রংপুরে আলুর হিমাগারের ভাড়া কমানোর দাবিতে গণ-অনশন

রংপুর বিভাগের হিমাগার মালিকদের বিরুদ্ধে বৈষম্যমূলক ও একতরফাভাবে অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের অভিযোগে গণ-অনশন কর্মসূচি পালন করেছেন আলু চাষি ও ব্যবসায়ীরা।
বুধবার (১ জুলাই) দুপুর ১২টায় রংপুর জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সামনে জেলা আলু চাষি ও ব্যবসায়ী সমিতি এবং রংপুর বিভাগীয় আলু চাষি ও ব্যবসায়ী সমিতির যৌথ আয়োজনে এ কর্মসূচি শুরু হয়।
গণ-অনশনে রংপুর বিভাগের বিভিন্ন এলাকা থেকে আসা আলু চাষি ও ব্যবসায়ী অংশ নেন। অনেককে কাফনের কাপড় পরে অংশ নিতে দেখা যায়।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন রংপুর জেলা আলু ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি তৈয়বুর রহমান, সহসভাপতি তসলিম উদ্দিন, আলু চাষি ও ব্যবসায়ী হাফেজ মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর আলম, চাষী আবু তাহের, জাহিদুল ইসলামসহ অন্যান্য নেতা।
বক্তারা বলেন, সার, বীজ, কীটনাশক ও কৃষি উপকরণের মূল্যবৃদ্ধির কারণে আলু উৎপাদনের খরচ অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে গেছে। এরই মধ্যে রংপুরের হিমাগারগুলোতে প্রতি বস্তা আলু সংরক্ষণের জন্য ৪০০ থেকে ৪৫০ টাকা ভাড়া আদায় করা হচ্ছে, যা কৃষকদের জন্য বাড়তি বোঝা হয়ে দাঁড়িয়েছে। অথচ মুন্সীগঞ্জসহ দেশের অন্যান্য আলু উৎপাদনকারী এলাকায় একই সেবার জন্য প্রতি বস্তা ২৫০ থেকে ৩০০ টাকা ভাড়া নেওয়া হচ্ছে।
রংপুর জেলা আলু ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি তৈয়বুর রহমান বলেন, ১একই দেশে একই ধরনের সেবার জন্য একেক অঞ্চলে একেক ধরনের ভাড়া কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। রংপুরের কৃষক ও ব্যবসায়ীদের সঙ্গে বৈষম্যমূলক আচরণ করা হচ্ছে। অবিলম্বে হিমাগার ভাড়া যৌক্তিক পর্যায়ে নির্ধারণ এবং এ বিষয়ে প্রশাসনের কার্যকর হস্তক্ষেপ প্রয়োজন।
সহ-সভাপতি তসলিম উদ্দিন বলেন, উৎপাদন খরচ বেড়ে যাওয়ায় কৃষক লোকসানের মুখে। হিমাগারের অতিরিক্ত ভাড়া কৃষকদের আরও সংকটে ফেলছে। দ্রুত তদন্ত করে ভাড়া পুনর্নির্ধারণ না করলে কৃষক ও ব্যবসায়ীরা আরও কঠোর কর্মসূচি দিতে বাধ্য হবেন।
অনশনকারীরা অবিলম্বে জেলা প্রশাসকের মাধ্যমে একটি নিরপেক্ষ তদন্ত কমিটি গঠন করে হিমাগার ভাড়া পুনর্নির্ধারণের উদ্যোগ নেওয়ার দাবি জানান। তারা বলেন, তদন্ত কমিটি গঠন ও দাবি বাস্তবায়নের বিষয়ে কার্যকর পদক্ষেপ না নেওয়া পর্যন্ত তাদের আন্দোলন চলবে।
দাবি আদায়ে ব্যর্থ হলে ভবিষ্যতে আরও কঠোর কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে বলেও হুঁশিয়ারি দেন আন্দোলনকারীরা।
এ বিষয়ে রংপুরের জেলা প্রশাসক (ডিসি) মো. রুহুল আমিন এশিয়া পোস্টকে বলেন, হিমাগারের ভাড়া কেজি প্রতি ৬.৭৫ থেকে ৫ টাকা করার দাবিতে আলু চাষী ও ব্যবসায়ীরা অনশনে বসেন। আমি দুধ দিয়ে তাদের অনশন ভাঙ্গিয়েছি।
তিনি আরও বলেন, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক, হিমাগার মালিক সমিতি, আলু চাষী ও ব্যবসায়ীদের নিয়ে সমন্বিতভাবে একটি কমিটি গঠন করে দেওয়া হয়েছে। আগামী ১৫ দিনের মধ্যে কমিটি এ বিষয়ে মন্ত্রণালয়ে প্রতিবেদন জমা দিবে।





