Advertisement

এমপি নজরুলের বহিষ্কারে ৫ বিশ্লেষকের প্রতিক্রিয়া

এশিয়া পোস্ট নিউজ
এমপি নজরুলের বহিষ্কারে ৫ বিশ্লেষকের প্রতিক্রিয়া
ছবি: এশিয়া পোস্ট গ্রাফিকস

১৮ বছর বয়সী এক তরুণীর সঙ্গে হোটেল কক্ষে ‘আপত্তিকর অবস্থার’ ভিডিও ভাইরাল হওয়ার পর সাতক্ষীরা-৪ আসনের সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলামকে দল থেকে বহিষ্কার করেছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। জামায়াত নেতার বহিষ্কার ইস্যুতে বিভিন্ন বেসরকারি টেলিভিশনের টকশোতে প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন বিশ্লেষকরা।

টকশোতে বিশ্লেষকদের প্রতিক্রিয়া নিচে তুলে ধরা হলো—

সংসদ সদস্য নীলুফার চৌধুরী

বিএনপির সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য নিলুফার চৌধুরী বলেছেন, গাজী নজরুল ইসলামকে বহিষ্কার করে জামায়াত ভালো একটি বার্তা দিয়েছে। অতীতে আমরা দেখেছি যে, আওয়ামী লীগের (নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠন) অনেকের ক্ষেত্রেই বিভিন্ন ভিডিও প্রকাশিত হওয়ার পরও তাদের বহিষ্কার করা হয়নি। বর্তমান সোশ্যাল মিডিয়ার যুগে পদ-পদবিতে থেকে যারা এ ধরনের ঘটনা ঘটিয়েছেন, তাদের বিরুদ্ধে এই পদক্ষেপটি যথাযথ।

‘জবান’র সম্পাদক রেজাউল করিম রনি

রাজনীতি বিশ্লেষক ও ‘জবান’ ম্যাগাজিনের সম্পাদক রেজাউল করিম রনি বলেছেন, জামায়াত অবশ্যই খুব ভালো কাজ করেছে গাজী নজরুলকে বহিষ্কার করে। আমি জামায়াতের একজন কট্টর সমালোচক হিসেবে তাদের সাধুবাদ জানাচ্ছি। এই ঘটনা নিয়ে আমি বলব— তারা এবার অন্তত বলে নাই যে ‘এ দায় ব্যক্তির’। এই প্রথম এমন দেখা গেল যে, বড় কোনো নেতার ক্ষেত্রে তারা সাংগঠনিক সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

সিনিয়র সাংবাদিক মাসুদ কামাল

সিনিয়র সাংবাদিক ও রাজনৈতিক বিশ্লেষক মাসুদ কামাল বলেছেন, গাজী নজরুল ইসলামকে বহিষ্কার করার জন্য আমি জামায়াতকে ধন্যবাদ জানাচ্ছি। আমি মনে করি, জামায়াতের এই উদাহরণটি অন্য দলগুলোও অনুসরণ করবে। কারণ নৈতিক স্খলনের জন্য আমাদের দেশে কোনো এমপিকে তার দল বহিষ্কার করেছে—এমন ইতিহাস নেই। আমরা তো জামায়াতের অনেক নেতার সঙ্গেই টকশো করি; আমার মনে হয় গতকাল তারা কোথাও যাননি এবং আজকেও আসতে চাইবেন না। কারণ, একজন লোকের কারণেই আজ তাদের সমালোচনা সহ্য করতে হচ্ছে এবং স্বভাবতই তারা রেগে আছেন।

সিনিয়র সাংবাদিক আনিস আলমগীর

সিনিয়র সাংবাদিক আনিস আলমগীর বলেছেন, জামায়াত গাজী নজরুলের বিরুদ্ধে অভিযোগের তদন্ত করে প্রমাণ পেয়েছে—যা তাদের রাজনৈতিক আদর্শের সঙ্গে যায় না। তাৎক্ষণিকভাবে তাকে বহিষ্কার করার জন্য জামায়াতকে ধন্যবাদ জানাচ্ছি। আমি বারবার বলি, জামায়াতে ইসলামী একটি সুশৃঙ্খল দল। তাদের একজন নেতা এবং এমপি—যে আবার মুক্তিযোদ্ধা পরিচয়ও দেয়—যদি এ ধরনের কাজ করে, তবে সেটা দলের ওপর চাপ সৃষ্টি করে। তাই তাকে বহিষ্কার করে জামায়াত একেবারে যথাযথ কাজই করেছে।

ব্যারিস্টার সাজেদ আলী চৌধুরী

সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ব্যারিস্টার সাজেদ আলী চৌধুরী বলেছেন, সাতক্ষীরা-৪ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলামকে তার নৈতিক স্খলনের কারণে বহিষ্কার করায় জামায়াতকে ধন্যবাদ জানাচ্ছি। জামায়াত নিজেদের একটি আদর্শিক সংগঠন হিসেবে পরিচয় দেয় এবং সে অনুযায়ী কাজ করার চেষ্টা করে। ঘটনাটি জানার একদিন পরেই তারা তাকে বহিষ্কার করেছে—এটি অবশ্যই একটি ভালো সিদ্ধান্ত।

সম্প্রতি গাজী নজরুল ইসলামের সঙ্গে এক তরুণীর অন্তরঙ্গ মুহূর্তের একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। সোমবার (২০ জুলাই) রাত থেকে ভিডিওটি ভাইরাল হলে তা রাজনৈতিক ও সামাজিক অঙ্গনে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়।

ভিডিওটি ভাইরাল হবার পর বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী একটি অভ্যন্তরীণ তদন্ত কমিটি গঠন করে। দলীয় তদন্তে ঘটনাটি তার 'নৈতিক স্খলন' হিসেবে প্রমাণিত হয়। এর ভিত্তিতে ২১ জুলাই দলটির কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদের এক জরুরি সভায় গঠনতন্ত্রের ৬২ ধারা মোতাবেক তাকে দল থেকে চূড়ান্তভাবে বহিষ্কারের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। পরে ২২ জুলাই দলের পক্ষ থেকে বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে এই সিদ্ধান্ত আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করা হয়।