logo

আমির হামজার জন্য তোরণ বানাতে ‘ন্যাড়া’ করা হলো ১৫ বছরের বকুলগাছ

আমির হামজার জন্য তোরণ বানাতে ‘ন্যাড়া’ করা হলো ১৫ বছরের বকুলগাছ
তোরণের সৌন্দর্য রক্ষায় বকুলগাছটির ডালপালা কেটে ফেলা হয় (লাল চিহ্নিত)। ছবি : ফেসবুক থেকে পাওয়া

জামায়াতে ইসলামীর সংসদ সদস্য আমির হামজার আগমন উপলক্ষে চাঁপাইনবাবগঞ্জ শহরের শান্তিমোড় এলাকায় নির্মাণ করা হয়েছিল একটি তোরণ। সেটি নির্মাণের জন্য সড়ক বিভাজকে থাকা প্রায় ১৫ বছরের পুরোনো একটি বকুলগাছের ডালপালা কেটে ‘ন্যাড়া’ করে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। পরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সমালোচনার মুখে তোরণটি সরিয়ে নেওয়া হয়।

গত বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) রাতে পৌরসভার অনুমতি ছাড়াই সড়ক বিভাজকে থাকা প্রায় ১৫ বছরের পুরোনো গাছটির ডালপালা কাটা হয় বলে দাবি করেছে চাঁপাইনবাবগঞ্জ পৌরসভা।

জানা গেছে, আগামী ৭ অক্টোবর নবাবগঞ্জ সরকারি কলেজ মাঠে ইসলামি সমাজকল্যাণ ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে ইসলামী মাহফিলের আয়োজন করা হয়েছে। এতে কুষ্টিয়া-৩ (সদর) আসনের সংসদ সদস্য আমির হামজাকে প্রধান বক্তা হিসেবে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। এর আগে গত ২৫ সেপ্টেম্বর মাহফিলটি হওয়ার কথা থাকলেও আবহাওয়াজনিত কারণে তা অনুষ্ঠিত হয়নি।

চাঁপাইনবাবগঞ্জ পৌরসভা সূত্রে জানা যায়, শান্তিমোড় এলাকার সড়ক বিভাজকে থাকা বকুলগাছটির বয়স ১৫ বছরের বেশি। গাছটির ডালপালা কাটার পর বিষয়টি নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যেও সমালোচনা শুরু হয়।

গাছের ডালপালা কাটার কথা স্বীকার করে ইসলামি সমাজকল্যাণ ফাউন্ডেশনের সভাপতি মাওলানা মো. আসলাম কবীর বলেন, আমরা পৌরসভার নির্বাহী কর্মকর্তা ও প্রকৌশলীকে জানিয়েই ডেকোরেটরের লোক দিয়ে ডালপালা কাটিয়েছিলাম। কিন্তু তারা যে গাছটি একেবারে ন্যাড়া করে ফেলবে, তা বুঝতে পারিনি। পরে দেখে আমারও খারাপ লেগেছে। এ জন্য আমি দুঃখিত। বিষয়টি নিয়ে বিতর্ক সৃষ্টি হওয়ায় কমিটির সিদ্ধান্ত অনুযায়ী শনিবার সকালে তোরণটি সরিয়ে ফেলা হয়েছে।

আমির হামজাকে মাহফিলে ইসলামি বক্তা হিসেবে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, এটি একটি ধর্মীয় সংগঠন। মাহফিলে বিএনপি ও অন্যান্য দলের স্থানীয় নেতাদেরও আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। জামায়াতের এমপি আমির হামজাকে ইসলামি বক্তা হিসেবে ডেকেছি। জামায়াতের সঙ্গে আমাদের সংগঠনের কোনো সম্পর্ক নেই।

তবে বকুলগাছটির ডালপালা কাটার জন্য পৌরসভার কোনো অনুমতি দেওয়া হয়নি বলে জানিয়েছেন চাঁপাইনবাবগঞ্জ পৌরসভার নির্বাহী কর্মকর্তা মো. মামুন অর রশীদ। তিনি এশিয়া পোস্টকে বলেন, ‘তারা একটি বড়ইগাছের কিছু ডাল কাটার অনুমতি চেয়েছিল। কিন্তু আমরা বকুলগাছের ডালপালা কাটা কিংবা গাছটি ন্যাড়া করে দেওয়ার অনুমতি দিইনি। গাছটি ন্যাড়া করে দেওয়ার কথা শুনে আমাদের সবারই খারাপ লেগেছে।’

তিনি আরও বলেন, ‘গাছটির মালিকানা পৌরসভার। এটি একটি চমৎকার ছায়াবৃক্ষ ছিল। এভাবে গাছের ডালপালা কেটে ফেলা অত্যন্ত খারাপ কাজ হয়েছে।’

এদিকে, আমির হামজা অনুষ্ঠানের প্রধান বক্তা হলেও মাহফিল আয়োজনের সঙ্গে জামায়াতে ইসলামীর কোনো সম্পর্ক নেই বলে দাবি করেছেন জেলা জামায়াতের আমির আবু জার গিফারী। তিনি বলেন, এভাবে গাছের ডালপালা কেটে ফেলা মোটেই সঠিক কাজ হয়নি।