মাছির দখলে গ্রাম, আত্মীয়স্বজন আসে না বেড়াতে

মাছির উপদ্রবে অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছে রাজশাহীর গোদাগাড়ী উপজেলার দেওপাড়া ইউনিয়নের ঈশ্বরীপুর গ্রামবাসী। মুরগির খামারের বর্জ্য ব্যবস্থাপনা ও দুর্গন্ধের কারণে সৃষ্ট এই মাছি উপদ্রবে গ্রামটির অন্তত ১২০টি পরিবারের ৬৪২ জন মানুষের জনজীবন সম্পূর্ণ বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। ঘরবাড়িতে খাবার রাখা যেমন দায় হয়ে পড়েছে, তেমনি এই চরম অস্বস্তিকর পরিস্থিতির কারণে গত কয়েক মাস ধরে গ্রামে আত্মীয়স্বজন বা মেহমান আসাও বন্ধ হওয়ার উপক্রম হয়েছে।
গ্রামবাসীর অভিযোগ, স্বপন নামের এক ব্যক্তির মালিকানাধীন ওই খামারে দিনের পর দিন মুরগির বিষ্ঠা জমিয়ে রাখা হচ্ছে এবং কোনো দুর্গন্ধনাশক পদার্থ ব্যবহার না করায় আশপাশের পরিবেশ মারাত্মকভাবে দূষিত হচ্ছে। গত তিন মাসে এই দুর্গন্ধ ও মাছির উপদ্রব ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে, যার ফলে শিশু, বৃদ্ধ ও অসুস্থ ব্যক্তিরা সবচেয়ে বেশি দুর্ভোগে পড়েছেন। প্রশাসনকে বিষয়টি জানানো হলেও দীর্ঘদিন ধরে কোনো দৃশ্যমান ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।
ভুক্তভোগী গৃহিণী লিপি বেগম জানান, অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে সন্তানের জন্ম দিয়েছি। শিশুর শরীর ও মুখে মাছি বসে থাকে। সব সময় মশারি টাঙিয়ে রাখতে হচ্ছে। ঘরে তরকারি বা অন্য কোনো খাবার রাখলেই মাছি এসে ঘিরে ধরে। নবজাতককে নিয়ে খুব দুশ্চিন্তায় আছি।
সিরাজুল ইসলাম নামে অপর এক বাসিন্দা বলেন, মাছির অত্যাচারে গত ছয় মাস ধরে আত্মীয়স্বজন বাড়িতে আসতে চান না। জামাইকে খেতে দিলে খাবারের ওপর মাছি বসে। ঘেন্না ও অস্বস্তির কারণে তিনিও এখন বাড়িতে আসেন না। গ্রামের মানুষের স্বাভাবিক রান্নাবান্না ও খাওয়া-দাওয়া বন্ধ হওয়ার উপক্রম হয়েছে এবং কখনও কখনও খাবারের সঙ্গে মাছি মুখে চলে যাওয়ার ঘটনাও ঘটছে।
পরিবেশ অধিদপ্তরের রাজশাহী কার্যালয়ের উপপরিচালক মোছা. তাছমিনা খাতুন বলেন, গোদাগাড়ী উপজেলা প্রশাসনের তদন্ত প্রতিবেদন পেয়েছি। ইতিমধ্যে খামারের বর্জ্য ব্যবস্থাপনা, দুর্গন্ধ নিয়ন্ত্রণ ও পরিবেশগত অনুমোদনের বিষয়গুলো যাচাই করা হয়েছে। সেখানে পরিবেশ সংরক্ষণ আইন ও বিধিমালা লঙ্ঘনের প্রমাণ পাওয়া গেছে। চলতি সপ্তাহের মধ্যেই খামার মালিকের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।






