সরকারি বরাদ্দ না পেয়ে নিজেদের অর্থায়নে কালভার্ট সংস্কার

এশিয়া পোস্ট নিউজ, মাদারীপুর
সরকারি বরাদ্দ না পেয়ে নিজেদের অর্থায়নে কালভার্ট সংস্কার
স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণে শ্রমিকেরা কালভার্ট সংষ্কারে ব্যস্ত সময় পার করছেন। ছবি : এশিয়া পোস্ট

দীর্ঘ তিন বছর ধরে ভাঙা পড়ে থাকা একটি কালভার্ট যেন দুই গ্রামের মানুষের নিত্যদিনের দুর্ভোগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছিল। প্রতিদিন হাজারো মানুষ জীবনের ঝুঁকি নিয়ে যাতায়াত করলেও মিলছিল না প্রতিকারের কোনো পথ। শেষ পর্যন্ত সরকারি বরাদ্দের আশায় বসে না থেকে নিজেদের অর্থ ও শ্রমে কালভার্টটি সংস্কারে এগিয়ে এসেছেন স্থানীয় কয়েকজন সমাজসেবী। তাদের এই উদ্যোগে মাদারীপুরের কালকিনিতে সচল হয়েছে একটি জনগুরুত্বপূর্ণ সংযোগ সড়ক।

রোববার (৫ জুলাই) সকালে কালকিনি উপজেলার রমজানপুর ইউনিয়নের ৯৩ নম্বর পূর্ব চর আইরকান্দী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় সংলগ্ন সড়কে রনি হাওলাদারের বাড়ির সামনের ভাঙা কালভার্টটিতে সংস্কারকাজ চলতে দেখা যায়। স্থানীয় বাসিন্দাদের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণে শ্রমিকেরা সেখানে ব্যস্ত সময় পার করছেন।

স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, প্রায় তিন বছর আগে অতিরিক্ত পণ্যবোঝাই অবৈধ মাহিন্দ্রা ট্রলি চলাচলের কারণে কালভার্টটির মাঝের অংশ ধসে পড়ে। এরপর থেকে উত্তর ও দক্ষিণ রমজানপুর গ্রামের সংযোগ সড়কের গুরুত্বপূর্ণ এই অংশটিতে যানবাহন চলাচল কার্যত বন্ধ হয়ে যায়। বিষয়টি বহুবার সংশ্লিষ্ট দপ্তরকে জানানো হলেও কোনো দৃশ্যমান উদ্যোগ নেওয়া হয়নি।

ভুক্তভোগীরা জানান, প্রতিদিন প্রায় দুই হাজার মানুষ এই পথ ব্যবহার করেন। কালভার্টটি ভেঙে যাওয়ার পর অটোরিকশা, ভ্যান ও রিকশা চলাচল বন্ধ হয়ে যাওয়ায় বাধ্য হয়ে ঝুঁকি নিয়ে হেঁটে পার হতে হতো সবাইকে। এতে সবচেয়ে বেশি কষ্টে পড়েন স্কুলগামী শিক্ষার্থী, অন্তঃসত্ত্বা নারী, প্রবীণ ও চিকিৎসাপ্রার্থীরা।

স্থানীয় বাসিন্দা রনি হাওলাদার বলেন, কালভার্টটি ভেঙে যাওয়ার পর আমাদের দুর্ভোগের শেষ ছিল না। অবশেষে স্থানীয় কয়েকজন নিজেদের অর্থায়নে এটি সংস্কারের উদ্যোগ নিয়েছেন। আমরা তাদের প্রতি আন্তরিকভাবে কৃতজ্ঞ।

সংস্কারকাজে অর্থায়নকারী সমাজসেবী রেজাউল ফকির ও আবু সাঈদ বলেন, এটি কোনো প্রচার বা প্রশংসা পাওয়ার উদ্দেশ্যে করা হয়নি। প্রতিদিন শিশু, শিক্ষার্থী ও অসুস্থ মানুষকে ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করতে দেখে বিবেকের তাড়না থেকেই আমরা এই উদ্যোগ নিয়েছি। সমাজের সবাই যদি শুধু সরকারের দিকে তাকিয়ে না থেকে নিজের অবস্থান থেকে জনকল্যাণে এগিয়ে আসেন, তাহলে অনেক সমস্যারই দ্রুত সমাধান সম্ভব।

এ বিষয়ে কালকিনি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সাইফ-উল-আরেফীন বলেন, এলাকার বাসিন্দারা একটি অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন। নিজেদের উদ্যোগে তারা যে কাজটি করেছেন, তা অত্যন্ত প্রশংসনীয়।