শশা তিতা কিনা, সহজেই বুঝবেন যেভাবে

গরমের দিনে এক প্লেট সালাদ, ভর্তা কিংবা মুড়ি মাখার সঙ্গে টাটকা শশার জুড়ি নেই। পানিসমৃদ্ধ এই সবজি শরীরকে ঠান্ডা রাখতে সাহায্য করে এবং গ্রীষ্মকালে প্রতিদিনের খাবারের তালিকায় প্রায় নিয়মিত জায়গা করে নেয়। শুধু স্বাদ নয়, শশায় রয়েছে প্রচুর পানি, ফাইবার, ভিটামিন কে এবং বিভিন্ন অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট, যা শরীরকে সতেজ রাখতে সাহায্য করে।
কিন্তু বাজার থেকে যত যত্ন করেই শশা কেনা হোক না কেন, অনেক সময় বাড়িতে এনে কাটার পর দেখা যায় সেটি তিতা। তখন পুরো শশাটাই প্রায় নষ্ট হয়ে যায়। বিশেষ করে সালাদ বা কাঁচা খাওয়ার জন্য শশা কিনলে এই সমস্যায় পড়লে বিরক্তি আরও বেশি হয়।
শশার তিতা স্বাদের জন্য দায়ী কুকারবিটাসিন নামের একটি প্রাকৃতিক যৌগ। সাধারণত অতিরিক্ত গরম, পানির ঘাটতি, অনিয়মিত বৃদ্ধি কিংবা অতিরিক্ত পেকে যাওয়ার কারণে এই যৌগের পরিমাণ বেড়ে যেতে পারে। ফলে বাইরে থেকে দেখতে একেবারে টাটকা ও সুন্দর শশাও কখনও কখনও তিতা হয়ে যায়।
তবে কৃষি ও খাদ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, কিছু বাহ্যিক লক্ষণ দেখে তিতা হওয়ার সম্ভাবনা অনেকটাই আন্দাজ করা যায়। শশার রং, আকৃতি, ওজন এবং ডাঁটার অংশ ভালোভাবে পর্যবেক্ষণ করলে তুলনামূলক মিষ্টি ও সতেজ শশা বেছে নেওয়া সহজ হয়।
জেনে নিন, বাজারে দাঁড়িয়ে হাতে নিয়েই কীভাবে বুঝবেন শশাটি তিতা হওয়ার সম্ভাবনা আছে কি না।
গায়ের রং ভালো করে দেখুন
ভালো শশা চেনার প্রথম উপায় হলো এর রং পরীক্ষা করা। সবসময় গাঢ় সবুজ রঙের, উজ্জ্বল ও সতেজ দেখতে শশা বেছে নেওয়ার চেষ্টা করুন। যদি শশার খোসায় হলদে দাগ, ফ্যাকাশে রং বা অতিরিক্ত হলুদ ভাব দেখা যায়, তাহলে সেটি অতিরিক্ত পেকে যাওয়ার ইঙ্গিত হতে পারে। অতিরিক্ত পাকা শশায় তেতো স্বাদ হওয়ার সম্ভাবনা তুলনামূলক বেশি থাকে।
খুব বড় বা অতিরিক্ত মোটা শশা এড়িয়ে চলুন
অনেকেই মনে করেন বড় শশা মানেই ভালো শশা। বাস্তবে বিষয়টি সবসময় সত্য নয়। অতিরিক্ত বড় বা মোটা শশা অনেক সময় বেশি পরিণত হয়ে যায়। এতে বীজ শক্ত হয়ে যেতে পারে এবং তিতাভাবও বেশি দেখা দিতে পারে। মাঝারি আকারের, সোজা এবং সমান গড়নের শশা সাধারণত স্বাদে ভালো হয়।
হাতে নিয়ে ওজন পরীক্ষা করুন
শশা কেনার সময় হাতে নিয়ে এর ওজন অনুভব করুন। একটি ভালো ও রসালো শশা তার আকারের তুলনায় কিছুটা ভারী মনে হবে। কারণ এর ভেতরে পানির পরিমাণ বেশি থাকে। অন্যদিকে খুব হালকা শশা ভেতর থেকে শুকনো, ফাঁপা বা পুরোনো হতে পারে। এমন শশার স্বাদও অনেক সময় ভালো হয় না।
