তাপপ্রবাহে ফ্রান্সে বন্ধ পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র

এশিয়া পোস্ট ডেস্ক
তাপপ্রবাহে ফ্রান্সে বন্ধ পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র
ছবি: সংগৃহীত

তীব্র তাপপ্রবাহে বিপর্যস্ত ফ্রান্স। চলমান তাপদাহের মধ্যে ফ্রান্স ইতিহাসে সর্বোচ্চ গড় তাপমাত্রার দিন রেকর্ড করেছে। দেশটির দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের কিছু এলাকায় তাপমাত্রা ৪৪ দশমিক ৩ ডিগ্রি সেলসিয়াস পর্যন্ত পৌঁছেছে। এ হিসাব ফ্রান্সের ইতিহাসে সর্বোচ্চ রেকর্ড।

Advertisement

সংবাদমাধ্যম সিএনএন জানিয়েছে, প্রচণ্ড তাপপ্রবাহের কারণে ফ্রান্সের বেশ কয়েকটি পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের কার্যক্রমে প্রভাব পড়েছে। আশপাশের নদীগুলোর পানির তাপমাত্রা বেড়ে যাওয়ায় একটি রিয়্যাক্টর সাময়িকভাবে বন্ধ করা হয়েছে এবং কয়েকটি কেন্দ্র উৎপাদন কমিয়ে দিয়েছে।

পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলো সাধারণত শীতলীকরণের জন্য নদীর পানি ব্যবহার করে। পরে সেই পানি তুলনামূলক বেশি তাপমাত্রায় আবার নদীতে ফিরিয়ে দেওয়া হয়।

অতিরিক্ত গরমের কারণে সোমবার (২২ জুন) গভীর রাতে দক্ষিণ ফ্রান্সের গল্ফেক-২ রিয়্যাক্টর বন্ধ করে দেওয়া হয়। এছাড়া পূর্ব ফ্রান্সের সাঁ-আলবান-২, বুগে-৩ এবং প্যারিসের দক্ষিণ-পূর্বে অবস্থিত নোজঁ-২ রিয়্যাক্টর তাদের বিদ্যুৎ উৎপাদন কমিয়েছে।

ফ্রান্সের পরিবেশবিষয়ক নিয়ম অনুযায়ী, নদীর পানির তাপমাত্রা নির্দিষ্ট সীমায় পৌঁছালে বিদ্যুৎকেন্দ্র পরিচালনাকারী প্রতিষ্ঠান ইডিএফকে উৎপাদন কমাতে হয়। এর উদ্দেশ্য হলো নদীর জলজ প্রাণীদের অতিরিক্ত তাপের ক্ষতিকর প্রভাব থেকে রক্ষা করা।

এদিকে তীব্র গরম থেকে স্বস্তি পেতে নদী, হ্রদ ও অনিরাপদ জলাশয়ে নামছেন হাজার হাজার মানুষ। তবে সেই স্বস্তি নিতে গিয়ে অনেকের জীবনে নেমে এসেছে মর্মান্তিক দুর্ঘটনা। ফরাসি প্রধানমন্ত্রী সেবাস্তিয়ান লেকোর্নু জানিয়েছেন, গত ১৮ জুন থেকে অন্তত ৪০ জন পানিতে ডুবে মারা গেছেন। তাদের অধিকাংশই তরুণ-তরুণী।

সরকারের তথ্য অনুযায়ী, এই তাপপ্রবাহে শুধু পানিতে ডুবে মৃত্যু হয়নি, হিটস্ট্রোক ও অসুস্থ হয়ে এসব প্রাণহানির ঘটনা ঘটছে। খোঁজ নিয়ে জানা যায়, হাসপাতালগুলোতে স্বাভাবিক সময়ের থেকে কয়েকগুন রোগীর সংখ্যা বৃদ্ধি পেয়েছে। সব হাসপাতালের জরুরি বিভাগে চিকিৎসক ও স্বাস্থ্য কর্মীর সংখ্যা বাড়ানো হয়েছে।

ফ্রান্সের ৫০টিরও বেশি প্রশাসনিক অঞ্চলে ‘রেড অ্যালার্ট’ জারি করা হয়েছে। প্রায় ৯০ শতাংশ জনগণ কোনো না কোনো ধরনের তাপ সতর্কতার আওতায় রয়েছে। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ রাখা হয়েছে, কিছু ট্রেন চলাচল সীমিত করা হয়েছে এবং হাসপাতালগুলোকে বিশেষ প্রস্তুতি নিতে বলা হয়েছে।