ঘুষ নেওয়ার অভিযোগ, সেই ইউএনওকে প্রত্যাহার

ঘুষ নেওয়ার অভিযোগ ঘিরে আলোচনায় আসা পঞ্চগড়ের তেঁতুলিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আফরোজ শাহীন খসরুকে প্রত্যাহার করা হয়েছে।
রোববার (৫ জুলাই) আফরোজ শাহীন খসরু এশিয়া পোস্টকে নিজের প্রত্যাহারের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
এর আগে, গত ২ জুলাই জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সহকারী সচিব গোলাম মোরশেদ স্বাক্ষরিত এক প্রজ্ঞাপনে তাকে মন্ত্রণালয়ে সিনিয়র সহকারী সচিব সংযুক্ত করা হয়।
গত ২৯ জুন রেহানা বেগম উর্মি নামে এক নারী তেঁতুলিয়া ইউএনও কার্যালয়ের সামনে ফেসবুক লাইভে এসে অভিযোগ করেন, ছেলেকে গ্রাম পুলিশে চাকরি দেওয়ার আশ্বাস দিয়ে ইউএনও তার কাছ থেকে এক লাখ ৮০ হাজার টাকা ঘুষ নেন। চাকরি না হওয়ায় তিনি প্রকাশ্যে টাকা ফেরতের দাবি জানান। একই অভিযোগে জেলা প্রশাসকের কাছেও লিখিত দেন তিনি।
অভিযোগে তিনি উল্লেখ করেন, প্রায় ছয় মাস আগে ২১ বছর বয়সি ছেলের চাকরির জন্য ইউএনওর সঙ্গে যোগাযোগ করলে তিন লাখ টাকা দাবি করা হয়। তিনি এক লাখ ৮০ হাজার টাকা দেন। দীর্ঘ সময় পার হলেও চাকরি না হওয়ায় টাকা ফেরত চাইলে বিভিন্ন অজুহাত দেওয়া হয়। সম্প্রতি ইউএনওর বদলির খবর জানতে পেরে তিনি ফেসবুক লাইভে এসে টাকা ফেরতের দাবি জানান এবং জেলা প্রশাসকের কাছে লিখিত অভিযোগ দাখিল করেন।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওটিতে দেখা যায়, ওই নারী কান্নাজড়িত কণ্ঠে ইউএনওর কাছে টাকা ফেরত চাইছেন। জবাবে ইউএনও বলেন, তিনি ওই নারীকে চেনেন না এবং এটি একটি সাজানো নাটক।
ঘটনার পরদিন ৩০ জুন তেঁতুলিয়া উপজেলা অফিসার্স ক্লাবের উদ্যোগে বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা ইউএনওর পক্ষে মানববন্ধন, প্রতিবাদ সমাবেশ ও কর্মবিরতি পালন করেন। তারা অভিযোগটিকে উদ্দেশ্যপ্রণোদিত দাবি করে সুষ্ঠু তদন্তের আহ্বান জানান। তবে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের এ কর্মসূচি সরকারি আচরণবিধি ও নীতিমালার পরিপন্থি কি না, তা নিয়েও বিভিন্ন মহলে আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়।
অভিযোগের পর রেহেনা বেগম উর্মির বিরুদ্ধে তেঁতুলিয়া থানায় সাইবার নিরাপত্তা আইনে মামলা করা হয়। মামলায় তাকে এজাহারভুক্ত আসামি করা হয়েছে। একই সঙ্গে জেলা প্রশাসনের প্রাথমিক তদন্তে তার আনা অভিযোগের সত্যতা পাওয়া যায়নি বলে জানানো হয়।
পঞ্চগড়ের পুলিশ সুপার মো. আবু সাইম জানান, সাইবার নিরাপত্তা আইনে মামলাটি তদন্তাধীন রয়েছে।
প্রত্যাহারের বিষয়ে আফরোজ শাহীন খসরু বলেন, আমি বিষয়টি গত শুক্রবার জানতে পেরেছি। আমাকে যদি চলে যেতে বলা হয়, তাহলে আমি চলে যাব।
পঞ্চগড়ের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) এসএম ইমাম রাজী টুলু বলেন, জেলা প্রশাসনের গঠন করা তদন্ত কমিটিতে তেঁতুলিয়া উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তার বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের কোনো সত্যতা প্রমাণিত হয়নি।
তিনি আরও বলেন, তাকে মন্ত্রণালয়ে সংযুক্ত করে একটি প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়েছে। যদিও আমরা জেলা প্রশাসন থেকে তাকে এখনও রিলিজ দেইনি। তবে কি কারণে তার বদলি হয়েছে এটি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ বলতে পারবেন। আমরা এ বিষয়ে কিছুই জানি না।





