মার্শের ঝড়ে বাংলাদেশকে ধবলধোলাই অস্ট্রেলিয়ার

সান্ত্বনার জয়ও হলো না বাংলাদেশের। চট্টগ্রামে তৃতীয় ও শেষ টি-টোয়েন্টিতে ব্যাটিং ব্যর্থতার পর বোলিংয়েও দাঁড়াতে পারল না স্বাগতিকরা। ১১০ রানের লক্ষ্য অস্ট্রেলিয়া ছুঁয়ে ফেলল মাত্র ১১ ওভারে, ৭ উইকেট হাতে রেখে। এই জয়ে তিন ম্যাচের সিরিজ ৩-০ ব্যবধানে জিতে বাংলাদেশকে ধবলধোলাই করল অস্ট্রেলিয়া।
আগে ব্যাট করে ২০ ওভারে ৮ উইকেটে ১০৯ রান করেছিল বাংলাদেশ। জবাবে অস্ট্রেলিয়া ১১ ওভারে ৩ উইকেটে ১১২ রান তুলে ম্যাচ শেষ করে। অস্ট্রেলিয়ার জয়ের নায়ক অধিনায়ক মিচেল মার্শ। ২৮ বলে ৬০ রানের ঝড়ো ইনিংসে ম্যাচের হিসাব খুব দ্রুত শেষ করে দেন তিনি।
বাংলাদেশের ইনিংসে একমাত্র উজ্জ্বলতা ছিলেন অধিনায়ক তাওহিদ হৃদয়। এক প্রান্তে নিয়মিত উইকেট পড়লেও ৫১ বলে অপরাজিত ৬১ রান করেন তিনি। ইনিংসে ছিল ৩টি চার ও ৩টি ছক্কা। কিন্তু তাঁর বাইরে কেউ বড় রান করতে না পারায় বাংলাদেশ ১০৯ রানের বেশি তুলতে পারেনি।
টস জিতে ব্যাট করতে নেমে শুরুতেই বিপর্যয়ে পড়ে বাংলাদেশ। ১.৩ ওভারে ৬ রানে রানআউট হন তানজিদ হাসান। ২ বলে ৫ রান করেন তিনি। দুই বল পরই স্পেন্সার জনসনের বলে মিচেল মার্শের হাতে ক্যাচ দেন সাইফ হাসান। ৯ বলে তাঁর রান মাত্র ১।
পাওয়ারপ্লের শেষ ওভারে পারভেজ হোসেন ইমনও ফেরেন। ১৩ বলে ১ রান করে নাথান এলিসের বলে আউট হন তিনি। ৬ ওভার শেষে বাংলাদেশের স্কোর ছিল ৩ উইকেটে ২২। সেখানেই বড় সংগ্রহের পথ প্রায় বন্ধ হয়ে যায়।
নুরুল হাসান ৮ বলে ৬ রান করে অ্যাডাম জাম্পার বলে বোল্ড হন। শামিম হোসেন ৫ বলে শূন্য রানে স্পেন্সার জনসনের দ্বিতীয় শিকার। ৮.৪ ওভারে বাংলাদেশের স্কোর তখন ৩৬/৫। সেখান থেকে একা ইনিংস টেনে নেওয়ার চেষ্টা করেন হৃদয়।
রিশাদ হোসেন কিছুটা পাল্টা আক্রমণ করেন। ১৪ বলে ১৬ রান করেন তিনি, ছিল ১টি চার ও ১টি ছক্কা। কিন্তু নিকিল চৌধারির বলে ফিরলে বাংলাদেশ ৬২/৬। এরপর নাসুম আহমেদ শূন্য রানে আউট হন, শরিফুল ইসলাম করেন ১৪ বলে ৭। ১৭.১ ওভারে বাংলাদেশের স্কোর দাঁড়ায় ৮৬/৮।
শেষ দিকে হৃদয়ের ব্যাটেই ১০০ পার করে বাংলাদেশ। তাসকিন আহমেদ ২ রানে অপরাজিত থাকেন। ২০ ওভার শেষে বাংলাদেশ থামে ১০৯/৮-এ।
অস্ট্রেলিয়ার হয়ে দুর্দান্ত বোলিং করেন স্পেন্সার জনসন। ৪ ওভারে মাত্র ৬ রান দিয়ে ২ উইকেট নেন তিনি। নাথান এলিস ২১ রানে ২ উইকেট নেন। অ্যাডাম জাম্পা ৪ ওভারে ১ মেডেনসহ ২২ রান দিয়ে নেন ২ উইকেট। নিকিল চৌধারি নেন ১ উইকেট।
ছোট লক্ষ্য তাড়ায় শুরু থেকেই আগ্রাসী ছিলেন মিচেল মার্শ। জশ ইংলিসকে সঙ্গে নিয়ে পাওয়ারপ্লেতেই ম্যাচ অস্ট্রেলিয়ার দিকে নিয়ে যান তিনি। ৬ ওভারে অস্ট্রেলিয়ার রান ছিল ১ উইকেটে ৫৪। ইংলিস ১৬ বলে ১৭ রান করে নাসুম আহমেদের বলে আউট হন।
এরপরও মার্শের ব্যাট থামেনি। ২৩ বলে ফিফটি পূর্ণ করেন তিনি। ইনিংসে ছিল ৭টি চার ও ৪টি ছক্কা। শরিফুল ইসলামের বলে শামিম হোসেনের হাতে ক্যাচ দেওয়ার আগে ২৮ বলে ৬০ রান করেন অস্ট্রেলিয়া অধিনায়ক। তখনই জয়ের জন্য অস্ট্রেলিয়ার খুব বেশি কিছু বাকি ছিল না।
কুপার কনোলি করেন ১৩ বলে ১৫। তাঁকে ফিরিয়েছেন রিশাদ হোসেন। ম্যাট রেনশ ৬ রানে অপরাজিত থাকেন। টিম ডেভিড শেষ দিকে ৩ বলে অপরাজিত ১২ রান করে ম্যাচ শেষ করেন। তাঁর ব্যাট থেকে আসে ২টি ছক্কা।
বাংলাদেশের বোলারদের মধ্যে নাসুম আহমেদ ছিলেন সবচেয়ে নিয়ন্ত্রিত। ৩ ওভারে মাত্র ১০ রান দিয়ে ১ উইকেট নেন তিনি। শরিফুল ইসলাম ও রিশাদ হোসেন নেন ১টি করে উইকেট। তবে বাকিরা রান আটকে রাখতে পারেননি। তাসকিন আহমেদ ২ ওভারে দেন ২৭ রান, নাহিদ রানা ১ ওভারে ২০।
এই হারে বাংলাদেশের জন্য সিরিজ শেষ হলো হতাশায়। প্রথম দুই ম্যাচ হেরে সিরিজ আগেই হাতছাড়া হয়েছিল। শেষ ম্যাচে ছিল শুধু সান্ত্বনার জয় ও ধবলধোলাই এড়ানোর সুযোগ। কিন্তু ব্যাটিং ব্যর্থতা এবং অস্ট্রেলিয়ার আগ্রাসী রান তাড়ায় সেটিও হলো না।
অস্ট্রেলিয়ার জন্য সিরিজটি শেষ হলো পূর্ণ দাপটে। শেষ ম্যাচে বল হাতে জনসন-এলিস-জাম্পা বাংলাদেশকে আটকে রাখেন, পরে ব্যাট হাতে মার্শ ম্যাচ শেষ করে দেন। ৫৪ বল হাতে রেখে ৭ উইকেটের জয়ই বলে দেয়, ম্যাচে দুই দলের ব্যবধান কতটা বড় ছিল।






