কিউইদের ৩৬ বছরের অপেক্ষার অবসান ঘটালেন হেনরি

টেস্ট র্যাঙ্কিংয়ে নিউজিল্যান্ডের ৩৬ বছরের অপেক্ষা শেষ করলেন ম্যাট হেনরি। আইসিসির সর্বশেষ হালনাগাদে ভারতের জাসপ্রীত বুমরাহর সঙ্গে যৌথভাবে টেস্ট বোলারদের র্যাঙ্কিংয়ের শীর্ষে উঠেছেন কিউই পেসার। একই আপডেটে টেস্ট ব্যাটারদের র্যাঙ্কিংয়ে আবারও এক নম্বর জায়গা ফিরে পেয়েছেন ইংল্যান্ডের জো রুট।
দ্য ওভালে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে দ্বিতীয় টেস্টে দুর্দান্ত বোলিংয়ের পুরস্কার পেয়েছেন হেনরি। ম্যাচে ১১ উইকেট নেন তিনি। তার সেই পারফরম্যান্সেই নিউজিল্যান্ড ২৫৩ রানের বড় জয় পেয়ে তিন ম্যাচের বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপ সিরিজে ১-১ সমতা ফেরায়। সেই ম্যাচের পর র্যাঙ্কিংয়ে উঠে এসে ৮৭০ রেটিং পয়েন্টে বুমরাকে ছুঁয়েছেন হেনরি।
নিউজিল্যান্ডের ক্রিকেট ইতিহাসে এটি বড় ঘটনা। হেনরি মাত্র তৃতীয় নিউজিল্যান্ড বোলার হিসেবে টেস্ট বোলারদের র্যাঙ্কিংয়ের শীর্ষে উঠলেন। তার আগে এই জায়গায় উঠেছিলেন জ্যাক কাউই ও রিচার্ড হ্যাডলি। হ্যাডলি সর্বশেষ ১৯৮৪ থেকে ১৯৯০ সালের মধ্যে শীর্ষে ছিলেন। এরপর ৩৬ বছর ধরে কোনো নিউজিল্যান্ড বোলার টেস্ট বোলিং র্যাঙ্কিংয়ের এক নম্বরে উঠতে পারেননি।
হেনরির ৮৭০ রেটিং পয়েন্টও নিউজিল্যান্ড ক্রিকেটে বিশেষ জায়গা পেয়েছে। বোলারদের মধ্যে তার চেয়ে বেশি পয়েন্টে উঠেছিলেন শুধু রিচার্ড হ্যাডলি, যিনি ১৯৮৫ সালে ৯০৯ পয়েন্টে পৌঁছেছিলেন। ব্যাটারদের মধ্যে ২০২১ সালে কেন উইলিয়ামসন ৯১৯ রেটিং পয়েন্টে উঠেছিলেন। অর্থাৎ ব্যাটিং-বোলিং মিলিয়ে নিউজিল্যান্ড ক্রিকেটে হেনরির বর্তমান পয়েন্ট ছাপিয়ে গেছেন শুধু হ্যাডলি ও উইলিয়ামসন।
অন্যদিকে জো রুট আবারও টেস্ট ব্যাটারদের র্যাঙ্কিংয়ের শীর্ষে ফিরেছেন। নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে ওভাল টেস্টে ইংল্যান্ড হারলেও রুট দুই ইনিংসে করেন ৪৬ ও ৭৭। এই পারফরম্যান্স তাকে দুই ধাপ এগিয়ে দেয়। তিনি ছাড়িয়ে গেছেন সতীর্থ হ্যারি ব্রুক ও অস্ট্রেলিয়ার ট্রাভিস হেডকে। ক্যারিয়ারে এ নিয়ে ১২তমবার টেস্ট ব্যাটারদের এক নম্বরে উঠলেন রুট।
গত দেড় বছরে রুট ও ব্রুকের মধ্যে শীর্ষস্থান নিয়ে লড়াই বারবার বদলেছে। ইয়র্কশায়ারের এই দুই ব্যাটার ১৮ মাসে ছয়বার র্যাঙ্কিংয়ের এক নম্বর জায়গা নিজেদের মধ্যে হাতবদল করেছেন। অভিজ্ঞ রুটের জন্য তাই এটি শুধু আরেকটি র্যাঙ্কিং আপডেট নয়, নিজের দীর্ঘস্থায়ী মানের আরেকটি প্রমাণ।
