মাটির ৪৬ ফুট নিচে ফেরাউনের সমাধি, দর্শনার্থীদের ভিড়

প্রাচীন মিশরের অন্যতম ক্ষমতাধর শাসক ফেরাউন আমেনহোটেপ তৃতীয়ের ৩ হাজার ৪০০ বছর পুরোনো সমাধিটি দুই দশকেরও বেশি সময় পর আবারও দর্শনার্থীদের জন্য উন্মুক্ত করেছে মিশর। লাক্সরের বিখ্যাত ‘ভ্যালি অব দ্য কিংসে’ অবস্থিত এই সমাধিতে এখন দর্শনার্থীরা মাটির ৪৬ ফুট নিচে প্রবেশ করতে পারবেন।
অষ্টাদশ রাজবংশের শাসক আমেনহোটেপ তৃতীয় খ্রিস্টপূর্ব আনুমানিক ১৩৯০ থেকে ১৩৫০ সাল পর্যন্ত প্রায় ৩৮ বছর রাজত্ব করেন। তার শাসনামলকে প্রাচীন মিশরের স্বর্ণযুগের অন্যতম অধ্যায় হিসেবে বিবেচনা করা হয়। লাক্সরের বিখ্যাত ‘কলোসাই অব মেমনন’ তার শাসনামলেরই এক অনন্য স্মৃতিচিহ্ন।
ঐতিহাসিক এই সমাধিটি প্রথম ১৭৯৯ সালে ফরাসি প্রকৌশলীরা শনাক্ত করেন। পরবর্তীতে ১৯১৫ সালে ব্রিটিশ প্রত্নতত্ত্ববিদ হাওয়ার্ড কার্টার এখানে পূর্ণাঙ্গ খননকাজ পরিচালনা করেন। তবে কার্টারের খননকাজের আগেই লুটেরারা সমাধির মূল্যবান ধনসম্পদ লুটে নেয়।
ধনরত্ন না থাকলেও সমাধির দেওয়ালে অঙ্কিত রঙিন চিত্রকর্ম, হায়ারোগ্লিফিক লিপি এবং ‘বুক অব দ্য ডেড’-এর ধর্মীয় প্রাচীন লেখাগুলো এখনো চমৎকারভাবে অক্ষত রয়েছে। ২০০১ থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত তিন ধাপে মিশর, জাপান ও আন্তর্জাতিক বিশেষজ্ঞদের যৌথ প্রচেষ্টায় সমাধিটির দীর্ঘ সংরক্ষণ ও সংস্কারকাজ সম্পন্ন হয়।

প্রায় ৩৬ মিটার দীর্ঘ একটি ঢালু পথ দিয়ে এই সমাধির তিনটি কক্ষে পৌঁছানো যায়। এর মধ্যে একটি কক্ষ ফেরাউন আমেনহোটেপ তৃতীয়ের এবং অপর দুটি কক্ষ তার রানি তিয়ে ও সিতামুনের জন্য নির্মিত হয়েছিল।
তবে এই ফেরাউনের মমি বর্তমানে সেখানে নেই। সুরক্ষার কারণে প্রাচীনকালেই এটি মূল সমাধি থেকে অন্যত্র সরিয়ে নেওয়া হয়েছিল। বর্তমানে তার মমিটি কায়রোর ‘ন্যাশনাল মিউজিয়াম অব ইজিপশিয়ান সিভিলাইজেশনে’ অন্যান্য রাজকীয় মমির সঙ্গে সংরক্ষিত রয়েছে।
মিশরের পর্যটন ও প্রত্নতত্ত্ব মন্ত্রণালয় আশা করছে, ভ্যালি অব দ্য কিংসে এই ঐতিহাসিক সমাধিটি পুনরায় উন্মুক্ত হওয়া এবং গ্র্যান্ড ইজিপশিয়ান মিউজিয়াম চালু হওয়ার ফলে দেশটিতে আন্তর্জাতিক পর্যটকের সংখ্যা আরও বৃদ্ধি পাবে।





