হিজবুল্লাহর হামলায় দুই দিনে ৫ ইসরায়েলি সৈন্য নিহত

ইরানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের অন্তর্বর্তীকালীন চুক্তি সমঝোতা হলেও ইসরায়েলি বাহিনী ও লেবাননের হিজবুল্লাহর মধ্যে দফায় দফায় হামলা অব্যাহত রয়েছে। গত শুক্রবার ও শনিবার (২০ জুন) হিজবুল্লাহর হামলায় দক্ষিণ লেবাননে পাঁচজন ইসরায়েলি সৈন্য নিহত হয়েছেন। এরমধ্যে শনিবার ভোরে একজন ও শুক্রবার একসঙ্গে চার ইসরায়েলি সৈন্য নিহতের খবর পাওয়া গেছে।
ইসরায়েলি সেনাবাহিনীর বরাতে সংবাদমাধ্যম টাইমস অব ইসরায়েল এক প্রতিবেদনে এ তথ্য নিশ্চিত করেছে।
ইসরায়েল ডিফেন্স ফোর্সেস (আইডিএফ) জানিয়েছে, শনিবার নিহত সেনার নাম সার্জেন্ট ফার্স্ট ক্লাস নির বেন আরি (২১)। তিনি ইসরায়েলের কেরেম মাহারাল এলাকার বাসিন্দা। ইসরায়েলি সেনাবাহিনীর কমান্ডো ব্রিগেডের মাগলান ইউনিটের সদস্য ছিলেন তিনি। লেবাননের আলী তাহের শৈলশিরার নিচে হিজবুল্লাহর একটি ভূগর্ভস্থ ঘাঁটিতে অভিযান চলাকালীন তিনি নিহত হন।
আইডিএফ জানিয়েছে, তারা দক্ষিণ লেবাননে ঘোষিত ‘নিরাপত্তা অঞ্চলের’ বাইরে আপাতত যুদ্ধবিরতি বা হামলা বন্ধ রাখলেও আলী তাহের শৈলশিরাসহ নির্দিষ্ট জোনের ভেতরে অভিযান চালিয়ে যাবে।
ইসরায়েলের সামরিক তদন্ত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, শুক্রবার রাত আনুমানিক ১টা ৩০ মিনিটের দিকে নাবাতিয়াহ এলাকার কাফর তেবনিট গ্রামে ইসরায়েলি সামরিক অবস্থান লক্ষ্য করে রকেট ও বিস্ফোরক ড্রোন দিয়ে ঝাঁক বেঁধে হামলা চালায় হিজবুল্লাহ। এই হামলায় নির বেন আরি নিহত হন এবং ১৩ জন সেনা আহত হন। আহতদের মধ্যে দুজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক। আহত সবাইকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। ঘটনার পরপর নাবাতিয়াহ এলাকায় হিজবুল্লাহর বিভিন্ন স্থাপনায় পাল্টা বিমান হামলা চালিয়েছে আইডিএফ।
গতকাল শুক্রবার ভোরেও একই এলাকায় হিজবুল্লাহর হামলায় একটি ট্যাংক ধ্বংস হয়ে ৫২তম ব্যাটালিয়নের কমান্ডার লেফটেন্যান্ট কর্নেল দোর গেদালিয়া বেন সিমহনসহ (৩২) চার ইসরায়েলি সেনা নিহত হন। সামরিক বাহিনী বাকি তিন সেনার পরিচয় প্রকাশ করেছে। তারা হলেন— স্টাফ সার্জেন্ট ইয়োভ ক্লেইন (২১), স্টাফসার্জেন্ট লিয়াভ কাবাবিয়া (২০) এবং স্টাফ সার্জেন্ট নাভে হাবশুশ (২০)। সামরিক তদন্তে জানা গেছে, কোনো যান্ত্রিক ত্রুটি নয়, বরং হিজবুল্লাহর অ্যান্টি-ট্যাংক গাইডেড মিসাইলের আঘাতেই ট্যাংকটি বিস্ফোরিত হয়েছিল।
আইডিএফের দাবি, নাবাতিয়াহর আলী তাহের শৈলশিরার নিচে হিজবুল্লাহর ‘বদর’ আঞ্চলিক ডিভিশনের প্রধান কমান্ড সেন্টার রয়েছে। সেখানে মাটির ওপরে ও নিচে দুই পক্ষের মধ্যে তীব্র লড়াই চলমান রয়েছে। এখনও বহু হিজবুল্লাহ যোদ্ধা ভেতরে অবস্থান করছেন বলে দাবি তাদের।
এলাকাটি প্রথমে ইসরায়েলের নিরাপত্তা অঞ্চলের আওতায় না থাকলেও গত বৃহস্পতিবার মানচিত্র সংশোধন করে এটিকে নিজেদের সম্মুখ প্রতিরক্ষা অঞ্চলের অন্তর্ভুক্ত করে ইসরায়েলি বাহিনী।
ইসরায়েলি সেনাবাহিনীর তথ্য অনুযায়ী, গত ২ মার্চ উত্তর ইসরায়েল ও লেবানন সীমান্তে লড়াই শুরু হওয়ার পর এ পর্যন্ত ৩৬ জন ইসরায়েলি সেনা নিহত হয়েছেন।






