ভারতে ফিরিয়ে নেওয়া হলো বাংলাদেশে পুশইন করা চারজনকে

বাংলাদেশি তকমা দাগিয়ে আগে বাংলাদেশে পুশইন করা হয়েছিল যে চারজনকে, অবশেষে তাদের ভারতে ফিরিয়ে নেওয়া হয়েছে। এক বছরের দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর ভারতের সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশে নাগরিকত্বের অধিকার নিয়ে বাংলাদেশের জেল থেকে নিজ দেশে ফিরলেন সুইটি বিবিসহ চারজন।
বুধবার (৮ জুলাই) দুপুরে পশ্চিমবঙ্গের মালদা জেলার ইংরেজবাজার ব্লকের মহদিপুর এলাকার ভারত-বাংলাদেশ আন্তর্জাতিক বাণিজ্য সীমান্ত দিয়ে তাদের ফিরিয়ে আনার ব্যবস্থা করে প্রশাসন। সীমান্ত দিয়ে আনার পর তাদের বিএসএফ এবং পুলিশের হাতে তুলে দেওয়া হয়।
গত বছর ২২ জুন দিল্লিতে কাজ করতে গিয়ে বাংলাভাষী হওয়ার কারণে পুলিশের হাতে ধরা পড়েছিলেন সোনালী বিবি, তার স্বামী দানেশ শেখ, প্রতিবেশী আত্মীয় সুইটি বিবি এবং সুইটির দুই নাবালক ছেলে। পরে তাদের দিল্লি থেকে আসাম নিয়ে যাওয়া হয়েছিল। এরপর আসাম সীমান্ত দিয়েই তাদের বাংলাদেশে পুশইন করা হয়। বিষয়টি জানতে পেরে বীরভূম জেলার পাইকর গ্রামের সুইটি বিবি এবং সোনালী বিবির পরিবার আদালতের দ্বারস্থ হন। এরপর সেই মামলা গড়ায় ভারতের সুপ্রিম কোর্ট পর্যন্ত।
আদালতের আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে বাংলাদেশ থেকে গত বছর ডিসেম্বর মাসে সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশে প্রথম নিজের দেশে ফেরার সুযোগ পান সোনালী বিবি ও তার সন্তান। কিন্তু বাকিরা তখনও বাংলাদেশের জেলেই বন্দি ছিলেন। প্রায় এক বছর পর বাড়ির বাকি সদস্যরা নিজেদের দেশে ফিরছেন দেখে মহদিপুর সীমান্তে সকাল থেকে অধীর অপেক্ষায় ছিলেন পরিবারের লোকেরা। এদিন ভারতে ফিরলেন সোনালী বিবির স্বামী দানেশ শেখ, সোনালীর প্রতিবেশী সুইটি বিবি এবং তার দুই নাবালক ছেলে।
সুইটি বিবি জানান, দেশে ফিরে ভালো লাগছে এবং সেখানে অনেক কষ্ট সহ্য করতে হয়েছে। এখন থেকে গ্রামেই থাকবেন এবং আর বাইরে কাজ করতে যাবেন না। দিল্লিতে তিনি কাগজ কুড়ানোর কাজ করতেন।
কাজের সন্ধানে দিল্লিতে গিয়েছিলেন বীরভূমের পাইকরের বাসিন্দা সোনালি বিবি ও সুইটি বিবির পরিবার। অভিযোগ রয়েছে, তাদের কাছে ভারতীয় নাগরিকত্বের বৈধ নথি থাকা সত্ত্বেও গত বছরের ১৭ জুন দিল্লির বাঙালি পাড়ার রোহিনী এলাকা থেকে তাদের গ্রেপ্তার করে দিল্লি পুলিশ। শুধু বাংলা ভাষায় কথা বলার জন্য তাদের বাংলাদেশি বলে সন্দেহ করা হয়েছিল। সেই সন্দেহের বশে ২৬ জুন (মতান্তরে ২৫ জুন) আসামের ভারত-বাংলাদেশ সীমান্ত দিয়ে তাদের বাংলাদেশে পুশইন করে পাঠানো হয়।
সেই সময় সোনালি বিবি অন্তঃসত্ত্বা ছিলেন। পুশইনের পর বাংলাদেশের চাঁপাইনবাবগঞ্জের পুলিশ তাদের অনুপ্রবেশকারী হিসেবে আটক করে এবং মামলা রুজু করে। এরপর ১০০ দিনেরও বেশি সময় তারা স্থানীয় সংশোধনাগারে বন্দি ছিলেন। পরে তাদের পরিবার তাদের ফেরত পাঠানোর জন্য আদালতে মামলা দায়ের করলে সেই মামলা ভারতের শীর্ষ আদালত পর্যন্ত গড়ায়।
দেশটির সুপ্রিম কোর্ট স্পষ্ট করে দেয়, যেহেতু অন্তঃসত্ত্বা সোনালি বিবিকে দিল্লি থেকে তুলে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল, তাই তাকে ও তার সন্তানকে দিল্লিতে ফিরিয়ে আনা হবে। দেশব্যাপী তীব্র সমালোচনার মুখে পড়ে গত ২০২৫ সালের ৫ ডিসেম্বর মালদার মহদিপুর সীমান্ত দিয়ে সোনালী বিবি ও তার সন্তানকে ফেরত পাঠানো হয়। সোনালী বিবির ভারতে ফেরার প্রায় সাত মাস পর এবার তার স্বামী ও প্রতিবেশী পরিবারের সদস্যরা দেশে ফিরলেন।
অভিযোগে বলা হয়েছে, বিজেপি সরকার ক্ষমতায় আসতে পুশইনের শিকার হন এই চারজন। বুধবার বাংলাদেশ থেকে ওই একই সীমান্ত দিয়ে ফেরত পাঠানো হলো সোনালী বিবির স্বামী দানেশ শেখ, সোনালী বিবির প্রতিবেশী সুইটি বিবি (৩৩) এবং তার দুই নাবালক সন্তানকে।




