হেনরির আগুনে এক ঘণ্টাতেই শেষ ইংল্যান্ড

মাঠের বাইরের অস্থিরতা, গুরুত্বপূর্ণ খেলোয়াড়ের অনুপস্থিতি আর মাঠের ব্যর্থতা, সব মিলিয়ে ইংল্যান্ডের কঠিন সপ্তাহ শেষ হলো বড় হারে। দ্য ওভালে দ্বিতীয় টেস্টে নিউজিল্যান্ডের কাছে ২৫৩ রানে হেরেছে ইংল্যান্ড। এই জয়ে তিন ম্যাচের সিরিজ ১-১ সমতায় ফেরাল কিউইরা। ট্রেন্ট ব্রিজে শেষ টেস্ট এখন সিরিজ নির্ধারণী।
নিউজিল্যান্ডের জয়ের নায়ক ম্যাট হেনরি। দ্বিতীয় ইনিংসে ২৯ রানে ৬ উইকেট নিয়ে ইংল্যান্ডকে গুঁড়িয়ে দেন তিনি। ম্যাচে তার বোলিং ফিগার ১০৯ রানে ১১ উইকেট। এটি ইংল্যান্ডের বিপক্ষে টেস্টে নিউজিল্যান্ডের কোনো বোলারের সেরা ম্যাচ ফিগার।
৪৬৩ রানের বিশাল লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে চতুর্থ দিন শেষে ইংল্যান্ড ছিল ১৮২/৫। শেষ দিনে অলৌকিক কিছু না হলে ম্যাচ বাঁচানো কঠিন ছিলই। তবু জো রুট ৭৫ রানে অপরাজিত থাকায় সামান্য আশার জায়গা ছিল স্বাগতিকদের। কিন্তু পঞ্চম দিনের শুরুতেই সেই আশা শেষ করে দেন হেনরি।
দিনের শুরুতেই রুটকে এলবিডব্লিউ করেন হেনরি। আগের দিন রিভিউ নিয়ে বেঁচে গেলেও এবার আর রক্ষা হয়নি ইংল্যান্ডের অভিজ্ঞ ব্যাটারের। ৭৭ রানে ফেরেন রুট। এরপর দ্রুত ভেঙে পড়ে ইংল্যান্ডের লোয়ার অর্ডার।
জফরা আর্চারকে নিচু হয়ে আসা বলে বোল্ড করেন হেনরি। ম্যাথিউ ফিশার নিজের স্টাম্পে বল টেনে নেন। জশ টাং প্রথম বলেই স্লিপে ক্যাচ দেন। এই উইকেটেই টেস্টে প্রথমবার ১০ উইকেট পূর্ণ করেন হেনরি। জর্ডান কক্স কিছুক্ষণ লড়লেও শেষ পর্যন্ত তিনিও হেনরির ইয়র্কারে বোল্ড হন। ইংল্যান্ডের ইনিংস থামে ২০৯ রানে।
নিউজিল্যান্ড প্রথম ইনিংসে করেছিল ৩৯১। গ্লেন ফিলিপস খেলেছিলেন ১০০ রানের গুরুত্বপূর্ণ ইনিংস। জবাবে ইংল্যান্ড করে ২৯১। দ্বিতীয় ইনিংসে নিউজিল্যান্ড ৩৬২ রান তুলে ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ পুরোপুরি নিজেদের হাতে নেয়। হেনরি নিকলস করেন ১২১, রাচিন রবীন্দ্র ৭৬ এবং ড্যারিল মিচেল ৬৮ রান।
ইংল্যান্ডের জন্য এই টেস্ট ছিল শুরু থেকেই কঠিন। নিয়মিত অধিনায়ক বেন স্টোকস ও পেসার গাস অ্যাটকিনসন দলে ছিলেন না। লর্ডসে প্রথম টেস্ট জয়ের পর কারফিউ ভাঙা-সংক্রান্ত ঘটনায় তাদের দ্বিতীয় টেস্টের বাইরে রাখা হয়। সেই বিতর্কের ছায়াতেই দ্য ওভালে নামতে হয় ইংল্যান্ডকে।
স্টোকসের অনুপস্থিতিতে জো রুট নেতৃত্ব দেন। কিন্তু অনভিজ্ঞ ও বদলে যাওয়া একাদশ নিয়ে নিউজিল্যান্ডের শৃঙ্খলিত ক্রিকেটের সামনে ইংল্যান্ড টিকতে পারেনি। তরুণ ও নতুন মুখদের জন্য অভিজ্ঞতা মূল্যবান হলেও ম্যাচের ফল ইংল্যান্ডের গভীর সমস্যাকে সামনে এনেছে।
লর্ডসে প্রথম টেস্ট জিতেছিল ইংল্যান্ড। কিন্তু দ্য ওভালের বড় হার তাদের ওপর চাপ আরও বাড়াল। বিশেষ করে ট্রেন্ট ব্রিজে সিরিজ নির্ধারণী টেস্ট এখন শুধু সিরিজ জয়ের লড়াই নয়, ইংল্যান্ডের দিকনির্দেশনা নিয়েও বড় পরীক্ষা।
নিউজিল্যান্ডের পারফরম্যান্স ছিল উল্টো ছবি। তারা ছিল শৃঙ্খলিত, দক্ষ এবং পরিকল্পনায় পরিষ্কার। হেনরি ছিলেন আক্রমণের নেতা। তাঁকে সমর্থন দিয়েছেন কাইল জেমিসন ও উইল ও’রুর্ক। ব্যাট হাতে ফিলিপস ও নিকলস বড় ইনিংস খেলেছেন। কেন উইলিয়ামসনের অবসরের পর তৈরি হওয়া শূন্যতায় নিকলসের শতক কিউইদের জন্য বড় স্বস্তি।
ইংল্যান্ডের জন্য সবচেয়ে উদ্বেগের জায়গা হলো, তাদের শীর্ষ ব্যাটারদেরও পরিকল্পিতভাবে আটকে ফেলেছে নিউজিল্যান্ড। উইকেটকিপার টম ব্লান্ডেলকে স্টাম্পের কাছে এনে সিমারদের বল করানোর কৌশল ইংল্যান্ড ব্যাটারদের অস্বস্তিতে ফেলেছে। হেনরির সোজা লাইন, ধারাবাহিক লেংথ এবং সামান্য মুভমেন্ট ব্যাটারদের বারবার ভুল করিয়েছে।
স্টোকস ও অ্যাটকিনসনের ফেরার সম্ভাবনা এখন ইংল্যান্ডের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। দুজনেরই ট্রেন্ট ব্রিজে ফেরার আলোচনা আছে। শেষ টেস্টে ইংল্যান্ড যদি শক্তিশালী দল পায়, তবু চাপ কমবে না। কারণ এই হার শুধু খেলোয়াড়ের অনুপস্থিতির কারণে নয়; ব্যাটিং, ফিল্ডিং, পরিকল্পনা এবং মানসিক স্থিরতা, সব জায়গাতেই ঘাটতি দেখা গেছে।







