logo

স্কুল ফিডিংয়ের দুধ চুরি, ছাত্রদল নেতা বহিষ্কার

স্কুল ফিডিংয়ের দুধ চুরি, ছাত্রদল নেতা বহিষ্কার
বহিষ্কৃত ছাত্রদল নেতা নাদিম মাহমুদ ও শিশুদের জন্য সরবরাহ করা দুধের প্যাকেট। ছবি : এশিয়া পোস্ট কোলাজ

পিরোজপুরের নেছারাবাদে শিশু শিক্ষার্থীদের জন্য বরাদ্দ স্কুল ফিডিংয়ের দুধ বিদ্যালয় থেকে নিয়ে যাওয়ার অভিযোগে ছাত্রদল নেতা নাদিম মাহমুদকে সংগঠন থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে।

শুক্রবার (২ অক্টোবর) বিষয়টি নিশ্চিত করেন পিরোজপুর জেলা ছাত্রদলের দপ্তর সম্পাদক খালিদ হাসান।

এদিকে, গত বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) ‘চুরি হওয়া স্কুল ফিডিংয়ের ২৭ প্যাকেট দুধ ফেরত’ শিরোনামে এশিয়া পোস্টসহ একাধিক গণমাধ্যমে খবর প্রকাশিত হয়। বিষয়টি সংগঠনের নজরে আসার পর বৃহস্পতিবার রাতে জেলা ছাত্রদলের সভাপতি সালাউদ্দিন তালুকদার কুমার ও সাধারণ সম্পাদক মাহমুদ হাসান শাহীন স্বাক্ষরিত সিদ্ধান্তে নাদিম মাহমুদকে বহিষ্কার করা হয়। পরে জেলা ছাত্রদলের দপ্তর সম্পাদক খালিদ হাসান স্বাক্ষরিত এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এ সিদ্ধান্ত জানানো হয়।

নাদিম মাহমুদ স্বরূপকাঠী সরকারি কলেজ ছাত্রদলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক এবং ১ নম্বর বলদিয়া ইউনিয়ন ছাত্রদলের দপ্তর সম্পাদক ছিলেন। প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে ছাত্রদলের সব পর্যায়ের নেতাকর্মীকে বহিষ্কৃত নাদিম মাহমুদের সঙ্গে সাংগঠনিক কোনো ধরনের সম্পর্ক না রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

এর আগে, নেছারাবাদ উপজেলার ১৪৮ নম্বর দক্ষিণ বিন্না কাইলান্তরি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিশু শিক্ষার্থীদের জন্য বরাদ্দ ৩০ প্যাকেট দুধ নিয়ে যাওয়ার অভিযোগ ওঠে নাদিম মাহমুদসহ কয়েকজনের বিরুদ্ধে। গত ২৫ সেপ্টেম্বর বিন্না খালে নৌকাবাইচ উপলক্ষে বিদ্যালয়ে অতিথিদের আপ্যায়নে শিক্ষকরা ব্যস্ত থাকার সময় লাইব্রেরিতে রাখা দুধ নিয়ে যাওয়ার অভিযোগ করা হয়। বিষয়টি জানাজানি হলে গত বুধবার নাদিম মাহমুদ ২৭ প্যাকেট দুধ কিনে বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের কাছে ফেরত দেন। সংশ্লিষ্টদের দাবি, বাকি তিন প্যাকেট দুধ খেয়ে ফেলা হয়েছে।

অভিযোগের বিষয়ে নাদিম মাহমুদ জানান, তিনি ও তার দুই বন্ধু বিদ্যালয় থেকে ৩০ প্যাকেট দুধ নিয়েছিলেন। এগুলো শিশু শিক্ষার্থীদের জন্য বরাদ্দ ছিল, তা তারা জানতেন না। পরে বিষয়টি জানতে পেরে ২৭ প্যাকেট দুধ কিনে বিদ্যালয়ে ফেরত দিয়েছেন।

এদিকে, ঘটনার কয়েক দিন পর বিষয়টি শিক্ষা অফিসকে জানানোয় বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. নুরুল ইসলামকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়েছে। তিন কর্মদিবসের মধ্যে তাকে লিখিত জবাব দিতে বলা হয়েছে।

নেছারাবাদ উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. মঈনুল ইসলাম বলেন, ঘটনার কয়েক দিন পরও বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ বিষয়টি শিক্ষা অফিসকে জানায়নি। এ কারণে প্রধান শিক্ষককে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়েছে।