logo

নদীভাঙনে বসতভিটা হারাচ্ছেন মিয়ারচরের বাসিন্দারা

শাকিল মাহমুদ
গৌরনদী, বরিশাল
নদীভাঙনে বসতভিটা হারাচ্ছেন মিয়ারচরের বাসিন্দারা
স্ত্রী-সন্তানের সঙ্গে পাড় ভাঙা নদীর তীরে বদরুল আলম। ছবি: এশিয়া পোস্ট

নদীর পাড়ে ছিল বসতঘর, সেই ঘর এখন আর নেই। আড়িয়াল খাঁ নদ ধীরে ধীরে গিলে নিয়েছে বসতভিটা। একবার ঘর হারিয়ে অন্যের জমিতে আশ্রয় নিয়েছিলেন বদরুল আলম। কয়েক দিন আগে সেই জমিও নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে। এখন স্ত্রী-সন্তান নিয়ে অন্যের জমিতে পলিথিনের ছাউনি দিয়ে দিন কাটছে তার।

বরিশালের গৌরনদী উপজেলার সরিকল ইউনিয়নের মিয়ারচর এলাকার এই চিত্র শুধু বদরুল আলমের নয়। স্থানীয় বাসিন্দাদের ভাষ্য, গত দুই বছরে আড়িয়াল খাঁ নদের ভাঙনে ওই এলাকার অন্তত ৪০টি পরিবার বসতভিটা হারিয়েছে। এর মধ্যে গত এক মাসেই পাঁচটি পরিবারের বসতভিটা নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে।

শুধু বসতভিটা নয়, নদীভাঙনের হুমকিতে পড়েছে সড়ক ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে যাতায়াতের পথও। আড়িয়াল খাঁ নদের শাখা পালরদী নদী ও এর বিভিন্ন শাখা-খালের তীরেও ভাঙন দেখা দিয়েছে। দক্ষিণ বিল্বগ্রাম এলাকায় ভাঙনে একটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে যাতায়াতের রাস্তা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ওই রাস্তার পাশে থাকা একমাত্র ব্রিজটিও ধসে পড়ার শঙ্কায় রয়েছে।

মিয়ারচর লঞ্চঘাট এলাকার বাসিন্দা বদরুল আলম বলেন, আড়িয়াল খাঁ নদে ভাঙনের কারণে এর আগে দুইবার বসতভিটা হারিয়েছেন তিনি। পরে অন্যের জমিতে ঘর তুলে পরিবার নিয়ে বসবাস করছিলেন। কয়েক দিন আগে সেই জমিও নদীতে বিলীন হয়েছে। এখন তার মাথা গোঁজার কোনো স্থায়ী ঠাঁই নেই। বাধ্য হয়ে অন্যের জমিতে পলিথিনের ছাউনি দিয়ে বসবাস করছেন।

৭৫ বছর বয়সি স্থানীয় বাসিন্দা অলিল বেপারী বলেন, মিয়ারচর এলাকায় গত কয়েক বছরে নদীভাঙনে অনেক পরিবার বসতভিটা ও জমি হারিয়েছে। বিশেষ করে মিয়ারচর লঞ্চঘাট এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে ভাঙন চলছে। বিভিন্ন সময় ভাঙন রোধে ব্যবস্থা নেওয়ার কথা বলা হলেও কার্যকর কাজ না হওয়ায় মানুষের দুর্ভোগ কমেনি।

নদীভাঙন রোধে দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান তিনি।

এদিকে আড়িয়াল খাঁ নদের শাখা পালরদী নদীর বোরাদী গরঙ্গল ও মোল্লারখাল এলাকাতেও ভাঙন দেখা দিয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, নদীর তীরবর্তী অনেক পরিবার ইতোমধ্যে বসতভিটা ছেড়ে অন্যত্র চলে গেছে। নতুন করে কয়েকটি সড়কও ভাঙনের মুখে পড়েছে।

দক্ষিণ বিল্বগ্রাম সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক জাকির হোসেন এশিয়া পোস্টকে বলেন, গৌরনদী-ধামুড়া খালে তীব্র স্রোতের কারণে বিদ্যালয়ের সামনের রাস্তার একটি অংশ ইতোমধ্যে খালের মধ্যে ধসে পড়েছে। বিদ্যালয়ে যাতায়াতের একমাত্র ব্রিজটিও ঝুঁকিতে রয়েছে। দ্রুত ভাঙন রোধ করা না গেলে ব্রিজটি ধসে পড়ে বিদ্যালয়ের সঙ্গে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যেতে পারে।

স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, ভাঙন দীর্ঘদিন ধরে চললেও স্থায়ীভাবে তা রোধে কার্যকর উদ্যোগ দেখা যাচ্ছে না। এতে একদিকে মানুষ বসতভিটা হারাচ্ছেন, অন্যদিকে ঝুঁকিতে পড়ছে স্থানীয় যোগাযোগব্যবস্থা ও শিক্ষার্থীদের বিদ্যালয়ে যাতায়াত।

তবে পানি উন্নয়ন বোর্ড বলছে, ভাঙন রোধে ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। বরিশাল পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. জাবেদ ইকবাল এশিয়া পোস্টকে বলেন, মিয়ারচর এলাকায় নদীভাঙন রোধে ১০০ মিটার এলাকায় জিও ব্যাগ ফেলার নির্দেশনা পাওয়া গেছে। আগামী এক সপ্তাহের মধ্যে সেখানে কাজ শুরু হবে।

তিনি আরও বলেন, বিল্বগ্রাম এলাকায় একটি কাজ চলমান রয়েছে। ভাঙনের অপর অংশও পরিদর্শন করা হয়েছে। পর্যায়ক্রমে ভাঙনকবলিত অন্যান্য স্থানেও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।