নিউজিল্যান্ডের ব্যাটারদেরও র্যাঙ্কিংয়ে উন্নতি হয়েছে। রাচিন রবীন্দ্র আবার শীর্ষ দশে ফিরেছেন। ড্যারিল মিচেল, গ্লেন ফিলিপস ও হেনরি নিকোলসও এগিয়েছেন। ওভালে ব্যাট হাতে অবদান রাখার পর কিউইদের জন্য র্যাঙ্কিং আপডেটটি প্রায় পুরোপুরিই সুখবর হয়ে এসেছে।
ওয়ানডে র্যাঙ্কিংয়েও বড় পরিবর্তন আছে। আফগানিস্তানের বিপক্ষে সিরিজে দারুণ পারফরম্যান্সের পর ভারতের শুভমান গিল তিন ধাপ এগিয়ে ওয়ানডে ব্যাটারদের র্যাঙ্কিংয়ে দুই নম্বরে উঠেছেন। সিরিজসেরা হওয়া গিল তিন ম্যাচে করেছেন ২৩৮ রান। শীর্ষে থাকা নিউজিল্যান্ডের ড্যারিল মিচেলের চেয়ে এখন তিনি ২৪ রেটিং পয়েন্ট পিছিয়ে।
A historic bowling effort from Matt Henry powered New Zealand to victory over England 💪#WTC27 📝: https://t.co/twd3kaEXu3 pic.twitter.com/yuFrsFQc6m
— ICC (@ICC) June 22, 2026
ভারতের ইশান কিশান ও যশস্বী জয়সওয়ালও ওয়ানডে ব্যাটারদের তালিকায় বড় লাফ দিয়েছেন। ইশান ২১ ধাপ এগিয়ে যৌথভাবে ৪৩তম স্থানে, জয়সওয়াল ৮৪ ধাপ এগিয়ে ৭১তম স্থানে উঠেছেন। আফগানিস্তানের অধিনায়ক হাশমতউল্লাহ শহীদিও চার ধাপ এগিয়ে ৫২তম স্থানে পৌঁছেছেন।
ওয়ানডে বোলিংয়ে ভারতের আর্শদীপ সিং, প্রসিদ্ধ কৃষ্ণা ও ওয়াশিংটন সুন্দর এগিয়েছেন। আফগানিস্তানের বিপক্ষে সিরিজ শেষে আর্শদীপ ১৬ ধাপ এগিয়ে ২২তম স্থানে, প্রসিদ্ধ ৩৪ ধাপ এগিয়ে যৌথভাবে ৫৮তম স্থানে এবং ওয়াশিংটন ১৭ ধাপ এগিয়ে যৌথভাবে ৭১তম স্থানে উঠেছেন।
টি-টোয়েন্টি র্যাঙ্কিংয়ে বাংলাদেশ-অস্ট্রেলিয়া সিরিজের প্রভাবও পড়েছে। অস্ট্রেলিয়া বাংলাদেশ সফরে টি-টোয়েন্টি সিরিজ ৩-০ ব্যবধানে জিতলেও বাংলাদেশের কয়েকজন ক্রিকেটার র্যাঙ্কিংয়ে এগিয়েছেন। ব্যাটারদের মধ্যে তাওহীদ হৃদয় ৯ ধাপ এগিয়ে ৩০তম স্থানে উঠেছেন। সাইফ হাসান ১৩ ধাপ এগিয়ে যৌথভাবে ৩৫তম স্থানে। বোলারদের মধ্যে সবচেয়ে বড় লাফ নাসুম আহমেদের, ২৭ ধাপ এগিয়ে তিনি টি-টোয়েন্টি বোলারদের র্যাঙ্কিংয়ে ১১তম স্থানে উঠেছেন।
অস্ট্রেলিয়ার দিক থেকেও উন্নতি আছে। অধিনায়ক মিচেল মার্শ টি-টোয়েন্টি ব্যাটারদের তালিকায় চার ধাপ এগিয়ে নবম স্থানে উঠেছেন। নাথান এলিস বোলারদের র্যাঙ্কিংয়ে তিন ধাপ এগিয়ে সপ্তম স্থানে পৌঁছেছেন।
সব মিলিয়ে আইসিসির এই র্যাঙ্কিং আপডেটটি টেস্ট ক্রিকেটে হেনরি ও রুটের জন্য সবচেয়ে বড়। একজন নিউজিল্যান্ডের ৩৬ বছরের অপেক্ষা শেষ করেছেন, আরেকজন আবারও প্রমাণ করেছেন টেস্ট ব্যাটিংয়ের শীর্ষ আলোচনায় তাঁর জায়গা এখনো অটুট। বাংলাদেশের জন্যও ছোট স্বস্তি আছে। সিরিজ হারলেও হৃদয়, সাইফ ও নাসুমের উন্নতি ব্যক্তিগত পারফরম্যান্সের ইতিবাচক প্রতিফলন।





