বিশ্বকাপের মাঝে শোক, ২২ বছরেই না ফেরার দেশে আর্জেন্টাইন ফুটবলার

এশিয়া পোস্ট স্পোর্টস
বিশ্বকাপের মাঝে শোক, ২২ বছরেই না ফেরার দেশে আর্জেন্টাইন ফুটবলার
লাউতারো ফাগিওলি। ছবি: সংগৃহীত

বিশ্বকাপে দুর্দান্ত শুরু করেছে আর্জেন্টিনা তবে এর মাঝেই দেশটির ফুটবলে শোকের খবর। মাত্র ২২ বছর বয়সে মারা গেলেন আর্জেন্টিনার কলোন দে সান হুস্তোর ফুটবলার লাউতারো ফাগিওলি। ইস্কেমিক স্ট্রোকের পর ১৭ দিন ধরে হাসপাতালে জীবন-মৃত্যুর লড়াই করছিলেন তিনি। শুক্রবার সেই লড়াই থেমে যায়।

Advertisement

ফাগিওলি সান্তা ফে প্রদেশের ক্লাব কলোন দে সান হুস্তোর খেলোয়াড় ছিলেন। কোপা সান্তা ফে’তে সেন্ট্রাল সান কার্লোসের বিপক্ষে ম্যাচ খেলার পর তার শারীরিক জটিলতা দেখা দেয়। এরপর তাকে সান্তা ফের হসপিটাল হোসে মারিয়াতে নেওয়া হয়। সেখানে তার ইস্কেমিক স্ট্রোক ধরা পড়ে। গুরুতর অবস্থায় তাকে নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে রাখা হয়েছিল।

প্রথম দিকে আর্জেন্টাইন সংবাদমাধ্যমগুলো জানিয়েছিল, ফাগিওলিকে ভেন্টিলেশনে রাখা হয়েছিল এবং তার অবস্থা ছিল সংকটজনক। কয়েক দিন ধরে পরিবার, ক্লাব, সতীর্থ ও স্থানীয় ফুটবল সমাজ তার সুস্থতার জন্য প্রার্থনা করছিল। কিন্তু শেষ পর্যন্ত তাকে বাঁচানো গেল না।

সান্তা ফের স্থানীয় সংবাদমাধ্যম এল লিটোরাল জানিয়েছে, ২ জুন অসুস্থ হওয়ার পর থেকে ফাগিওলি হাসপাতালে ভর্তি ছিলেন। প্রায় তিন সপ্তাহ লড়াইয়ের পর শুক্রবার তাঁর মৃত্যু হয়। খবরটি প্রকাশের পর কলোন দে সান হুস্তো ক্লাব সপ্তাহান্তের সব কার্যক্রম স্থগিত করে। কোপা সান্তা ফের নির্ধারিত ম্যাচও স্থগিত করা হয়।

ক্লাবটি শোকবার্তায় ফাগিওলির প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানিয়েছে। কলোন দে সান হুস্তো জানিয়েছে, ফাগিওলি ক্লাব পরিবারের অংশ হয়ে থাকবেন। তাকে সম্মান, প্রতিশ্রুতি ও পেশাদারিত্বের উদাহরণ হিসেবে স্মরণ করেছে ক্লাবটি।

২২ বছর বয়সী ফাগিওলি স্থানীয় ফুটবলে পরিচিত মুখ ছিলেন। কলোন দে সান হুস্তো সান্তা ফে ফুটবল কাঠামোর ঐতিহ্যবাহী ক্লাবগুলোর একটি। স্থানীয় পর্যায়ে খেলা হলেও আর্জেন্টিনায় এমন ক্লাবগুলোই ফুটবলের সামাজিক ভিত্তি তৈরি করে। তাই ফাগিওলির মৃত্যু শুধু একটি ক্লাব নয়, পুরো সান্তা ফে ফুটবল সমাজকে নাড়া দিয়েছে।

আর্জেন্টিনায় এখন বিশ্বকাপ নিয়েই বড় আলোচনার সময়। কিন্তু সেই ফুটবল-উন্মাদ দেশের একটি স্থানীয় ক্লাব আজ শোকের মধ্যে। লাউতারো ফাগিওলি হয়তো বিশ্বমঞ্চের নাম ছিলেন না, কিন্তু তাঁর ক্লাব, পরিবার, সতীর্থ এবং সান্তা ফে ফুটবল সমাজের কাছে তিনি ছিলেন আপনজন। তাঁর অসমাপ্ত ফুটবলযাত্রা তাই স্থানীয় ফুটবলের স্মৃতিতে থেকে যাবে।