দুই প্রান্তে হালকা চাপ দিন
শশার দুই মাথা বা প্রান্তে আলতো করে চাপ দিয়ে দেখতে পারেন। যদি শশার মাথার অংশ খুব নরম, পচপচে বা দেবে যায়, তাহলে বুঝতে হবে এটি অনেকদিনের পুরোনো। টাটকা শশা সাধারণত শক্ত ও টানটান থাকে। সতেজ শশায় তিতা হওয়ার সম্ভাবনাও তুলনামূলক কম।
ডাঁটার অংশ খেয়াল করুন
শশার ডাঁটার দিকেই সাধারণত কুকারবিটাসিন বেশি জমা হতে পারে। তাই কেনার আগে ডাঁটার আশপাশের অংশটি ভালোভাবে দেখে নিন। যদি অংশটি শুকনো, বিবর্ণ বা হলদে হয়ে যায়, তাহলে সেই শশা এড়িয়ে যাওয়াই ভালো। সতেজ ও সবুজ ডাঁটাযুক্ত শশা সাধারণত বেশি টাটকা হয়।
খোসা খুব বেশি কুঁচকানো হলে সতর্ক থাকুন
শশার খোসা যদি অতিরিক্ত কুঁচকানো বা শুকনো দেখায়, তাহলে বুঝতে হবে এটি দীর্ঘদিন সংরক্ষণ করা হয়েছে। এ ধরনের শশা ভেতর থেকে পানিশূন্য হয়ে যেতে পারে এবং স্বাদও কমে যেতে পারে। সবসময় মসৃণ, টানটান এবং চকচকে খোসার শশা বেছে নেওয়া ভালো।
তিতা শশা কিনে ফেললে কী করবেন
অসাবধানতাবশত তিতা শশা বাড়িতে চলে এলে হতাশ হওয়ার কিছু নেই।
প্রথমে শশার দুই প্রান্ত কিছুটা কেটে ফেলুন। এরপর কাটা অংশটি দিয়ে শশার কাটা মুখে গোল গোল করে ঘষুন। কিছুক্ষণের মধ্যে সাদা ফেনার মতো পদার্থ বের হবে। অনেকের বিশ্বাস, এতে তিতাভাব কিছুটা কমে যায়। এরপর শশাটি ভালোভাবে ধুয়ে ব্যবহার করতে পারেন।
এ ছাড়া লেবুর রস, বিট লবণ, চাট মশলা বা টক দইয়ের সঙ্গে মিশিয়ে সালাদ তৈরি করলে হালকা তিতা ভাব অনেকটাই ঢেকে যায়।
শশা সংরক্ষণের সঠিক উপায়
শশা কেনার পর সঠিকভাবে সংরক্ষণ করাও গুরুত্বপূর্ণ। ফ্রিজের সবজি রাখার অংশে শশা রাখলে এটি বেশ কয়েকদিন সতেজ থাকে। তবে অতিরিক্ত ঠান্ডায় বা দীর্ঘদিন সংরক্ষণ করলে স্বাদ ও গুণগত মান কমে যেতে পারে।
কাটা শশা সবসময় ঢাকনা দেওয়া পাত্রে সংরক্ষণ করা উচিত। শশা তিতা কি না, তা বাইরে থেকে শতভাগ নিশ্চিত হয়ে বলা সম্ভব নয়। কারণ এর তেতো স্বাদ মূলত ভেতরের রাসায়নিক উপাদানের ওপর নির্ভর করে। তবে রং, আকার, ওজন, খোসা এবং ডাঁটার অবস্থা দেখে অনেকটাই ধারণা করা যায়।
তাই পরেরবার বাজারে গেলে শুধু দাম নয়, শশার এই ছোট ছোট লক্ষণগুলোর দিকেও নজর দিন। সামান্য সতর্কতাই আপনাকে তিতা শশা কেনার ঝামেলা থেকে বাঁচাতে পারে এবং নিশ্চিত করতে পারে টাটকা, রসালো ও সুস্বাদু শশা।
সূত্র: টিভি ৯






