logo

ফেরদৌসী আহমেদ মিষ্টির পদত্যাগপত্র পেয়েছি: স্পিকার

ফেরদৌসী আহমেদ মিষ্টির পদত্যাগপত্র পেয়েছি: স্পিকার
জাতীয় সংসদের স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ। ছবি: বাসস

সংরক্ষিত নারী আসনের বিএনপির সংসদ সদস্য (এমপি) ফেরদৌসী আহমেদ মিষ্টির পদত্যাগপত্র পেয়েছেন বলে জানিয়েছেন জাতীয় সংসদের স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ। তিনি বলেছেন, ‘সংবিধানের অনুযায়ী, পদত্যাগপত্র পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই তার পদত্যাগ কার্যকর হয়েছে।’

বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) জাতীয় সংসদের টানেলে তিনি এসব কথা বলেন।

হাফিজ উদ্দিন আহমদ বলেন, সংরক্ষিত নারী আসনের ২৩ নম্বর সংসদ সদস্য ফেরদৌসী আহমেদ মিষ্টি আমার অফিসে এসে লিখিতভাবে চিঠি দিয়ে গেছেন। সংবিধানের বিধান অনুযায়ী পত্রটি পাওয়ার পরই তার পদ শূন্য হয়ে গেছে। আমরা এটি নির্বাচন কমিশনে পাঠিয়ে দেব। আজ থেকেই এই পদত্যাগ কার্যকর হবে।

এক প্রশ্নের জবাবে স্পিকার বলেন, ‘সংসদের বিধান হলো, এমপির যখন পদত্যাগ করেন তখন কোনো কারণ উল্লেখ করেন না।’

এদিকে, সংবিধানের ৭০ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য (এমপি) ফেরদৌসী আহমেদ মিষ্টির আসন শূন্য ঘোষণা করা হয়েছে।

বৃহস্পতিবার বিকেল ৪টার দিকে আসনটি শূন্য ঘোষণা করা।

জাতীয় সংসদ সচিবালয়ের সচিব ব্যারিস্টার মো. গোলাম সরওয়ার ভূঁইয়া স্বাক্ষরিত বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের ৩২৩ মহিলা আসন-২৩-এর সংসদ সদস্য ফেরদৌসী আহমেদ ১ অক্টোবর পদত্যাগ করায় গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের সংবিধানের ৬৭ (২) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী উক্ত তারিখে আসনটি শূন্য হয়েছে।

বিজ্ঞপ্তিটি বাংলাদেশ গেজেটের অতিরিক্ত সংখ্যায় প্রকাশের জন্য ইতোমধ্যে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে নির্দেশক্রমে অনুরোধ করা হয়েছে। এ ছাড়া উক্ত শূন্য আসন পূরণে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য বিষয়টি নির্বাচন কমিশন সচিবালয়কেও অবহিত করা হয়েছে।

এর আগে রাজধানীর মিরপুরে রাড্ডা এমসিএইচ-এফপি সেন্টারে হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনায় অভিযোগ ওঠার পর সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য ফেরদৌসী আহমেদ মিষ্টিকে পদত্যাগের নির্দেশ দেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

বৃহস্পতিবার তিনি এ নির্দেশ দেন। দুপুরে প্রধানমন্ত্রীর অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমন এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। দুপুর ২টার দিকে জাতীয় সংসদের স্পিকারের কাছে পদত্যাগপত্র জমা দেন তিনি।

গত ২৪ সেপ্টেম্বর মধ্যরাতে মিরপুর-১ নম্বরে রাড্ডা এমসিএইচ-এফপি সেন্টারে হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনা ঘটে। পরে ভারী যন্ত্রপাতি ব্যবহার করে স্বাস্থ্যকেন্দ্রটির স্থাপনাও গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়।

মামলার এজাহার অনুযায়ী, ঘটনায় প্রায় ১ কোটি ৯ লাখ টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। এ ঘটনায় ইতোমধ্যে কয়েকজনকে গ্রেপ্তার করে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

এ ঘটনায় বিভিন্ন গণমাধ্যমের অনুসন্ধানে ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপির সাবেক সদস্য মোহাম্মদ হানিফ মিয়া ও ঢাকা মহানগর উত্তর যুবদলের সাবেক সদস্যসচিব মোস্তফা জগলুল পাশার নাম আসে। তারা ফেরদৌসী আহমেদের ঘনিষ্ঠ হিসেবে এলাকায় পরিচিত।