নারায়ণগঞ্জের চনপাড়া থেকে নওগাঁয় ‘শয়তানের নিঃশ্বাস’ চক্র

নওগাঁয় বহুল আলোচিত ও ভয়ঙ্কর রাসায়নিক ‘স্কোপোলামিন’ বা ‘শয়তানের নিঃশ্বাস’ (ডেভিলস ব্রেথ) ব্যবহারকারী একটি চক্রের তিন সক্রিয় সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছে জেলা গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। তারা হলেন মো. আবু হাসান, মো. বাবু ও মো. সবুজ। তাদের সবার বাড়ি নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জ থানার চনপাড়া এলাকায়।
শনিবার (২০ জুন) টাঙ্গাইলের পুরাতন বাসস্ট্যান্ড এলাকা থেকে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়। ইতোমধ্যে নওগাঁর বেশ কয়েকজন ভুক্তভোগী গ্রেফতারকৃতদের শনাক্ত করেছেন।
প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা জানিয়েছেন, নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জ এলাকাকে কেন্দ্র করে এই অপরাধী চক্রটির প্রায় ৮ থেকে ১০টি আলাদা গ্রুপ সক্রিয় রয়েছে। তারা দেশের বিভিন্ন জেলায় ঘুরে ঘুরে সাধারণ মানুষকে এই কেমিক্যালের মাধ্যমে সম্মোহিত করে লুটপাট চালায়। ইতোমধ্যে তারা নওগাঁ, নারায়ণগঞ্জ, খুলনা ও ফরিদপুরসহ দেশের বিভিন্ন জেলায় কমপক্ষে ১০টি বড় ধরনের অপরাধ সংঘটিত করার কথা স্বীকার করেছেন।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, কয়েক মাস ধরে নওগাঁ শহরের বিভিন্ন স্থানে একদল অপরাধী বয়স্ক নারীদের টার্গেট করে আসছিল। চক্রটি ‘শয়তানের নিঃশ্বাস’ খ্যাত বিশেষ কেমিক্যাল কৌশলে ভুক্তভোগীর নাকে প্রয়োগ করত।
এই কেমিক্যাল শরীরে প্রবেশ করার পর ভুক্তভোগী সাময়িকভাবে স্মৃতিভ্রম হয়ে পড়েন এবং অপরাধীদের নিয়ন্ত্রণে চলে যান। সম্মোহিত অবস্থায় ভুক্তভোগী নিজেই কানের দুল, স্বর্ণালঙ্কার কিংবা বাসার আলমারি খুলে টাকা-পয়সা অপরাধীদের হাতে তুলে দিতেন।
নওগাঁ থানায় এ বিষয়ে মোট তিনটি মামলা দায়ের হওয়ার পর তদন্তে নামে পুলিশ।
তদন্তের অংশ হিসেবে নওগাঁ জেলা পুলিশের একটি দল বেশ কয়েকবার নারায়ণগঞ্জে অভিযান চালায়। পরে তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় ডিবি পুলিশ জানতে পারে, এই চক্রটি শনিবার টাঙ্গাইলে একটি অপরাধ সংঘটনের প্রস্তুতি নিচ্ছে।
খবর পেয়ে ডিবি পুলিশের একটি দল টাঙ্গাইলের পুরাতন বাসস্ট্যান্ড এলাকা থেকে চক্রের তিন সদস্যকে হাতেনাতে গ্রেপ্তার করে।
নওগাঁর পুলিশ সুপার মোহাম্মদ তারিকুল ইসলাম জানান, অপরাধের সময় চক্রটির সদস্যরা একটি সুনির্দিষ্ট কৌশল বা ছক ব্যবহার করেন। চক্রের প্রথম সদস্য অত্যন্ত নিরীহ সেজে বয়স্ক কোনো নারীর কাছে গিয়ে সাহায্য চান। ঠিক সেই মুহূর্তে দ্বিতীয় আরেকজন এসে ভুক্তভোগীকে কথায় ব্যস্ত রাখার চেষ্টা করেন। এর মাঝেই তৃতীয় সদস্য এসে ভুক্তভোগীর ওপর ‘শয়তানের নিঃশ্বাস’ বা বিশেষ কেমিক্যাল স্প্রে করে দেন।
কেমিক্যাল ফুসফুসে প্রবেশ করার পরপরই ভুক্তভোগী নিজের নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেলেন এবং অবচেতনভাবেই অপরাধীদের কথামতো নিজের সব মূল্যবান জিনিসপত্র তাদের হাতে দিয়ে দেন।







