logo

চুরি হওয়া স্কুল ফিডিংয়ের ২৭ প্যাকেট দুধ ফেরত

চুরি হওয়া স্কুল ফিডিংয়ের ২৭ প্যাকেট দুধ ফেরত
দক্ষিণ বিন্না কাইলান্তরি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও ইনসেটে উদ্ধার করা প্যাকেট দুধ। ছবি : এশিয়া পোস্ট

পিরোজপুরের নেছারাবাদে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের জন্য বরাদ্দ ৩০ প্যাকেট স্কুল ফিডিংয়ের দুধ নিয়ে যাওয়ার অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় তিন যুবকের বিরুদ্ধে। বিষয়টি জানাজানি হওয়ার পর ২৭ প্যাকেট দুধ বিদ্যালয়ে ফেরত দেওয়া হয়েছে। এ ঘটনায় বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষককে শোকজ করা হয়েছে।

বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) সকালে অভিযুক্তরা ২৭ প্যাকেট দুধ বিদ্যালয়ে ফেরত দিয়েছেন বলে শিক্ষকরা জানিয়েছেন। বাকি তিন প্যাকেট দুধ খেয়ে ফেলার কথা স্বীকার করেছেন অভিযুক্তদের একজন। নেছারাবাদ উপজেলার ১৪৮ নম্বর দক্ষিণ বিন্না কাইলান্তরি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে এ ঘটনা ঘটে।

বিদ্যালয় সূত্রে জানা যায়, গত শুক্রবার (২৫ সেপ্টেম্বর) বিদ্যালয়ে স্থানীয়ভাবে নৌকাবাইচের আয়োজন ছিল। এ উপলক্ষে পুলিশ ও স্থানীয় বিএনপির কয়েকজন নেতাকর্মী বিদ্যালয়ে আসেন। অতিথিদের বসার ব্যবস্থা করতে বিদ্যালয় খোলা হলে শিক্ষকরা তাদের আপ্যায়নে ব্যস্ত হয়ে পড়েন। এ সময় লাইব্রেরিতে রাখা শিক্ষার্থীদের জন্য বরাদ্দ দুধের ৩০ প্যাকেট নিয়ে যাওয়ার অভিযোগ ওঠে স্থানীয় তিন যুবকের বিরুদ্ধে। অভিযুক্তরা হলেন স্থানীয় ‘বিন্না ইয়ংমেন্স ক্লাবের’ সাংস্কৃতিক সম্পাদক মো. নাদিম মাহমুদ ও তার দুই বন্ধু।

বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষিকা মোসা. আশা জানান, শুক্রবার বিদ্যালয়ে কয়েকজন স্থানীয় বিএনপি নেতাকর্মী আসেন। তাদের আপ্যায়নে শিক্ষকরা ব্যস্ত থাকার সুযোগে লাইব্রেরিতে রাখা স্কুল ফিডিংয়ের দুধ নিয়ে যাওয়ার ঘটনা ঘটে। নাদিমসহ তিন যুবক ৩০ প্যাকেট দুধ নিয়ে যান বলে তিনি দাবি করেন। পরে মঙ্গলবার বিষয়টি ধরা পড়ে। বুধবার সকালে বিষয়টি জানাজানি হলে নাদিম ও তার সহযোগীরা ২৭ প্যাকেট দুধ বিদ্যালয়ে ফেরত দিয়ে যান। বাকি তিন প্যাকেট তারা খেয়ে ফেলেছেন।

তবে অভিযুক্ত নাদিম মাহমুদ বলেন, আমি ও আমার দুই বন্ধু বিদ্যালয় থেকে তিন প্যাকেট দুধ নিয়ে খেয়েছি। এখন শুনছি ৩০ প্যাকেট দুধ নেওয়া হয়েছে। বিষয়টি জানার পর বুধবার সকালে বিদ্যালয়ে এসে বাকি ২৭ প্যাকেট দুধ খুঁজে বের করে ফেরত দিয়েছি।

বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. নুরুল ইসলাম বলেন, গত শুক্রবার বিন্নায় নৌকাবাইচ অনুষ্ঠিত হয়। এ উপলক্ষে পুলিশ ও স্থানীয় বিএনপি নেতারা বিদ্যালয়ে আসায় অতিথিদের বসার ব্যবস্থা করতে বিদ্যালয় খোলা হয়। শিক্ষকরা তাঁদের আপ্যায়নে ব্যস্ত থাকার সময় তিনি ওয়াশরুমে যান। এ সুযোগে লাইব্রেরিতে রাখা ৭৯ প্যাকেট দুধের মধ্যে ৩০ প্যাকেট নাদিম ও তার দুই বন্ধু নিয়ে যান বলে তিনি জানান।

তিনি আরও বলেন, বুধবার সকালে ২৭ প্যাকেট দুধ ফেরত দেওয়া হয়েছে। ঘটনাটি নিয়ে আমাকে শোকজ করা হয়েছে। মাঝখান থেকে আমাকে শোকজের জবাব দিতে হচ্ছে।

শোকজের বিষয়ে নেছারাবাদ উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা মো. মাইনুল ইসলাম বলেন, ঘটনা ঘটেছে গত শুক্রবার। অথচ কয়েক দিন পেরিয়ে গেলেও আমাদের অফিসে বিষয়টি জানানো হয়নি। এ কারণে প্রধান শিক্ষককে শোকজ করা হয়েছে। অভিযুক্তরা চুরি হওয়া দুধের ২৭ প্যাকেট ফেরত দিয়েছে বলেও আমরা জেনেছি। শোকজে প্রধান শিক্ষককে তিন কর্মদিবসের মধ্যে লিখিত জবাব দিতে বলা হয়েছে।