logo
ঝিনাইদহ-যশোর মহাসড়ক

ছয় লেনের অপেক্ষা, কমছে না দুর্ভোগ

ছয় লেনের অপেক্ষা, কমছে না দুর্ভোগ
উঠে গেছে সড়কের কার্পেটিং। ছবি: এশিয়া পোস্ট

ঝিনাইদহ-যশোর আঞ্চলিক মহাসড়কে দুই লেন দিয়ে প্রতিদিন ছোট, বড় ও ভারী যানবাহন চলাচল করে কয়েক হাজার। যান চলাচলে গতি আনতে নেওয়া হয় মহাসড়ককে ছয় লেনে উন্নীত করার পরিকল্পনা। প্রস্তাবিত প্রকল্প পাস হওয়ার পর কাজ শেষ হওয়ার কথা ছিল ২০২৩ সালে ডিসেম্বরের মধ্যে। নানা জটিলতায় তা সম্ভব না হওয়ায় তিন দফায় বাড়ানো হয় কাজের মেয়াদ। সর্বশেষ মেয়াদে এখনও কাজ শেষ না হওয়ায় দুর্ভোগ কমছে না যানবাহন চলাচলকারীদের।

সরেজমিন দেখা গেছে, বর্তমানে সড়কের অন্তত ৪৭ কিলোমিটারজুড়ে ছোট-বড় গর্ত সৃষ্টি হয়েছে। বৃষ্টি হলে গর্তে জমে পানি। কিছু অংশে উঠে গেছে কার্পেটিং (পিচ ঢালাই)। কার্পেটিং উঠে যাওয়া স্থানে ইটের সলিং দেওয়ায় স্বাভাবিক গতিতে যান চলাচল ব্যাহত হচ্ছে।

গাড়ি চালকরা জানান, খুলনা বিভাগের সঙ্গে রাজশাহী ও উত্তরাঞ্চলের যোগাযোগের অন্যতম প্রধান মাধ্যম যশোর-ঝিনাইদহ আঞ্চলিক মহাসড়ক। প্রতিদিন কয়েক হাজার যাত্রীবাহী ও পণ্যবাহী যান চলাচল করে এ পথে। কিন্তু কয়েক বছর ধরে যশোরের চাঁচড়া থেকে ঝিনাইদহ বাস টার্মিনাল পর্যন্ত সড়কের অধিকাংশ অংশ চলাচলের অনুপযোগী হয়ে হয়ে আছে।

সড়কে কার্পেটিং উঠে ছোট-ছোট গর্ত। ছবি: এশিয়া পোস্ট
সড়কে কার্পেটিং উঠে ছোট-ছোট গর্ত। ছবি: এশিয়া পোস্ট

ট্রাকচালক মিন্টু মিয়া বলেন, এই সড়কে গাড়ি চালানো কষ্টকর। দক্ষিণ পশ্চিমাঞ্চল থেকে উত্তরবঙ্গে মালামাল নিয়ে যাতায়াত করতে হয়। প্রায় সময় গর্তে পড়ে স্প্রিংসহ বিভিন্ন যন্ত্রাংশ নষ্ট হচ্ছে। ঝুঁকি নিয়ে চলতে হচ্ছে। আশাকরি কর্তৃপক্ষ দ্রুত ছয় লেনের কাজ শেষ করবে।

সিএনজিচালিত অটোরিকশাচালক মনিরুল ইসলাম বলেন, অর্ধেক রাস্তাও চলাচলের উপযোগী নয়। সময়মতো গন্তব্যে পৌঁছানো যায় না। প্রায় দুর্ঘটনা ঘটছে। এক জায়গা মেরামত করলে অন্য জায়গা ভেঙে যাচ্ছে।

স্থানীয় বাসিন্দা সুভাষ চন্দ্র বলেন, প্রতিদিন দুর্ঘটনা দেখি। ট্রাক উল্টে যায়, মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় পড়ে। বর্ষায় পানি জমে চলাচল অসম্ভব হয়ে যায়। শুষ্ক মৌসুমে ধুলার কারণে নিঃশ্বাস নিতে কষ্ট হয়। রাস্তার পাশের বাড়িঘর ধুলায় ঢেকে থাকে।

আরেক বাসিন্দা পল্লী চিকিৎসক পান্না মিয়া বলেন, প্রকল্পের কাজের গতি খুব ধীর। প্রতিদিন এই সড়ক দিয়ে জেলা ও উপজেলা শহরে যেতে হয়। বর্ষায় কাদা ও গর্ত, শুষ্ক মৌসুমে ধুলাবালির কারণে আমরা চরম ভোগান্তিতে আছি।

ঝিনাইদহ সড়ক ও জনপথ (সওজ) বিভাগ সূত্র জানায়, চার হাজার ১০০ কোটি টাকা ব্যয়ে প্রকল্পটি ২০২১ সালে পরিকল্পনা কমিশনে পাঠানো হয়। ২০২৩ সালের ডিসেম্বরের মধ্যে কাজ শেষ হওয়ার কথা থাকলেও তা সম্ভব হয়নি। পরে তিন দফায় সময় বাড়ানো হয়। সর্বশেষ সংশোধনীতে প্রকল্প ব্যয় বাড়িয়ে ছয় হাজার ৬২৬ কোটি টাকার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে।

সড়কে উঠে গেছে কার্পেটিং। ছবি: এশিয়া পোস্ট
সড়কে উঠে গেছে কার্পেটিং। ছবি: এশিয়া পোস্ট

স্থানীয়রা জানান, প্রকল্পের ধীরগতির কারণে প্রতিদিন ঘটছে ছোট-বড় দুর্ঘটনা। সড়কে ঘণ্টার পর ঘণ্টা যানজটে আটকে থাকতে হচ্ছে যাত্রী ও পণ্যবাহী যানবাহন। দ্রুত প্রকল্প বাস্তবায়নের মাধ্যমে জনদুর্ভোগ কমাতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া উচিত।

ঝিনাইদহ জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক জাহিদুজ্জামান মনা বলেন, সড়কের দুরবস্থার কারণে মানুষ সীমাহীন দুর্ভোগের শিকার হচ্ছে। প্রায় প্রতিদিন দুর্ঘটনা, যানজট ও ধুলাবালির মধ্যে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করতে হচ্ছে। জনগণের স্বার্থে দ্রুত ছয় লেন প্রকল্পের কাজ শেষ করে নিরাপদ সড়ক নিশ্চিত করা জরুরী। আমরা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ করছি, যাতে দ্রুত এই প্রকল্পের কাজ সম্পন্ন হয়।

এ বিষয়ে ঝিনাইদহ-যশোর মহাসড়ক (এন-৭) উন্নয়ন প্রকল্পের উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী (সওজ) নীলন আলী বলেন, ভূমি অধিগ্রহণ কার্যক্রম চলমান রয়েছে। কালীগঞ্জ অংশে ক্ষতিপূরণের চেক বিতরণ চলছে। অন্যান্য অংশের নথি মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে। জমি বুঝে পেলেই কাজের গতি আরও বাড়ানো হবে।