যুক্তরাষ্ট্রের হামলায় ৮ ইরানি সেনা নিহত

এশিয়া পোস্ট ডেস্ক
যুক্তরাষ্ট্রের হামলায় ৮ ইরানি সেনা নিহত
ছবি: সংগৃহীত

দক্ষিণ ইরানে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনীর জোরালো হামলায় দেশটির সশস্ত্র বাহিনীর অন্তত আটজন সদস্য নিহত হয়েছেন। বুধবার (৮ জুলাই) ইরানের সেনাবাহিনীর পক্ষ থেকে এক আনুষ্ঠানিক বিবৃতিতে এই তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে। ইরানের রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যম আইআরআইবি এক প্রতিবেদনে এ খবর জানিয়েছে।

সেনাবাহিনীর বিবৃতিতে বলা হয়েছে, বুধবার ভোরে যুক্তরাষ্ট্র সামরিক হামলা চালায়। এ সময় শত্রুপক্ষের ছোঁড়া ক্ষেপণাস্ত্র বা গোলা দক্ষিণ ইরানের বন্দর আব্বাস ও বুশেহর এলাকার সামরিক অবস্থানে এসে আঘাত হানে।

দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষায় এ হামলায় সেখানে নিয়োজিত ইরানের সেনাবাহিনী, বিমান বাহিনী এবং নৌবাহিনীর আট জন সদস্য নিহত হন। ইরানি সেনাবাহিনীর তথ্যমতে, মার্কিন বাহিনী দেশটির হরমুজগান, বুশেহর এবং খুজেস্তান প্রদেশের বিভিন্ন এলাকায় এই রাতভর বিমান ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে।

মার্কিন হামলার পরপর প্রতিরোধ ও পাল্টা হামলা চালিয়েছে ইরান। মার্কিন হামলার জবাবে ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশন গার্ড কোর (আইআরজিসি) এবং সেনাবাহিনী যৌথভাবে একটি বিশাল সামরিক অভিযান শুরু করেছে। এই যৌথ অভিযানে বাহরাইন এবং কুয়েতে অবস্থিত ৮৫টি মার্কিন সামরিক ঘাঁটিকে লক্ষ্য করে একযোগে ব্যাপক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালানো হয়েছে।

এদিকে ইরানের দক্ষিণাঞ্চলীয় উপকূলীয় এলাকায় বুধবার রাতে শক্তিশালী বিস্ফোরণের খবর পাওয়া গেছে। দেশটির রাষ্ট্রায়ত্ত গণমামাধ্যমের বরাতে জানা গেছে, পারস্য উপসাগরীয় উপকূলের কাছাকাছি দুটি পৃথক স্থানে এই বিস্ফোরণের শব্দ শোনা যায়। বার্তা সংস্থা মেহের এবং ফার্স নিউজের প্রতিবেদনের বরাতে আলজাজিরা এ খবর জানিয়েছে।

মেহেরের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বন্দর আব্বাস বন্দর নগরীর আকাশে বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সচল করা হয়েছে এবং তারা শত্রুভাবাপন্ন লক্ষ্যবস্তু মোকাবেলা করছে। ওদিকে, প্রবল বিস্ফোরণের পর চাবাহার এলাকায় সম্পূর্ণ বিদ্যুৎ বিপর্যয় বা ব্ল্যাকআউট দেখা দিয়েছে বলে নিশ্চিত করেছে ইরানের বার্তা সংস্থা ইরনা। এছাড়া বুশেহরেও বিস্ফোরণের শেব্দ শোনা গেছে।

মার্কিন সামরিক বাহিনীর সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সরাসরি নির্দেশনায় তাদের বাহিনী ইরানের ওপর এই শুরু করেছে। হরমুজ প্রণালিতে আন্তর্জাতিক নৌ চলাচলের স্বাধীনতাকে হুমকির মুখে ফেলার যে সক্ষমতা ইরানের রয়েছে, তা আরও গুঁড়িয়ে দিতে এই সামরিক পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে।