১১ বলের ফিফটিতে বৈভবের বিশ্বরেকর্ড

এশিয়া পোস্ট স্পোর্টস
১১ বলের ফিফটিতে বৈভবের বিশ্বরেকর্ড
বৈভব সূর্যবংশী। ছবি: সংগৃহীত

মাত্র ১৫ বছর বয়স। কিন্তু ব্যাট হাতে এমন ঝড় তুললেন, যেন বয়স, মঞ্চ, চাপ কিছুই তাঁর সামনে বাধা নয়। ‘এ’ টিম ত্রিদেশীয় সিরিজের ফাইনালে শ্রীলঙ্কা ‘এ’-র বিপক্ষে ভারত ‘এ’-র বৈভব সূর্যবংশী খেললেন ২৯ বলে ৯৪ রানের বিস্ফোরক ইনিংস। ১১ বলে ফিফটি করে গড়লেন লিস্ট ‘এ’ ক্রিকেটে দ্রুততম অর্ধশতকের রেকর্ড। তবে মাত্র এক ছক্কার জন্য ছোঁয়া হলো না দ্রুততম লিস্ট ‘এ’ সেঞ্চুরির বিশ্বরেকর্ড।

Advertisement

ডাম্বুলার রঙ্গিরি ডাম্বুলা আন্তর্জাতিক স্টেডিয়ামে টস জিতে আগে ফিল্ডিং নেয় শ্রীলঙ্কা ‘এ’। কিন্তু সেই সিদ্ধান্তের পর প্রথম ৯ ওভারেই যেন ম্যাচের রং বদলে দেন বৈভব। বাঁহাতি এই ওপেনার শুরু থেকেই ছিলেন নির্মম। বল পেলেই বাউন্ডারি, একটু লেন্থ পেলেই ছক্কা, শ্রীলঙ্কার বোলারদের ওপর ঝড় বইয়ে দেন তিনি।

বৈভবের ৯৪ রানের ইনিংসে ছিল ১০টি চার ও ৮টি ছক্কা। অর্থাৎ ৯৪ রানের মধ্যে ৮৮ রানই এসেছে বাউন্ডারি থেকে। তার স্ট্রাইক রেট ছিল ৩২৪.১৪। লিস্ট ‘এ’ ক্রিকেটে ৫০ ওভারের ম্যাচে এমন শুরু কোনো দলের জন্য শুধু দ্রুত রান নয়, প্রতিপক্ষের পরিকল্পনা ভেঙে দেওয়ার মতো আঘাত।

সবচেয়ে আলোচিত মুহূর্ত আসে তার ফিফটির সময়। মাত্র ১১ বলে অর্ধশতক পূর্ণ করেন বৈভব। লিস্ট ‘এ’ ক্রিকেটে এর আগে এত দ্রুত কেউ ফিফটি করতে পারেননি। ২০০৫ সালে শ্রীলঙ্কার কৌশল্যা বিরারত্নের ১২ বলের ফিফটির রেকর্ড ভেঙে দেন ভারতীয় এই কিশোর।

কিন্তু এখানেই শেষ নয়। ফিফটির পরও গতি কমাননি বৈভব। বরং আরও বড় রেকর্ডের দিকে ছুটছিলেন তিনি। লিস্ট ‘এ’ ক্রিকেটে দ্রুততম সেঞ্চুরির রেকর্ড জেক ফ্রেজার-ম্যাকগার্কের। ২০২৩ সালে সাউথ অস্ট্রেলিয়ার হয়ে তাসমানিয়ার বিপক্ষে ২৯ বলে সেঞ্চুরি করেছিলেন অস্ট্রেলিয়ান ব্যাটার। বৈভব সেই রেকর্ড ছোঁয়ার অবস্থায় পৌঁছে গিয়েছিলেন।

২৮ বলে ৯৪ রানে ছিলেন তিনি। অর্থাৎ ২৯তম বলে ছক্কা মারলেই ১০০, আর তাতেই ছুঁয়ে ফেলতেন ফ্রেজার-ম্যাকগার্কের ২৯ বলের লিস্ট ‘এ’ সেঞ্চুরির বিশ্বরেকর্ড। কিন্তু রেকর্ডের এত কাছে গিয়ে থেমে যেতে হয় তাঁকে।

২৯তম বলে জায়গা করে কভারের ওপর দিয়ে খেলতে চেয়েছিলেন বৈভব। কিন্তু শটটি পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে ছিল না। বল উঠে যায় মিড-অফে। সাহান আরাচ্চিগের বলে বিজয়কান্ত ভিয়াসকান্তের হাতে ধরা পড়েন তিনি। স্কোর তখন ভারত ‘এ’ ৮.৫ ওভারে ১৩২/১। সেঞ্চুরি থেকে মাত্র ৬ রান দূরে থামেন বৈভব।

সেঞ্চুরি না পাওয়ার আফসোস থাকলেও ইনিংসের শক্তি কমে যায়নি। কারণ ২৯ বলে ৯৪ শুধু একটি দ্রুত ইনিংস নয়, ফাইনালের চাপের মধ্যে প্রতিপক্ষকে ম্যাচের শুরুতেই পেছনে ঠেলে দেওয়ার মতো আঘাত। বৈভব আউট হওয়ার সময়ই ভারত ‘এ’ ১৩২ রান তুলে ফেলেছিল। পাওয়ারপ্লে শেষে তাদের রান ছিল ১৪০।

বৈভবের সঙ্গে ইনিংস শুরু করেছিলেন প্রিয়াংশ আর্য। তিনি করেন ২৯ বলে ৩৯ রান, ৬টি চার ও ১টি ছক্কায়। বৈভব আউট হওয়ার পর পরের ওভারেই ফেরেন প্রিয়াংশ। এরপর রুতুরাজ গায়কোয়াড় ও অধিনায়ক তিলক ভার্মা ইনিংস এগিয়ে নেওয়ার দায়িত্ব নেন।

এই ইনিংসের পেছনে আরেকটি গল্পও আছে। ত্রিদেশীয় সিরিজের লিগ পর্বে ভারত ‘এ’ ও শ্রীলঙ্কা ‘এ’-র আগের ম্যাচটি গড়িয়েছিল সুপার ওভারে। সেই ম্যাচ জিতেছিল শ্রীলঙ্কা ‘এ’। ম্যাচের শেষে দুই দলের খেলোয়াড়দের মধ্যে উত্তপ্ত পরিস্থিতিও তৈরি হয়েছিল, যেখানে বৈভবও আলোচনায় ছিলেন। ফাইনালে তাঁর জবাব এসেছে ব্যাটে।

১৫ বছর বয়সী একজন ব্যাটারের জন্য এই ইনিংস স্বাভাবিক কোনো পারফরম্যান্স নয়। বয়সভিত্তিক ক্রিকেট থেকে ‘এ’ দলের মঞ্চে এসে এমন আক্রমণাত্মক ব্যাটিং দেখানোই বিরল। তার ওপর ফাইনাল, প্রতিপক্ষের ঘরের মাঠ, রেকর্ডের চাপ, সব মিলিয়ে বৈভবের ইনিংসকে আরও বড় করে তোলে।