Advertisement

শিক্ষক দুজন, দাপ্তরিক কাজে বাইরে গেলেই ক্লাস নেয় শিক্ষার্থীরা

এশিয়া পোস্ট নিউজ, জামালপুর
শিক্ষক দুজন, দাপ্তরিক কাজে বাইরে গেলেই ক্লাস নেয় শিক্ষার্থীরা
দুইজন শিক্ষক দিয়ে পশ্চিম নাংলা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে চলছে পাঠদান। ছবি : এশিয়া পোস্ট

জামালপুরের মাদারগঞ্জ উপজেলার পশ্চিম চর নাংলা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ছয়টি অনুমোদিত শিক্ষকের পদের বিপরীতে কর্মরত আছেন মাত্র দুজন। শিক্ষকসংকটের কারণে কোনো শিক্ষক দাপ্তরিক কাজে বাইরে গেলে অনেক সময় বড় শ্রেণির শিক্ষার্থীদের দিয়েই ছোটদের ক্লাস পরিচালনা করতে হয়। এতে ব্যাহত হচ্ছে পাঠদান কার্যক্রম, আর কাঙ্ক্ষিত শিক্ষা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে শিক্ষার্থীরা।

সম্প্রতি সরেজমিনে বিদ্যালয়ে গিয়ে দেখা যায়, সকাল গড়িয়েছে। শ্রেণিকক্ষে বসে আছে ছোট ছোট শিক্ষার্থীরা। কেউ বই দেখছে, কেউ খাতা উল্টে আগের দিনের পড়া দেখছে। শিক্ষক আসার অপেক্ষায় সময় পার করছে তারা। বিদ্যালয়টির এটি প্রায় প্রতিদিনের চিত্র।

১৯৭৯ সালে প্রতিষ্ঠিত বিদ্যালয়টিতে বর্তমানে প্রাক-প্রাথমিক থেকে পঞ্চম শ্রেণি পর্যন্ত প্রায় ৭০ জন শিক্ষার্থী রয়েছে। তবে ছয়টি অনুমোদিত শিক্ষকের পদের বিপরীতে কর্মরত আছেন মাত্র দুজন। দীর্ঘদিন একজন শিক্ষক দিয়েই বিদ্যালয়ের পাঠদান কার্যক্রম পরিচালিত হয়েছে। গত ৯ জুলাই ফুলজোড় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকে মো. উজ্জ্বলকে সংযুক্ত করা হলে দ্বিতীয় শিক্ষক যোগ দেন। এরপর কিছুটা স্বস্তি ফিরলেও শিক্ষকসংকট এখনও কাটেনি।

শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, গত ৯ জুলাই পর্যন্ত বিদ্যালয়ের সব শ্রেণির পাঠদান একজন শিক্ষককেই পরিচালনা করতে হতো। অনেক সময় একই কক্ষে একাধিক শ্রেণির শিক্ষার্থীদের একসঙ্গে বসিয়ে পাঠদান করা হয়েছে। বর্তমানে দুই শিক্ষক মিলে প্রথম থেকে পঞ্চম শ্রেণির পাঠদান চালিয়ে যাচ্ছেন। তবে কোনো শিক্ষক উপজেলা শিক্ষা অফিস বা অন্য দাপ্তরিক কাজে বাইরে গেলে একজনের পক্ষে সব শ্রেণির ক্লাস নেওয়া সম্ভব হয় না। তখন বড় শ্রেণির মেধাবী শিক্ষার্থীদের ছোটদের দেখভালের দায়িত্ব দেওয়া হয়। অভিভাবকদের অভিযোগ, শিক্ষকসংকটের কারণে নিয়মিত পাঠদান ব্যাহত হচ্ছে এবং শিক্ষার্থীদের লেখাপড়ার ক্ষতি হচ্ছে।

জামালপুরের মাদারগঞ্জ উপজেলার পশ্চিম নাংলা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়। ছবি : এশিয়া পোস্ট
জামালপুরের মাদারগঞ্জ উপজেলার পশ্চিম নাংলা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়। ছবি : এশিয়া পোস্ট

অভিভাবক শফিকুল ইসলাম বলেন, ছয়জন শিক্ষকের জায়গায় দুজন শিক্ষক দিয়ে একটি বিদ্যালয় পরিচালনা করা সম্ভব নয়। দ্রুত শূন্য পদগুলো পূরণ না হলে শিশুদের লেখাপড়ার ক্ষতি আরও বাড়বে। দুজন শিক্ষক সব ক্লাস কীভাবে নেবেন? আমরা দ্রুত শিক্ষক নিয়োগের দাবি জানাই।

বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক আব্দুল মমিন এশিয়া পোস্টকে বলেন, আমি যখন একা ছিলাম, তখন সব শ্রেণির শিক্ষার্থীদের একসঙ্গে বা ভাগ করে ক্লাস নিতে হতো। এখন আরেকজন শিক্ষক আসায় কিছুটা স্বস্তি হয়েছে। তবে দুজন শিক্ষক দিয়ে ৭০ জন শিক্ষার্থীর সব ক্লাস, দাপ্তরিক কাজ ও প্রশাসনিক দায়িত্ব পালন করা এখনও কঠিন।

তিনি আরও বলেন, শিক্ষকসংকটের কারণে নানা সমস্যার মধ্যেও আমরা রুটিন অনুযায়ী সব ক্লাস নেওয়ার চেষ্টা করি। আরও একজন শিক্ষক পাওয়া গেলে পরিস্থিতি অনেকটাই স্বাভাবিক হবে।

দাপ্তরিক কাজে উপজেলা সদরে যেতে হলে কীভাবে পাঠদান চলে, এমন প্রশ্নের জবাবে আব্দুল মমিন বলেন, বিশেষ প্রয়োজনে বাইরে যেতে হলে বড় শ্রেণির মেধাবী শিক্ষার্থীদের দায়িত্ব দেওয়া হয়, যাতে ছোটদের ক্লাস পুরোপুরি বন্ধ না থাকে। বর্তমানে বেশির ভাগ দাপ্তরিক কাজ অনলাইনে হওয়ায় আগের তুলনায় অফিসে কম যেতে হয়। তবে মাসিক সভাসহ বিভিন্ন কাজে বাইরে যেতে হয়।

তিনি আরও বলেন, বিদ্যালয়ের শিক্ষকসংকটের বিষয়টি একাধিকবার ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তাসহ সংশ্লিষ্টদের অবহিত করা হয়েছে এবং আরও একজন শিক্ষক দেওয়ার আশ্বাস পাওয়া গেছে।

উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তার কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, মাদারগঞ্জ উপজেলায় ২০১টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে মোট ১ হাজার ২৩৬টি শিক্ষকের পদ রয়েছে। এর মধ্যে কর্মরত আছেন ১ হাজার ৮৮ জন শিক্ষক। শূন্য রয়েছে ১৪৮টি পদ।

উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা খলিলুর রহমান বলেন, বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। শূন্য পদে শিক্ষক নিয়োগের জন্য প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।

জামালপুরের সহকারী জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. হারুন-অর-রশিদ বলেন, যোগাযোগব্যবস্থা খারাপ হওয়ায় অনেক শিক্ষক সেখানে যেতে চান না। এ ছাড়া সামগ্রিকভাবেই শিক্ষকসংকট রয়েছে। বিষয়টি জানার পর গত সপ্তাহে একজন শিক্ষককে ওই বিদ্যালয়ে সংযুক্ত করা হয়েছে। দ্রুত সময়ের মধ্যে সেখানে আরও শিক্ষক পদায়নের ব্যবস্থা করা হবে।

বিষয় :জামালপুর