logo

ঠাকুরগাঁওয়ে ৩ বিঘা জমিতে ২২২ বছরের সূর্যপুরী আমগাছ

রহিম শুভ
ঠাকুরগাঁও
ঠাকুরগাঁওয়ে ৩ বিঘা জমিতে ২২২ বছরের সূর্যপুরী আমগাছ
ঠাকুরগাঁওয়ের বালিয়াডাঙ্গী উপজেলায় প্রায় ৩ বিঘা জমিতে ছড়িয়ে থাকা ২২২ বছরের প্রাচীন ঐতিহাসিক সূর্যপুরী আমগাছ। ছবি : এশিয়া পোস্ট

ঠাকুরগাঁওয়ের বালিয়াডাঙ্গী উপজেলা সদর থেকে ১২ কিলোমিটার দূরে সীমান্ত ইউনিয়ন হরিণমারী। এই ইউনিয়নের নয়াপাড়া গ্রামেই রয়েছে প্রায় ২২২ বছরের প্রাচীন এক সূর্যপুরী আমগাছ, যা উপমহাদেশের সবচেয়ে বড় আমগাছ হিসেবে পরিচিত।

প্রতিদিন দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে প্রচুর দর্শনার্থী এই আমগাছটি দেখতে আসেন। দূর থেকে দেখলে মনে হয় এটি যেন বিশালাকৃতির এক ঝাউগাছ।

গাছটির মূল আকর্ষণ এর অনন্য ডালপালা। কাণ্ড থেকে শাখা বের হয়ে কিছুটা ওপরে উঠেই আবার মাটিতে নেমে গেছে, তারপর নতুন করে আবার ওপরের দিকে উঠেছে—দেখতে যা অনেকটা ঢেউয়ের মতো। মূল কাণ্ড থেকে ২০টি শাখা বের হয়েছে, যার প্রতিটির দৈর্ঘ্য ৪০ থেকে ৫০ ফুট। ডালগুলো এতটাই মোটা যে অনায়াসে সেখানে হাঁটাচলা ও বসা যায়, একেকটি ডাল দেখতে যেন একটি মাঝারি সাইজের আমগাছ।

প্রায় তিন বিঘা (এক একর) জায়গাজুড়ে ছড়িয়ে থাকা গাছটির বয়স আনুমানিক ২২২ বছরেরও বেশি। এর বর্তমান মালিক দুই ভাই সাইদুর রহমান ও নূর ইসলাম। সাইদুর রহমান বলেন, শুনেছি গাছটি আমার বাবার দাদার দাদা লাগিয়েছিলেন। দেশের নানা জেলা থেকে প্রতিদিন শত শত মানুষ এটি দেখতে আসেন, বিশেষ করে ছুটির দিনগুলোতে ভিড় বেশি হয়। দর্শনার্থীদের জন্য আমরা ৫০ টাকার টিকেট রেখেছি। টিকেট বিক্রির টাকায় দুই ভাই মিলে গাছের যত্ন নিই। আমরা জায়গাটি সুন্দর করার চেষ্টা করছি যাতে এখানে একটি পিকনিক স্পট গড়ে তোলা যায়।

গাছের অপর মালিক নূর ইসলাম জানান, ২২২ বছরেরও বেশি বয়স হলেও প্রতিবছর গাছে প্রচুর আম ধরে। অন্য আমের তুলনায় এই সূর্যপুরী আমের দাম ও চাহিদা বেশি। গাছটি ভালো রাখতে নিয়মিত ওষুধ ও স্প্রে ব্যবহার করা হয় এবং দর্শনার্থীরাই মৌসুমে গাছের পাশ থেকে বেশি আম কিনে নিয়ে যান।

দিনাজপুর থেকে আসা দর্শনার্থী সাঈদ হাসান বলেন, আমাদের দেশে এত বড় ও সুন্দর আমগাছ আছে তা অনেকেই জানে না। জায়গাটি চমৎকার পিকনিক স্পট হতে পারে, তবে যাতায়াত ব্যবস্থার উন্নয়ন প্রয়োজন।

বীরগঞ্জ থেকে আসা কলিকা রাণী বলেন, অনেক দিন ধরে আসার ইচ্ছা ছিল, অবশেষে তিন বিঘা জমিতে ছড়ানো গাছটি দেখে খুব ভালো লাগছে। রংপুর থেকে আসা তারেক রহমান বলেন, এশিয়ার বৃহত্তম আমগাছটি আমাদের দেশে, এটি অত্যন্ত গৌরবের বিষয়।

এছাড়া পঞ্চগড়ের আব্দুর রাজ্জাক, আটোয়ারীর বিমলা বালা ও দূর-দূরান্ত থেকে আসা তমিরুল ইসলামসহ একাধিক দর্শনার্থী জানান, সরেজমিনে না দেখলে বিশ্বাসই করা যায় না যে এটি একটিমাত্র গাছ। তবে এখানে দূর থেকে আসা দর্শনার্থীদের জন্য উন্নত যাতায়াত, আবাসন ও রেস্তোরাঁ সুবিধা গড়ে তোলার দাবি জানান তারা।

বালিয়াডাঙ্গী উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা তামান্না ফেরদৌস বলেন, আমরা নিয়মিত গাছটি তদারকি করছি। কোনো পোকা-মাকড়ের আক্রমণ হলে কী করণীয়, সে বিষয়ে মালিকদের পরামর্শ দেওয়া হয়। সপ্তাহে অন্তত একদিন আমি নিজে গাছটি পরিদর্শন করি।

বালিয়াডাঙ্গী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) অঞ্জন কুমার দাস বলেন, হরিণমারীর এই ২২২ বছরের পুরনো সূর্যপুরী আমগাছটি প্রায় এক একর জায়গা জুড়ে বিস্তৃত। সরকারি উদ্যোগের অংশ হিসেবে আমরা এটিকে একটি পূর্ণাঙ্গ পর্যটন কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলা এবং দর্শনার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পরিকল্পনা করছি। পাশাপাশি গাছটিকে কীভাবে দীর্ঘজীবী রাখা যায়, সে বিষয়েও আমরা কাজ করছি।