তিস্তা গিলে খাচ্ছে ফসলি জমি, ঝুঁকিতে বাঁধ

এশিয়া পোস্ট নিউজ, নীলফামারী
তিস্তা গিলে খাচ্ছে ফসলি জমি, ঝুঁকিতে বাঁধ
ছবি: এশিয়া পোস্ট

উজানের ঢল ও টানা বৃষ্টির প্রভাবে তিস্তা নদীর পানি কয়েক দিন ধরে বিপৎসীমার কাছাকাছি ওঠানামা করছে। এতে নীলফামারীর ডিমলা ও জলঢাকা উপজেলার তিস্তা তীরবর্তী এলাকায় নদীভাঙন তীব্র হচ্ছে। প্রতিদিন নদীগর্ভে বিলীন হচ্ছে আবাদি জমি। কোথাও কোথাও তীররক্ষা বাঁধের পাদদেশে ধস দেখা দেওয়ায় আতঙ্কে রয়েছেন নদীপাড়ের মানুষ।

বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) সূত্রে জানা গেছে, গত ২৮ জুন রাত ৯টায় ডালিয়া পয়েন্টে তিস্তা নদীর পানি বিপৎসীমার ১১ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হয়। সে সময় পানির উচ্চতা ছিল ৫২ দশমিক ২৭ সেন্টিমিটার। এরপর পানি কমতে শুরু করলেও তা এখনো বিপৎসীমার কাছাকাছি ওঠানামা করছে। বুধবার সকাল ৯টায় পানির উচ্চতা ছিল ৫১ দশমিক ৯৮ সেন্টিমিটার, দুপুর ১২টায় ৫১ দশমিক ৯৭ সেন্টিমিটার এবং সন্ধ্যা ৬টায় ৫২ দশমিক ০০ সেন্টিমিটার। পানির এমন ওঠানামার কারণে নদীর তীরে তীব্র স্রোত ও ধস সৃষ্টি হচ্ছে।

ডিমলা উপজেলার টেপাখড়িবাড়ী, গয়াবাড়ী, খগাখড়িবাড়ী ও পূর্ব ছাতনাই ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকা এবং জলঢাকা উপজেলার ডাউয়াবাড়ী ইউনিয়নের কয়েকটি স্থানে ভাঙন অব্যাহত রয়েছে। স্থানীয়দের দাবি, গত এক সপ্তাহে প্রায় ১৫ থেকে ২০ একর ফসলি জমি নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে। এসব জমিতে আমন ধানের বীজতলা ও বিভিন্ন মৌসুমি সবজির আবাদ ছিল।

টেপাখড়িবাড়ী ইউনিয়নের কৃষক জাহাঙ্গীর আলম বলেন, তিন বিঘা জমিতে ধানের আবাদ করেছিলাম। গত দুদিনে প্রায় এক বিঘা জমি নদীতে চলে গেছে। ভাঙন না থামলে বাকি জমিও রক্ষা করা যাবে না।

একই ইউনিয়নের পূর্ব খড়িবাড়ী গ্রামের বাসিন্দা মোহাম্মদ আলী বলেন, পানি বাড়লে বাঁধের ওপর প্রচণ্ড চাপ পড়ে। আবার পানি দ্রুত কমে গেলে বাঁধের নিচের মাটি ধসে যায়। এতে বাঁধও ঝুঁকির মধ্যে পড়ছে।

স্থানীয়রা জানান, তীররক্ষা বাঁধের কয়েকটি অংশে ছোট ছোট ফাটল ও ধসের লক্ষণ দেখা দিয়েছে। দ্রুত জিওব্যাগ ও বালুভর্তি বস্তা ফেলে ভাঙনরোধের ব্যবস্থা না নিলে বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতির আশঙ্কা রয়েছে।

পানি উন্নয়ন বোর্ডের ডালিয়া বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী অমিতাভ চৌধুরী বলেন, তিস্তার পানি পরিস্থিতি সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। ব্যারাজের ৫২টি জলকপাটের সব কটি খুলে দিয়ে পানিপ্রবাহ নিয়ন্ত্রণ করা হচ্ছে। ভাঙনপ্রবণ এলাকাগুলো চিহ্নিত করা হয়েছে। জরুরি পরিস্থিতি তৈরি হলে তাৎক্ষণিকভাবে জিওব্যাগ ফেলে ভাঙনরোধের ব্যবস্থা নেওয়া হবে।