হৃদয়ের ফিফটিতেও ১০৯ রানে থামল বাংলাদেশ

এশিয়া পোস্ট স্পোর্টস
হৃদয়ের ফিফটিতেও ১০৯ রানে থামল বাংলাদেশ
তাওহীদ হৃদয়। ছবি: সংগৃহীত

সান্ত্বনার জয়ের ম্যাচেও ব্যাটিংয়ে বড় সংগ্রহ পেল না বাংলাদেশ। চট্টগ্রামে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে তৃতীয় ও শেষ টি-টোয়েন্টিতে আগে ব্যাট করে ২০ ওভারে ৮ উইকেটে ১০৯ রান তুলেছে বাংলাদেশ। জিততে অস্ট্রেলিয়ার দরকার ১১০ রান।

Advertisement

বাংলাদেশের ইনিংসে একাই লড়েছেন অধিনায়ক তাঁওহীদ হৃদয়। এক প্রান্তে নিয়মিত উইকেট পড়লেও ৫১ বলে অপরাজিত ৬১ রান করেন তিনি। তার ইনিংসে ছিল ৩টি চার ও ৩টি ছক্কা। দলের ১০৯ রানের মধ্যে হৃদয়ের ব্যাট থেকেই এসেছে অর্ধেকের বেশি।

টস জিতে ব্যাট করার সিদ্ধান্ত নিয়েছিল বাংলাদেশ। কিন্তু শুরুতেই ভেঙে পড়ে টপ অর্ডার। ১.৩ ওভারে ৬ রানে রানআউট হন তাঁনজিদ হাসান। ২ বলে ৫ রান করেন তিনি। দুই বল পরই স্পেন্সার জনসনের বলে মিচেল মার্শের হাতে ক্যাচ দেন সাইফ হাসান। ৯ বলে তার রান মাত্র ১।

বিপর্যয় আরও বাড়ে পাওয়ারপ্লের শেষ ওভারে। পারভেজ হোসেন ইমন ১৩ বলে ১ রান করে নাথান এলিসের বলে আউট হন। পাওয়ারপ্লে শেষে বাংলাদেশের স্কোর ছিল ৩ উইকেটে ২২। সেখানেই বড় সংগ্রহের পথ প্রায় বন্ধ হয়ে যায়।

নুরুল হাসান ৮ বলে ৬ রান করে অ্যাডাম জাম্পার বলে বোল্ড হন। এরপর শামিম হোসেন ৫ বলে শূন্য রানে স্পেন্সার জনসনের বলে উইকেটকিপার জশ ইংলিসের হাতে ক্যাচ দেন। ৮.৪ ওভারে ৩৬ রানে ৫ উইকেট হারিয়ে বাংলাদেশ তখন বড় বিপদে।

হৃদয় এক প্রান্তে দাঁড়িয়ে থাকার চেষ্টা করলেও অন্য প্রান্ত থেকে সঙ্গ পাননি নিয়মিতভাবে। রিশাদ হোসেন কিছুটা পাল্টা আক্রমণের চেষ্টা করেন। ১৪ বলে ১৬ রান করেন তিনি, ছিল ১টি চার ও ১টি ছক্কা। কিন্তু নিকিল চৌধারির বলে ফিরলে বাংলাদেশের স্কোর দাঁড়ায় ৬২/৬।

নাসুম আহমেদ ২ বলে শূন্য রানে আউট হন। শরিফুল ইসলাম ১৪ বলে ৭ রান করে জাম্পার দ্বিতীয় শিকার হন। ততক্ষণে বাংলাদেশ ১৭.১ ওভারে ৮৬/৮।

শেষ দিকে হৃদয়ই বাংলাদেশের রান ১০০ পার করান। ৪১ বলে ফিফটি পূর্ণ করেন তিনি। অস্ট্রেলিয়ার একটি রিভিউও তার বিপক্ষে সফল হয়নি। তাঁসকিন আহমেদ ৩ বলে ২ রানে অপরাজিত থাকেন। বাংলাদেশ শেষ পর্যন্ত ১০৯/৮-এ থামে।

অস্ট্রেলিয়ার বোলারদের মধ্যে সবচেয়ে কৃপণ ছিলেন স্পেন্সার জনসন। ৪ ওভারে মাত্র ৬ রান দিয়ে ২ উইকেট নেন তিনি। তার ২৪ বলের মধ্যে ২০টিই ছিল ডট। বাংলাদেশের ইনিংসের শুরুতেই তিনি ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ অস্ট্রেলিয়ার হাতে তুলে দেন।

নাথান এলিস ৪ ওভারে ২১ রান দিয়ে ২ উইকেট নেন। অ্যাডাম জাম্পা ৪ ওভারে ১ মেডেনসহ ২২ রান দিয়ে নেন ২ উইকেট। নিকিল চৌধারি ২৭ রানে নেন ১ উইকেট। অস্ট্রেলিয়ার বোলিং শৃঙ্খলার সামনে বাংলাদেশ বড় শট খেলতে পারেনি নিয়মিতভাবে।

শেষ ৫ ওভারে বাংলাদেশ ৩৬ রান তুলেছে, তবে তখনও উইকেট হাতে ছিল না। টপ অর্ডারের ব্যর্থতাঁ এবং মাঝের ওভারে দ্রুত উইকেট হারানোয় হৃদয়ের ফিফটিও বড় সংগ্রহ এনে দিতে পারেনি।

তিন ম্যাচের সিরিজ আগেই হারিয়েছে বাংলাদেশ। আজ তাদের লক্ষ্য ধবলধোলাই এড়ানো। কিন্তু ১০৯ রানের পুঁজি নিয়ে সেটি করতে হলে বোলারদের শুরু থেকেই অসাধারণ কিছু করতে হবে। অস্ট্রেলিয়ার সামনে লক্ষ্য ছোট, আর বাংলাদেশের সামনে এখন একমাত্র পথ দ্রুত উইকেট।