বিমানবন্দরে বিশৃঙ্খলা ও মারধরের অভিযোগে আখতারুজ্জামানের বিরুদ্ধে মামলা

হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে লাগেজ ও ট্রলি সংকটকে কেন্দ্র করে তীব্র বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি, সরকারি কাজে বাধা দেওয়া এবং দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের মারধরের অভিযোগে সাবেক সংসদ সদস্য ও অবসরপ্রাপ্ত মেজর আখতারুজ্জামানের বিরুদ্ধে রাজধানীর বিমানবন্দর থানায় মামলা দায়ের করা হয়েছে।
শুক্রবার (২ অক্টোবর) বিমানবন্দরের নিরাপত্তা কর্মকর্তা মো. শাহরিয়ার আলম সজিব বাদী হয়ে মামলাটি দায়ের করেন।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, মামলার এজাহার নম্বর ৬। এজাহারে দণ্ডবিধির একাধিক ধারায় অভিযোগ আনা হয়েছে।
এশিয়া পোস্টকে মামলা দায়েরের খবরটি নিশ্চিত করেছেন বিমানবন্দর থানা ও উত্তরা বিভাগে কর্মরত একাধিক জ্যেষ্ঠ পুলিশ কর্মকর্তা।
মামলার এজাহারে বাদী সজিব উল্লেখ করেন, গত ১ অক্টোবর বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের বিজি-৩৩৮ ফ্লাইটে মদিনা থেকে ৬৪ জন যাত্রী ঢাকায় আসেন। ফ্লাইটটি সকাল ৮টা ৫৫ মিনিটে বিমানবন্দরে অবতরণ করে এবং সকাল ৯টা ৮ মিনিটে যাত্রীদের রিমোট বে বি-১৪-এ পার্কিং করা হয়।
পরে ২১ নম্বর গেট দিয়ে ইমিগ্রেশন সম্পন্ন করে যাত্রীরা ৮ নম্বর লাগেজ বেল্ট এলাকায় পৌঁছান। ওই সময় বিমানবন্দরে অতিরিক্ত যাত্রীচাপ থাকায় লাগেজ ও জমজমের পানি সংগ্রহে বিলম্ব হতে থাকে, ফলে যাত্রীদের দীর্ঘ লাইন তৈরি হয়। এজাহার অনুযায়ী, কয়েকজন প্রটোকল সহকারী লাইনের নিয়ম ভেঙে লাগেজ সংগ্রহের চেষ্টা করলে সংশ্লিষ্ট কর্মীদের সঙ্গে উত্তেজনাকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়।
সকাল আনুমানিক ১০টা ৪০ মিনিটে ঢাকা-৫ আসনের সংসদ সদস্য মোহাম্মদ কামাল হোসেন বিমানবন্দরের নির্বাহী পরিচালক গ্রুপ ক্যাপ্টেন এস এম রাকিব সামাদকে ঘটনাস্থলে ডেকে পাঠান। নির্বাহী পরিচালক ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলার সময় মেজর (অব.) আখতারুজ্জামান তার দিকে আক্রমণাত্মক ভঙ্গিতে এগিয়ে আসেন এবং অশালীন ও অশ্রাব্য ভাষায় গালিগালাজ করতে থাকেন।
নিরাপত্তা সদস্যরা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করলেও তিনি উত্তেজিত হয়ে হুমকি দিয়ে বলতে থাকেন, ‘আপনি কিন্তু পিটিয়ে যাবেন’, ‘গেট আউট ফ্রম হেয়ার’, ‘ঘাড় ধরে বের করে দিব’, ‘কাজ জানেন না, তদবির করে পোস্টিংয়ে আসবেন’, ‘মার খেতে চান?’।
একপর্যায়ে অভিযুক্ত ব্যক্তি নিরাপত্তা কর্মকর্তাকে শারীরিকভাবে আঘাত করেন এবং বিমানবন্দরে দায়িত্বে থাকা প্রটোকল সহকারী ঘটনার ভিডিও ধারণ করতে গেলে তাকে বাধা দেওয়া হয় ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভিডিও ছড়িয়ে দেওয়ার হুমকি দেওয়া হয়। পরবর্তীতে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের প্রতিনিধি ঘটনাস্থলে এলে তার সঙ্গেও মারমুখী আচরণ করা হয় এবং সাধারণ যাত্রীদের ট্রলি থেকে জমজমের পানির পাত্র ছুড়ে ফেলে ক্ষতিসাধন করা হয়।
বাদীর অভিযোগ, কেপিআই-ভুক্ত ও অত্যন্ত স্পর্শকাতর স্থানে দায়িত্ব পালনরত সরকারি কর্মকর্তাদের বাধা দেওয়া, শারীরিক লাঞ্ছনা ও ভীতি প্রদর্শনে বিমানবন্দরে স্বাভাবিক নিরাপত্তা ব্যবস্থা বিঘ্নিত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। এজাহারে ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী, সিসিটিভি ফুটেজ, অ্যাকসেস/সিকিউরিটি রেকর্ড ও ইলেকট্রনিক আলামত সংগ্রহ করে সুষ্ঠু তদন্তের অনুরোধ জানানো হয়েছে।
এ বিষয়ে ডিএমপির বিমানবন্দর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কামরুল ইসলাম তালুকদার জানান, ‘সরকারি কাজে বাধা ও হুমকি-ধামকির অভিযোগে অবসরপ্রাপ্ত মেজর আখতারুজ্জামানের বিরুদ্ধে নিয়মিত মামলা রুজু করা হয়েছে। বিষয়টির তদন্ত চলছে।’
এদিকে, ওমরাহ শেষে ফেরার পথে বিজি-৩৩৮ ফ্লাইটের ৩৪ জন সংসদ সদস্যসহ সাধারণ যাত্রীদের লাগেজ ও জমজমের পানি ৩ ঘণ্টা পার হলেও বুঝিয়ে না দেওয়ায় চরম হয়রানির অভিযোগ উঠেছে।
এ বিষয়ে যাত্রী হয়রানি ও কর্তব্যে অবহেলার অভিযোগে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) বরাবর লিখিত অভিযোগপত্র ও ৪ কর্মদিবসের কারণ দর্শানোর নোটিশ দিয়েছেন চার সংসদ সদস্য। স্বাক্ষরকারী চার সংসদ সদস্য হলেন শেরপুর-১ আসনের মো. রাশেদুল ইসলাম রাশেদ, ঢাকা-৫ আসনের মোহাম্মদ কামাল হোসেন, গাজীপুর-৪ আসনের সালাহউদ্দীন এবং খুলনা-২ আসনের জাহাঙ্গীর হুসাইন।
