ভীক কণ্ঠস্বর বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. আব্দুল মঈন খান। তিনি বলেন, প্রতিবাদী চরিত্রের কারণে আক্তারুল আলম কখনো আপসকামী ছিলেন না। ১৯৭১ সালে পাকিস্তানি বাহিনীর দমন–পীড়নের বিরুদ্ধে অবস্থান নেওয়ায় তাকে বন্দিও হতে হয়েছিল।

Advertisement

বুধবার (২৪ জুন) জাতীয় প্রেস ক্লাবে আক্তারুল আলমের স্মরণসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন মঈন খান।

আক্তারুল আলমের সাংবাদিকতা জীবনের প্রসঙ্গ তুলে মঈন খান বলেন, এমন একটি সময় ছিল যখন সত্য কথা লিখতে সাংবাদিকদের জন্য নিজ নামে লেখা ঝুঁকিপূর্ণ ছিল। সে কারণে আক্তারুল আলম ‘লুব্ধক’ ছদ্মনামে লিখতেন। তিনি বলেন, ‘লুব্ধক’ শুধু একটি ছদ্মনাম নয়, এটি ছিল অন্যায়ের বিরুদ্ধে প্রতিবাদের এক সাহসী অবস্থান।

মঈন খান বলেন, রংপুরের মিঠাপুকুরে ১৯৩৯ সালে জন্ম নেওয়া আক্তারুল আলম পরবর্তী সময়ে সাংবাদিকতা, সাহিত্য ও কূটনীতির জগতে নিজস্ব অবস্থান তৈরি করেছিলেন। তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাংবাদিকতা বিভাগের প্রথম ব্যাচের শিক্ষার্থীদের একজন ছিলেন। কর্মজীবনের শুরুতে তিনি দৈনিক আজাদে কাজ করেন। পরে মাসিক মোহাম্মদীর ভারপ্রাপ্ত সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করেন। একসময় পয়গাম পত্রিকার সঙ্গেও যুক্ত ছিলেন। পরবর্তী সময়ে তিনি আবার আজাদে ফিরে যান এবং পরে ইত্তেফাকের উপদেষ্টা সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।

১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের সময় আক্তারুল আলমের ভূমিকার কথা উল্লেখ করে মঈন খান বলেন, পাকিস্তানি বাহিনীর বর্বরতার বিরুদ্ধে তিনি সরাসরি প্রতিবাদ করেছিলেন। সে কারণে তাকে ক্যান্টনমেন্টে বন্দি করা হয়েছিল। তিনি ছিলেন স্বাধীনতার পক্ষের একজন দৃঢ় অবস্থানের মানুষ।

আক্তারুল আলমের লেখালেখির মূল্যায়ন করে বিএনপির এই নেতা বলেন, তিনি সামাজিক ও রাজনৈতিক বাস্তবতা নিয়ে লিখতেন। তার লেখায় উদারচেতা দৃষ্টিভঙ্গি ও বাস্তবতার প্রতিফলন ছিল। দেশীয় রাজনীতির পাশাপাশি আন্তর্জাতিক সম্পর্ক, ভূরাজনীতি, কূটনীতি ও বৈদেশিক অর্থনীতি নিয়েও তিনি নিয়মিত লিখতেন।

মঈন খান বলেন, আক্তারুল আলমের দক্ষতা শুধু সাংবাদিকতার মধ্যেই সীমাবদ্ধ ছিল না। তার আন্তর্জাতিক বিষয়ক জ্ঞান ও বিশ্লেষণী সক্ষমতার স্বীকৃতি হিসেবে তাকে বাহরাইনে বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত নিয়োগ করা হয়েছিল। ১৯৯২ থেকে ১৯৯৬ সাল পর্যন্ত তিনি ওই দায়িত্ব পালন করেন এবং সফলতার সঙ্গে দায়িত্ব সম্পন্ন করেন।

আক্তারুল আলমের সাহিত্যকর্মের প্রসঙ্গ তুলে তিনি বলেন, তার রচিত ও অনূদিত বইয়ের সংখ্যা ৩৩টি। এসব বইয়ের অধিকাংশই গবেষণাধর্মী এবং বাংলাদেশের খ্যাতিমান প্রকাশনা প্রতিষ্ঠানগুলো থেকে প্রকাশিত হয়েছে।

অনুষ্ঠানে মঈন খান আক্ষেপ করে বলেন, আক্তারুল আলমের মতো একজন গুণী মানুষের জীবন ও কর্ম নিয়ে আরও বেশি আলোচনা হওয়া উচিত ছিল। তিনি বলেন, গুণী মানুষকে যথাযথ সম্মান জানাতে পারলে শুধু ব্যক্তি নয়, জাতিও সম্মানিত হয়।

এ সময় আরও উপস্থিত ছিলেন বিএনপির চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা এড সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেনের আলালসহ প্রমুখ।