বরাদ্দের ১০ মসজিদের ৮টি জামায়াত এমপির নিজ উপজেলায়

এশিয়া পোস্ট নিউজ, চাঁপাইনবাবগঞ্জ
বরাদ্দের ১০ মসজিদের ৮টি জামায়াত এমপির নিজ উপজেলায়
চাঁপাইনবাবগঞ্জ-২ আসনের সংসদ সদস্য ড. মু. মিজানুর রহমান ও বরাদ্দের চিঠি। ছবি: সংগৃহীত

চাঁপাইনবাবগঞ্জ-২ আসনের ১০টি মসজিদ উন্নয়নে বরাদ্দ দিয়েছে সরকার। এর মধ্যে আটটি গেছে স্থানীয় জামায়াতদলীয় সংসদ সদস্য ড. মু. মিজানুর রহমানের নিজ উপজেলা গোমস্তাপুরে। বাকি দুটি বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে তার নির্বাচনি আসনের অন্য দুই উপজেলা নাচোল ও ভোলাহাটে।

নাচোলে বরাদ্দকৃত মসজিদটি আবার পৌর জামায়াতের আমির মুনিরুল ইসলামের নিজ গ্রামে। মুনিরুল ইসলাম নিজেই এশিয়া পোস্টকে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

সরকারের সামাজিক অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্প-২ এর আওতায় নাচোল, গোমস্তাপুর ও ভোলাহাট উপজেলার ১০টি মসজিদের জন্য মোট ৩০ লাখ টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু সেখানে এমপির নিজ এলাকার বাইরে বাকি দুই উপজেলার প্রতি বৈষম্যের অভিযোগ তুলেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।

চাঁপাইনবাবগঞ্জ-২ আসনে মোট ১৬টি ইউনিয়ন ও দুটি পৌরসভা রয়েছে। এর অর্ধেকই গোমস্তাপুরে। এই উপজেলায় আটটি ইউনিয়ন ও একটি পৌরসভা রয়েছে। কিন্তু বরাদ্দ পাওয়া মসজিদের ৮০ ভাগই সেখানে।

তালিকায় সংসদ সদস্য মিজানুর রহমানের নিজ এলাকা রহনপুর পৌরসভার পুরাতন প্রসাদপুর দক্ষিণ পাড়া জামে মসজিদ, রহনপুর রেলস্টেশন বাজার শাহী জামে মসজিদ ও নুনগোলা জামে মসজিদ রয়েছে।

গোমস্তাপুর উপজেলার সন্তোষপুর জামে মসজিদ, দাঁড়াবাজ গাবতলা জামে মসজিদ, দিঘা বাজার জামে মসজিদ, পলাশডাঙ্গা জামে মসজিদ ও কাশিয়া বাড়ি পূর্বপাড়া জামে মসজিদও রয়েছে তালিকায়।

বাকি দুই উপজেলার ভাগ্যে জুটেছে মাত্র একটি করে মসজিদ। এগুলো হচ্ছে নাচোল পৌরসভার মুরাদপুর পশ্চিমপাড়া পুরাতন জামে মসজিদ এবং ভোলাহাট উপজেলার দলদলি ইউনিয়নের মধ্য খড়কপুর জামে মসজিদ।

একটি উপজেলায় আটটি আর বাকি দুই উপজেলায় মাত্র একটি করে মসজিদে বরাদ্দ দেওয়াকে বৈষম্য হিসেবে দেখছেন ওই দুই উপজেলার বাসিন্দারা। ভবিষ্যতে যে কোনো সরকারি বরাদ্দে সমতা দেখতে চান তারা।

ওবায়দুল্লাহ নামের এক ব্যক্তি বলেন, ‘সমতার ভিত্তিতে যদি এই বরাদ্দ বণ্টন করা হতো, তবে দুই উপজেলার (নাচোল ও ভোলাহাট) দুটি পৌরসভার জন্য দুটি এবং প্রতি দুটি ইউনিয়নের জন্য একটি করে মসজিদ বরাদ্দ পাওয়ার কথা। সেই হিসাবে নাচোল উপজেলা তিনটি, ভোলাহাট তিনটি এবং গোমস্তাপুর উপজেলা চারটি মসজিদ পাওয়ার কথা। কিন্তু তা হয়নি।’

সাধারণ মানুষের পাশাপাশি বিএনপি নেতারাও এই বরাদ্দকে বৈষম্যমূলক হিসেবে দেখছেন। নাচোল উপজেলা বিএনপির সভাপতি মো. মাজিদুল ইসলাম বলেন, ‘নাচোলে যে মসজিদ উন্নয়নে বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে, সেটি জামায়াতের পৌর আমিরের এলাকায়। এটা মোটেও ঠিক হয়নি। সমানভাবে বরাদ্দ দিতে পারতো। নাচোলে আরও অনেক মসজিদ এই টাকা পাওয়ার যোগ্য ছিল।’

ভোলাহাট উপজেলা বিএনপির সভাপতি ইয়াজদানি জর্জ বলেন, ‘অবশ্যই বৈষম্য করা হয়েছে। প্রত্যেকটি উপজেলায় আনুপাতিক হারে বরাদ্দ দেওয়া উচিত ছিল।’

ভুল স্বীকার জামায়াতের

সমালোচনার মুখে বিষয়টি নিয়ে ভুল স্বীকার করেছেন স্থানীয় জামায়াতের নেতারা। দলটির নাচোল উপজেলা আমির ইয়াকুব আলী বলেন, ‘এর আগে যত বরাদ্দ হয়েছে, সেগুলো সমতার ভিত্তিতে করা হয়েছে। এবার একটু ভুল হয়েছে। এমপির সঙ্গে কথা হয়েছে আমাদের, তিনি জানিয়েছেন পরবর্তী বরাদ্দে সমন্বয় করা হবে।’

সংসদ সদস্য ড. মিজানুর রহমান বলেন, ‘আমার নির্বাচনি এলাকায় ১০টি মসজিদ উন্নয়নে বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। এর আগে তাৎক্ষণিকভাবে একটি তালিকা চাওয়া হয়েছিল। আমার ফাইলে যেসব আবেদন ছিল সেখান থেকেই তালিকা করা হয়েছে। পরবর্তীতে দেখা গেছে, গোমস্তাপুর উপজেলায় সংখ্যাটা বেশি।’

বিষয়টি মাথায় রেখে পরবর্তী বরাদ্দে উপজেলাভিত্তিক সমতা নিশ্চিতের বিষয়ে আশ্বস্ত করেন তিনি।