তিস্তা প্রকল্পের সিদ্ধান্তে অনড় চীন: রাষ্ট্রদূত

বাংলাদের উত্তরাঞ্চলের বহুল প্রত্যাশিত তিস্তা নদী ব্যবস্থা ও পুনরুদ্ধার প্রকল্প বাস্তবায়নে নিজেদের অবস্থানে অনড় রয়েছে চীন। প্রকল্পটির মূল উদ্দেশ্য হলো নদী ব্যবস্থাপনার আধুনিকায়ন, বন্যা নিয়ন্ত্রণ ও তিস্তা নদীর অববাহিকার মানুষের জীবনমান উন্নয়ন বলে জানিয়েছেন ঢাকায় নিযুক্ত চীনের রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েন।
বৃহস্পতিবার (০২ জুলাই) ঢাকায় চীনা দূতাবাসে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এ কথা বলেন রাষ্ট্রদূত। সম্প্রতি বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের চীন সফর নিয়ে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হন চীনের এই কূটনীতিক।
ইয়াও ওয়েন জানান, প্রকল্পটি একটি জনকল্যাণমূলক উদ্যোগ। তিস্তার দুই তীরের মানুষের জীবন ও জীবিকার উন্নয়ন এবং নদী ব্যবস্থাপনাকে আধুনিক ও টেকসই করাই এর প্রধান লক্ষ্য। এ কারণে বাংলাদেশের প্রয়োজন বিবেচনায় রেখে চীন এ প্রকল্পে সহযোগিতা দিতে আগ্রহী।
ভারতের সীমান্ত-সংলগ্ন এলাকায় প্রকল্পটি বাস্তবায়ন নিয়ে উত্থাপিত উদ্বেগের বিষয়ে তিনি বলেন, চীনের সিদ্ধান্ত অন্য কোনো দেশের অবস্থানের ওপর নির্ভরশীল নয়। প্রকল্পটি নিয়ে বাংলাদেশের সঙ্গে আলোচনা ও সমীক্ষার ভিত্তিতেই চীন এগোবে।
বাংলাদেশ-চীন সম্পর্কের উন্নয়নে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের বাবা ও মায়ের অবদানের কথা স্মরণ করে তিনি বলেন, তারা দুই দেশের সম্পর্কের উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ও ঐতিহাসিক অবদান রেখে গেছেন। তারেক রহমানও সেই পারিবারিক ঐতিহ্যকে এগিয়ে নিয়ে দুই দেশের সম্পর্ককে নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাবেন বলে আশা রাখি।
ইয়াও ওয়েন বলেন, তারেক রহমানের বাবা জিয়াউর রহমান বাংলাদেশের স্বাধীনতা ও রাষ্ট্রগঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন। অন্যদিকে, তার মা বেগম খালেদা জিয়া সাবেক প্রধানমন্ত্রী হিসেবে বাংলাদেশ-চীন সম্পর্ককে আরও পরিণত ও শক্তিশালী করতে উল্লেখযোগ্য অবদান রাখেন।
তিনি স্মরণ করেন, সাবেক প্রধানমন্ত্রী অন্তত তিনবার চীন সফর করেছিলেন, যা দুই দেশের পারস্পরিক সহযোগিতা জোরদারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছিল।
চীনা রাষ্ট্রদূত বলেন, চীন বিশ্বাস করে, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান তার পরিবারের সেই ঐতিহ্য বহন করে বাংলাদেশ-চীন বন্ধুত্বকে আরও এগিয়ে নেবেন। বিশেষ করে অর্থনৈতিক সহযোগিতা, সামাজিক উন্নয়ন এবং জাতীয় উন্নয়নের বিভিন্ন ক্ষেত্রে দুই দেশের অংশীদারত্ব আরও সম্প্রসারিত হবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
ইয়াও ওয়েন জানান, সাম্প্রতিক উচ্চপর্যায়ের আলোচনায় বাংলাদেশ ও চীন দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের জন্য একটি নতুন লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে। দুই দেশ ‘অভিন্ন ভবিষ্যতের বাংলাদেশ-চীন সম্প্রদায়’ গঠনের বিষয়ে ঐকমত্যে পৌঁছেছে, যা ভবিষ্যতে সহযোগিতার নতুন দিগন্ত উন্মোচন করবে।
তিনি বলেন, এই নতুন ঐকমত্য বাংলাদেশ-চীন সম্পর্ককে আরও গতিশীল ও কৌশলগত পর্যায়ে নিয়ে যাবে এবং বিভিন্ন ক্ষেত্রে বাস্তবভিত্তিক সহযোগিতা আরও গভীর হবে।
সূত্র: সিএমজি





